
ক'দিন বাদেই ইদুল আদ্বহা বা কুরবানির ইদ। নানান দেশে এর ভিন্ন ভিন্ন নাম যেমন- বকরা ঈদ,ঈদুন নাহর ইত্যাদি নাম দেখা যায়।
'কুরবান' মানে কী?
ত্যাগ করা,উৎসর্গ করা ইত্যাদি। আবার 'কারিবুন' মূল ধরলে অর্থ হয় নিকটবর্তী হওয়া। 'আদ্বহা' শব্দের অর্থ - রক্ত প্রবাহিত করা। মোদ্দাকথা- ত্যাগের মাধ্যমে, হালাল পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার নামই কোরবানি। কুরবানির ইতিহাসের সাথে মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আ. এবং তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল আ. এর পবিত্র নাম মিশে আছে। আল্লাহর রাস্তায় প্রিয় পুত্রকে উৎসর্গ করার স্মৃতিচিহ্ন এই কুরবানি।
পশু জবাই করার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। আল্লাহর বাণী-
"এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া।-হাজ্জ:৩৭"
তাই লোক দেখানোর জন্য বিশাল গরু কিংবা 'মরুর জাহাজ' কুরবানি করার মধ্যে কোন ফায়দা নেই।
এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে,কারো সাথে দেখা হলে কেমন আছি সেটা জানতে না চেয়ে জানতে চায় "গরু কত দিয়ে কিনেছি?" আবার ফ্রিজ কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপনের ধরন-ই দেখুন না। মনে হয় কুরবানি মানেই ফ্রিজ ভর্তি করা!
কিংবা ফেবুতেই দেখুন গরুর সাথে দাঁত বের করে সেলফি,ক্যপশনে লেখা "এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকায় কিনলাম, কেমন হলো?" কারো কারো আরো দু'লাইনও যোগ হয়- "গত বছরেরটা এক লাখ চল্লিশ হাজার ছিলো,এবারেররটা একটু কম হয়ে গেলো।"(এক্কেবারে বিগত বছরের প্রচারণাও সেরে নিচ্ছে। কেউ আবার বিগত চার-পাঁচ বছরের পশুর ছবিও আপলোডাচ্ছেন)। বলুন,এই কুরবানির লাভ কি?
আম্মা গতকাল আমায় বললেন,"এখন রোজা মানে ইফতারের আইটেমের বাহদুরি, রোজার ঈদ মানে দামি পোষাকের বড়াই আর কুরবানি মানে বড় গরু কেনার প্রতিযোগিতা, কিন্তু ইবাদত কোথায়?
আম্মার প্রশ্নটা কি অযৌক্তিক ছিলো?
ভাই, ঈদ স্রেফ আনলিমিটেড মাস্তি নয়; এটা ইবাদত- একথা ভুলে যাবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




