somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আসিফ বিন হোসেন
গান শুনতে ভালবাসি কিন্তু গান গাইলে সবাই পালায়। প্রেম করি কিন্তু প্রেমিকা নাই। লেখালেখি করি কিন্তু পাঠক নাই। আমি আছি কিন্তু কেউ নাই...

আমাদের বাচ্চারা ও শিক্ষা

০৩ রা জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ভারী বস্তা আমি কখনওই উপরে ওঠাতে পারব না, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিচের থেকে ধাক্কা দিয়ে সাহায্য করবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা এই রকমই। বাচ্চাটা সবে মাত্র জন্মালো, তাকে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ না দিয়ে কয়েক কেজির একটা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দেই। ব্যাগের ভারে তার কাঁধ নুয়ে যায়।

বিদেশে স্কুল পড়াশোনাটা কিছুটা আলাদা। ওখানে অবশ্যই আমাদের মতো প্রথম সেমিস্টার, দ্বিতীয় সেমিস্টার সবশেষে ফাইনাল সেমিস্টার টাইপের পরীক্ষা গুলো হয়। কিন্তু ওখানে পরীক্ষা সিস্টেমটা হল, একটা বইয়ের যে কটা চাপ্টার প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সেগুলো আর ফাইনাল পরীক্ষায় নেওয়া হয় না। মানে, প্রথম সেমিস্টারে একটু, দ্বিতীয় সেমিস্টার একটু, ফাইনাল সেমিস্টার একটু করে পুরো বইয়ের জ্ঞান স্টুডেন্টের মাঝে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আমাদের দেশে, প্রথম সেমিস্টার বইয়ের অর্ধেক, দ্বিতীয় সেমিস্টার বাকী অর্ধেক আর ফাইনালে পুরো বই! বছর শেষে পুরো বইয়ের ভারী চাপ মাথার উপর পড়ে। এই চাপকে কেন্দ্র করে হয় শিক্ষার ব্যবসা, বিক্রি হয় নোট পর নোট, গাইড বিক্রির কমিশন যায় সরকারী কর্মকর্তাদের পকেটে। শিক্ষকরা বলে, বসায় পড়তে না আসলে পাশ করবি না। বাবা-মার টেনশন।
এই সূক্ষ্ম একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে কত হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় প্রতিবছর। কিন্তু ধ্বংস হয় বাচ্চা গুলোর ভবিষ্যত।

বাচ্চাদের মস্তিষ্ক হল পানির মতো। যে পাত্রে ঢালবেন, সেই আকার ধারণ করবে। যা শেখাবেন আপনি, আপনার সন্তান তাই শিখবে। শুধুমাত্র আপনার একটু সাহায্য দরকার, একটু। নিচের থেকে একটু ধাক্কা দিন। বাচ্চারাই পুরো পৃথিবী জয় করে নিবে।

বিদেশী শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা-মা কখনওই আমাকে বোঝার চেষ্টা করেনি। তবে তাঁদের কখনও কষ্ট দেইনি। যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করব। কিন্তু আমি আমার সন্তানদের সাথে এমনটা করব না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫০
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×