কিন্তু প্রাণীর ছবি হলে আর তাতে এতক্ষন বর্ণিত ভাবধারার আশংকা না থাকলে--[ইটালিক]শ্রদ্ধা ভক্তি, সম্মান ও পবিত্রতার ভাবধারা জাগানোর ছবি না হলে এবং তাতে আল্লাহর সৃষ্টিশক্তির সাথে সাদৃশ্যকরণ উদ্দেশ্য না হলে তা অন্যায় নয়, হারাম নয়[/ইটালিক]।
নিচের হাদীস থেকে তার সমর্থন পাওয়া যায়:
"আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা) বলেছেন, ফেরেশতা এমন ঘরে প্রবেশ করে না যেখানে ছবি আছে। বুসর বলেছেন, 'পরে যায়েদ অসুস্থ হলে আমরা তাকে দেখতে গেলাম। দেখলাম, তার ঘরের দরজায় ঝুলান পর্দায় ছবি আছে। রাসুলের স্ত্রী মায়মুনা (আ) এর আশ্রিত উবাহদুল্লাহ খাওলানীকে জিজ্ঞাসা করলাম, যায়েদ ছবি সম্পর্কে প্রথম দিন আমাদের কি বলেছিলেন? উবাহদুল্লাহ জবাব দিলেন, কেন আপনি তার পরবর্তী ব্যতীক্রম শর্ত জুড়ে দেওয়া শুনেননি: কাপড়ে অংকিত হলে দোষ নেই।" (মুসলিম)
"উতবা থেকে বর্ণিত, তিনি আবু তালহা আনসারীকে দেখতে গেলেন। সেখানে তিনি সহল ইবনে হানীফকে দেখতে পেলেন। আবু তালহা এক লোককে বললেন, নিচ থেকে বিছানাটি বের করে আন। এ কথা শুনে সহল বললেন, ওটা কেন বের করে নিচ্ছ? তিনি বললেন, এজন্য যে ওতে ছবি আছে। আর রাসুল (সা) ছবি সম্পর্কে কি বলেছেন, তাতো আপনার জানাই আছে। সহল বললেন, তিনি এও বলেছেন, 'কাপড়ে অাঁকা হলে দোষ নেই'। আবু তালহা বললেন, 'ঠিকই বলেছেন, কিন্তু ওটা সরিয়ে দেয়াই ভাল'।" (তিরমিজী)
এ দুটো হাদীস থেকে কি প্রমাণিত হয় না যে, হারাম ছবি বলতে প্রতিকৃতি বা স্ট্যাচু বোঝায়? কিন্তু যেসব ছবি কাষ্ঠফলক, তক্তা বা শক্ত কাগজ বা কাপড়, বিছানা বা দেয়ালের উপর অাঁকা হয়, সেগুলো হারাম তা কোন সহীহ স্পষ্ট ও অকাট্য হাদীস থেকে প্রমাণিত নয়।
তবে সহীহ হাদীস থেকে এ কথা প্রমাণিত যে, নবী করিম (সা) এ ধরণের ছবির প্রতি বিরক্তি প্রদর্শন করেছেন। কেননা তাতে [ইটালিক]বিলাসিতা ও বৈষয়িক স্বার্থপূজার সাথে পূর্ণ সাদৃশ্য ও একাত্মতা লক্ষ করা যায়[/ইটালিক]।
আবু তালহা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা) কে বলতে শুনেছি, "যে ঘরে কুকুর বা প্রতিকৃতি আছে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করবে না।"
তিনি বলেন, "পরে আমি হযরত আয়েশা (রা) কে এ ব্যপারে জিজ্ঞাসা করলাম। এ লোকটি বলছেন, রাসুল (সা) নাকি বলেছেন যে, যে ঘরে কুকুর বা প্রতিকৃতি থাকবে সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করবে না? আপনি কি শুনেছেন রাসুল (সা) ওমন কথা বলেছেন?
আয়েশা (রা) বলেন, না। তবে আমি নিজে তাকে যা যা করতে দেখেছি তা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। রাসুল (সা) যুদ্ধে বের হয়ে গেলেন। তখন একটা চাদর দিয়ে দরজায় পর্দা লাগালাম। তিনি ফিরে এসে দরজায় সেই চাদর ঝুলতে দেখলেন। তাঁর চেহারায় অস্বস্তি ও বিরক্তির ভাব প্রকট হয়ে উঠল। পরে তিনি চাদরটি টেনে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: আল্লাহ আমাদের পাথর ও মাটি কাপড় দিয়ে সাজানোর নির্দেশ দেননি। আয়েশা (রা) বলেন, আমি সে কাপড় দিয়ে দু'টো বালিশ বানালাম এবং তাতে খেজুর গাছের ছাল ভরে দিলাম। এ ব্যপারে রাসুল (সা) কোন আপত্তি করেননি।
এ হাদিস থেকে প্রমানিত হয়, দেয়াল ইত্যাকি ছবিযুক্ত কাপড় দ্বারা সাজানো অপছন্দনীয় বটে, কিন্তু হারাম নয়। ইমাম নববী লিখেছেন:
"হাদীসটিতে এমন কোন কথা নেই, যা হারাম প্রমান করে। কেননা হাদিসের কথা 'আল্লাহ' আমাদের এর নির্দেশ দেননি' কথাটি দ্বারা না ওয়াজিব প্রমানিত হয়, না মুস্তাহাব। আর হারামও প্রমাণিত হয় না।"
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসেও এরকম কথা জানা যায়। হাদিসটি হচেছ:
"আমার একটা পর্দার কাপড় ছিল। তার উপরে পাখির ছবি অাঁকা ছিল। কেউ ঘরে প্রবেশ করতে গেলে সেটা তার চোখে পড়ত। এই দেখে রাসুল (সা) বললেন, ওটা সরিয়ে রাখ। কারণ আমি যখন ঘরে ঢুকি, তখন ওটার উপর আমার দৃষ্টি পরে ও দুনিয়া চোখের সামনে ভেসে উঠে।" (মুসলিম)
রাসুল (সা) পর্দার কাপড়টি ছিঁড়ে ফেলতে বলেন নি, সরিয়ে নিতে বলেছেন। এ কারণে [ইটালিক]যে সব জিনিস বৈষয়িকতা ও বৈষয়িক জাঁকজমক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দৃশ্য স্মরক করিয়ে দেয়, তার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি করে রাসুল (সা) এমন ছবি নিজের চোখের সামনে রাখা ও দেখা পছন্দ করতেন না।[/ইটালিক] বিশেষ করে এই জন্য যে, তিনি সুন্নত ও নফল নামায সাধারণত নিজের ঘরেই পড়তেন। উপরোক্ত ধরণের ছবি ও প্রতিকৃতি সম্বলিত চাদর ও পর্দা মানুষকে নিজেদের প্রতি নিরন্তর আকর্ষণ করতে থাকে। তার প্রভাবে আল্লাহর প্রতি ঐকান্তিক নতি স্বীকার ও একনিষ্ঠভাবে প্রার্থনা মুনাজাতে নিমগ্ন হওয়া অনেকটা ব্যহত হয়। আনাস (রা) বলেছেন:
"হযরত আয়েশা (রা) এর কাছে একটি পর্দার কাপড় ছিল। সেটা তিনি ঘরের একদিকে লাগিয়ে রাখতেন। রাসুল (সা) তাঁকে বললেন, 'ওটাকে সরিয়ে রাখ, কারণ ওটার অাঁকা ছবিগুলো নামাযে আমার সামনে পড়ে'।" (বুখারী)
এ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, একটি পাখি ও অন্যান্য ছবি সম্বলিত কাপড় মুহাম্মদ (সা) সহ্য করেছিলেন, সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার নির্দেশ দেন নি।
(অনেকাংশে পুনরাবৃত্তি মনে হওয়ায় আমি সেগুলো বাদ রেখেছি। এটি ইউসুফ আল কারাযাভীর 'ইসলামে হালাল হারামের বিধান' এর 'বিদেহী ছবি ও প্রতিকৃতি' অধ্যায়ের অংশ। আগ্রহী পাঠকগণ এই পুরো অধ্যায়টুকু ইংরেজিতে পাবেন [link|http://www.witness-pioneer.org/vil/Books/Q_LP/ch2s3pre.htm#Paintings%20and%20One-Dimensional%20Ornaments/|GLv
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




