অনেককেই দেখি খুব কষ্টের মাঝে থাকলে বেদনা বিধুর গদ্য-পদ্য লিখে একাকার করে ফেলেন। হয়তো চোখের পানিতে ভাসিয়ে কাছের মানুষদের সাথে শেয়ার করেন, কেউ হয়তো আপনাকে সহানুভূতি দেখান, সান্ত্বনার কথা বলেন আবার কেউ হয়তো মনে মনে বিরক্ত হন। আসলে আপনার কষ্ট দূর করার বিন্দু মাত্র ক্ষমতা এই পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির নেই ।
কিন্তু সবচেয়ে কাছের যিনি, যিনি কখনো বিরক্ত হননা, যিনি আপনার অন্তর-বাহিরের সর্বশ্রোতা, যিনি আপনার সকল আবদার পূরনে সক্ষম, একবারও কি স্মরণ করেছেন সেই আসীম পরাক্রমশালী দয়ালু সত্ত্বার কথা, যিনি একমাত্র পারেন আপনার সকল ব্যথা-বেদনা দূর করে দিতে? কখনো কি সে সত্ত্বার কাছে দু’ফোঁটা চোখের জল ফেলে আপনার কষ্টের কথা বলেছেন, ক্ষমা চেয়েছেন?
আপনার দুঃখ কষ্ট নিয়ে হয়ত কত রাতের পর রাত জেগে কবিতা-গল্প লিখে কাটিয়েছেন, মনের শান্তি পাওয়ার জন্য মিউজিক শুনে, মুভি দেখে হয়তো কতো রাত ভোর হয়ে গেছে আপনার। কিন্তু সেই রাতে মহান আল্লাহ্র জন্য একবারও কি সিজদাবনত হয়েছেন?
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের রব আল্লাহ তা‘আলা প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন ও বলতে থাকেনঃ কে আছ আমার কাছে দু‘আ করবে আমি কবুল করব। কে আছ আমার কাছে চাইবে আমি দান করব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব।(বুখারী ও মুসলিম)
মহান আল্লাহ্ পাক বলেনঃ
“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন”। [সূরা ইসরা: (৭৯)]
আপনার কাছে কষ্টগুলো হয়তো অনেক ভারী আর অসহ্য মনে হতে পারে। কিন্তু দেখুন দয়ালু আল্লাহ্ পাক বলেছেনঃ “আল্লাহ কারোর ওপর তার সামর্থের অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা চাপান না। প্রত্যেক ব্যক্তি যে নেকী উপার্জন করেছে তার ফল তার নিজেরই জন্য এবং যে গোনাহ সে অর্জন করেছে, তার প্রতিফলও তারই উপর বর্তাবে।“ - (আল বাকারাহঃ ২৮৬)
তিনি আরও বলেছেনঃ
(হে ঈমানদারগণ, তোমরা এভাবে দোয়া চাওঃ) হে আমাদের রব! ভুল-ভ্রান্তিতে আমরা যেসব গোনাহ করে বসি, তুমি সেগুলো পাকড়াও করো না। হে প্রভু! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না, যা তুমি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলে। হে আমাদের প্রতিপালক! যে বোঝা বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই, তা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ো না। আমাদের প্রতি কোমল হও, আমাদের অপরাধ ক্ষমা করো এবং আমাদের প্রতি করুণা করো। তুমি আমাদের অভিভাবক। কাফেরদের মোকাবিলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো। (আল বাকারাহঃ২৮৬)
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। অবশ্যই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।”- (সূরা আল-ইনশিরাহ:৫-৬)
আপনি যদি দ্বিধান্বিত হন যে আপনার পাপ অনেক বেশি কি করে এর ক্ষমা হবে, তবে জেনে রাখুন গুনাহ যত বড় হোক না কেন, আল্লাহর রহমত ও দয়া তার চেয়ে অনেক বড়। আল্লাহ তা’আলা সব ধরনের পাপকেই ক্ষমা করবেন যদি তিনি চান।
তিনি বলেছেনঃ “বলে দাও যে, [আল্লাহ বলেন] হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছো, তোমরা আল্লাহ তা’আলার রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ [অতীতের] সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করবেন; নিশ্চয়ই তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, দয়ালু। (আয যুমারঃ ৫৩)
তবে আর দেরি কেন, স্মরণ করুন মহান আল্লাহ্ প্রতি, সেজদায় লুটিয়ে পড়ুন তাঁর প্রতি আর সাহায্য প্রার্থনা করুন একমনে। এরপর অপেক্ষা করুন আর দেখুন কিভাবে মহান আল্লাহ্ আপনাকে এর প্রতিদান দেন যা আপনি হয়তো কখনো কল্পনাও করেননি।
মহান আল্লাহ্ পাক আমদের সকলকে ক্ষমা করুন আর আমাদের সকল কষ্ট দূর করে দিন, আমীন।।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





