somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিনের জন্য জিনস

০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জিনসের সাথে আমার পরিচয় পর্বটা সুখকর হয় নি মোটেই। প্রথম পরতে দেখেছি হিমেল ভাইয়াকে। আমি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়তাম আর ও চারুকলায়। হেভি আর্টিস্ট আর্টিস্ট ভাব নিত। মায়ের একটা বইয়ে অলংকরণের প্রজেক্ট নিয়েছে হাতে, কিন্তু ডেড লাইন আর আসে না, খালি পিছায়। আর্টিস্ট বলে কথা, আলাভোলা মানুষ। মা চেপে ধরলেই বলত, খালামনি, এগুলার জন্য মুড লাগে বুঝছ, সব সময় তো মুড আসে না!

তখনই 'মুড' কথাটা প্রথম শুনলাম। শেষ মেষ আমার মা জননী ওকে কয়েক দিনের জন্য আমাদের বাসায় উঠতে বলল। মুড আনার জন্য যা লাগবে পাবে। কিন্তু কাজ শেষ করতে হবে। এস এম হলের বিশাল বাসার এক প্রান্তের বিচ্ছিন্ন ঘরটা ওর জন্য পরিষ্কার করে দেয়া হল। ওখানে গেলেই অন্য জগৎ। সারাক্ষণ ধোঁয়ায় ধোঁয়াময়। ক্যাসেটে এক টাকলু ব্যাটা গলা ফাঁটায় চিৎকার করে যাচ্ছে অবিরত, 'আমি কষ্ট পেতে ভালবাসি...', এক পাশে একটা গিটার খাড়া করে রাখা। সারা ঘরে রং, তুলি, কাগজ আর কাপড় চোপড়ের ছড়াছড়ি। আর ভাইয়ার ঠোঁটে সারাক্ষণ একটা সিগারেট ঝুলছে। কাপড় চোপড়ও অদ্ভূত, হয় খালি গায়ে, নইলে ঢিলা ঢালা চেক শার্টের সাথে টাইট জিনস। টাইট মানে যেন তেন রকমের টাইট না, যে দেখত তারই কষ্ট হত ওই খাঁচার ভিতরের মানুষটার জন্য। আহারে... নি:শ্বাস নিতে পারার কথা না। হাঁটা চলায় অস্বাচ্ছন্দ্য স্পষ্ট। মনে হতে পারে কাপড়ে কম পড়ায় দর্জি কিপ্টামি করেছে, কিন্তু মুশকিল হল পায়ের পাতার নিচে প্যান্টের অন্তত: এক বিঘত অংশ থাকত, পাশে কম দিয়ে ওদিকে দিয়ে দিয়েছে। আরও বিচ্ছিরি ব্যপার, এখানে সেখানে একশ ছেঁড়া। ভাবলাম, পুরান হয়ে গেছে বলে ছিঁড়েছে। ওমা, একদিন দেখি ভাইয়া ব্ল্লেড দিয়ে আস্তে আস্তে নতুন জায়গায় ছিঁড়ছে! রঙেরও কোন ছিরি নাই। এখানে হালকা তো ওখানে গাঢ়। ময়লা! এমন জিনিস মানুষ পরে কেমনে বুঝতাম না, কেউ মন্তব্য করলে ও ভীষণ বিরক্ত হত, 'এটাই এখন ফ্যাশন বুঝলা?' আমার নতুন চোখ খুলল, ওই ফ্যাশনেবল বস্তুটাই জিনস!

'ফ্যাশন' শব্দটা তখনই শুনেছি প্রথম। তারপরেই খেয়াল করে দেখলাম রাস্তাঘাটে 'ফ্যাশন' করা ছেলেদের অভাব নেই। একশ তালির ময়লা ঘিন ঘিনে চিপা জিনস পড়ে কুতিয়ে কুতিয়ে হাঁটছে বেপরোয়া চেহারার ছেলেগুলো। মাঝে মাঝে কি ঢঙে মাথা ঝাঁকিয়ে কপালের চুল গুলো পিছনে সরায়। বাব্বাহ, এই যদি হয় জিনস, আমি ত্রিসীমানায় যেতে চাই না জিনসের!

অথচ এসে গেলাম জিনসের ত্রিসীমানা, দ্্বিসীমানা সব সীমানায়! এসে গেলাম যখন বুঝলাম কি ফাটাফাটি একটা বস্তু এই জিনস। আশির দশকের কতগুলো মাথা খারাপ ডিজাইনারের পাল্লায় পড়ে এই চমৎকার বস্তুটার মান সম্মান সব ধ্বংশ করার কি ঘৃণ্য, কুটিল ষড়যন্ত্র চলছিল! বাংলাদেশে মানুষগুলো আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে জিনসের ইমেজটা এতই খারাপ করল যে উপরের দুর্গন্ধ সরিয়ে আরামদায়ক ফাটাফাটি জিনিসটা আবিষ্কার করতে সময়ই লেগেছে...

জিনস তো শুধুই কাপড়টুকু। জিনস বা ডেনিম। যে কোন কিছু বানানো যায় এই পোক্ত কাপড় দিয়ে। সহজে নষ্ট হয় না, ছিঁড়ে না বলে যাচ্ছেতাই ভাবে ব্যবহার করা যায়। উপাদানের একটু হেরফের করে খুব শক্ত বা ভীষণ নরম আরামদায়ক জিনস বানানো সম্ভব। জিনস নিয়ে গবেষণা কম হয় নি। আগ্রহী পাঠকগণ এই [link|http://www.jeans-and-accessories.com/history-of-blue-jeans.html/| e
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×