তখনই 'মুড' কথাটা প্রথম শুনলাম। শেষ মেষ আমার মা জননী ওকে কয়েক দিনের জন্য আমাদের বাসায় উঠতে বলল। মুড আনার জন্য যা লাগবে পাবে। কিন্তু কাজ শেষ করতে হবে। এস এম হলের বিশাল বাসার এক প্রান্তের বিচ্ছিন্ন ঘরটা ওর জন্য পরিষ্কার করে দেয়া হল। ওখানে গেলেই অন্য জগৎ। সারাক্ষণ ধোঁয়ায় ধোঁয়াময়। ক্যাসেটে এক টাকলু ব্যাটা গলা ফাঁটায় চিৎকার করে যাচ্ছে অবিরত, 'আমি কষ্ট পেতে ভালবাসি...', এক পাশে একটা গিটার খাড়া করে রাখা। সারা ঘরে রং, তুলি, কাগজ আর কাপড় চোপড়ের ছড়াছড়ি। আর ভাইয়ার ঠোঁটে সারাক্ষণ একটা সিগারেট ঝুলছে। কাপড় চোপড়ও অদ্ভূত, হয় খালি গায়ে, নইলে ঢিলা ঢালা চেক শার্টের সাথে টাইট জিনস। টাইট মানে যেন তেন রকমের টাইট না, যে দেখত তারই কষ্ট হত ওই খাঁচার ভিতরের মানুষটার জন্য। আহারে... নি:শ্বাস নিতে পারার কথা না। হাঁটা চলায় অস্বাচ্ছন্দ্য স্পষ্ট। মনে হতে পারে কাপড়ে কম পড়ায় দর্জি কিপ্টামি করেছে, কিন্তু মুশকিল হল পায়ের পাতার নিচে প্যান্টের অন্তত: এক বিঘত অংশ থাকত, পাশে কম দিয়ে ওদিকে দিয়ে দিয়েছে। আরও বিচ্ছিরি ব্যপার, এখানে সেখানে একশ ছেঁড়া। ভাবলাম, পুরান হয়ে গেছে বলে ছিঁড়েছে। ওমা, একদিন দেখি ভাইয়া ব্ল্লেড দিয়ে আস্তে আস্তে নতুন জায়গায় ছিঁড়ছে! রঙেরও কোন ছিরি নাই। এখানে হালকা তো ওখানে গাঢ়। ময়লা! এমন জিনিস মানুষ পরে কেমনে বুঝতাম না, কেউ মন্তব্য করলে ও ভীষণ বিরক্ত হত, 'এটাই এখন ফ্যাশন বুঝলা?' আমার নতুন চোখ খুলল, ওই ফ্যাশনেবল বস্তুটাই জিনস!
'ফ্যাশন' শব্দটা তখনই শুনেছি প্রথম। তারপরেই খেয়াল করে দেখলাম রাস্তাঘাটে 'ফ্যাশন' করা ছেলেদের অভাব নেই। একশ তালির ময়লা ঘিন ঘিনে চিপা জিনস পড়ে কুতিয়ে কুতিয়ে হাঁটছে বেপরোয়া চেহারার ছেলেগুলো। মাঝে মাঝে কি ঢঙে মাথা ঝাঁকিয়ে কপালের চুল গুলো পিছনে সরায়। বাব্বাহ, এই যদি হয় জিনস, আমি ত্রিসীমানায় যেতে চাই না জিনসের!
অথচ এসে গেলাম জিনসের ত্রিসীমানা, দ্্বিসীমানা সব সীমানায়! এসে গেলাম যখন বুঝলাম কি ফাটাফাটি একটা বস্তু এই জিনস। আশির দশকের কতগুলো মাথা খারাপ ডিজাইনারের পাল্লায় পড়ে এই চমৎকার বস্তুটার মান সম্মান সব ধ্বংশ করার কি ঘৃণ্য, কুটিল ষড়যন্ত্র চলছিল! বাংলাদেশে মানুষগুলো আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে জিনসের ইমেজটা এতই খারাপ করল যে উপরের দুর্গন্ধ সরিয়ে আরামদায়ক ফাটাফাটি জিনিসটা আবিষ্কার করতে সময়ই লেগেছে...
জিনস তো শুধুই কাপড়টুকু। জিনস বা ডেনিম। যে কোন কিছু বানানো যায় এই পোক্ত কাপড় দিয়ে। সহজে নষ্ট হয় না, ছিঁড়ে না বলে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করা যায়। উপাদানের একটু হেরফের করে খুব শক্ত বা ভীষণ নরম আরামদায়ক জিনস বানানো সম্ভব। জিনস নিয়ে গবেষণা কম হয় নি। আগ্রহী পাঠকগণ এই [link|http://www.jeans-and-accessories.com/history-of-blue-jeans.html/| e
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




