একটা ভারী বস্তা আমি কখনওই উপরে ওঠাতে পারব না, যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিচের থেকে ধাক্কা দিয়ে সাহায্য করবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা এই রকমই। বাচ্চাটা সবে মাত্র জন্মালো, তাকে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ না দিয়ে কয়েক কেজির একটা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দেই। ব্যাগের ভারে তার কাঁধ নুয়ে যায়।
বিদেশে স্কুল পড়াশোনাটা কিছুটা আলাদা। ওখানে অবশ্যই আমাদের মতো প্রথম সেমিস্টার, দ্বিতীয় সেমিস্টার সবশেষে ফাইনাল সেমিস্টার টাইপের পরীক্ষা গুলো হয়। কিন্তু ওখানে পরীক্ষা সিস্টেমটা হল, একটা বইয়ের যে কটা চাপ্টার প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সেগুলো আর ফাইনাল পরীক্ষায় নেওয়া হয় না। মানে, প্রথম সেমিস্টারে একটু, দ্বিতীয় সেমিস্টার একটু, ফাইনাল সেমিস্টার একটু করে পুরো বইয়ের জ্ঞান স্টুডেন্টের মাঝে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আমাদের দেশে, প্রথম সেমিস্টার বইয়ের অর্ধেক, দ্বিতীয় সেমিস্টার বাকী অর্ধেক আর ফাইনালে পুরো বই! বছর শেষে পুরো বইয়ের ভারী চাপ মাথার উপর পড়ে। এই চাপকে কেন্দ্র করে হয় শিক্ষার ব্যবসা, বিক্রি হয় নোট পর নোট, গাইড বিক্রির কমিশন যায় সরকারী কর্মকর্তাদের পকেটে। শিক্ষকরা বলে, বসায় পড়তে না আসলে পাশ করবি না। বাবা-মার টেনশন।
এই সূক্ষ্ম একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে কত হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয় প্রতিবছর। কিন্তু ধ্বংস হয় বাচ্চা গুলোর ভবিষ্যত।
বাচ্চাদের মস্তিষ্ক হল পানির মতো। যে পাত্রে ঢালবেন, সেই আকার ধারণ করবে। যা শেখাবেন আপনি, আপনার সন্তান তাই শিখবে। শুধুমাত্র আপনার একটু সাহায্য দরকার, একটু। নিচের থেকে একটু ধাক্কা দিন। বাচ্চারাই পুরো পৃথিবী জয় করে নিবে।
বিদেশী শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরে কিছু বলার চেষ্টা করেছি। আমার বাবা-মা কখনওই আমাকে বোঝার চেষ্টা করেনি। তবে তাঁদের কখনও কষ্ট দেইনি। যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি, চেষ্টা করব। কিন্তু আমি আমার সন্তানদের সাথে এমনটা করব না।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



