somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রংপুরে ফেসবুক স্ট্যাটাসের জের: নিহত ১, কোনদিকে যাচ্ছি আমরা?

১০ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে আজ শুক্রবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের আটটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোতোয়ালি, গঙ্গাচড়া ও তারাগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে শটগানের গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে। এ সময় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাত পুলিশসহ ২৫ জন।

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় হাবিবুর রহমান (৩০) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১১ জন।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া এলাকার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় ৫ নভেম্বর ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ স্ট্যাটাস দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন থেকে ওই গ্রাম ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এতটুকু পত্রিকার খবর। এর আগে বি-বাড়িয়ায়ও এরকম ঘটনা ঘটে। এবার একটু বিশ্লেষণে আসি।

এখানে দুটো সম্ভাবনা আছে।
১. অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী নয়। তাকে হয়তো ফাঁসানো হয়েছে। যেমনটা হয়েছিলো রাসরাজের বেলায়।
২. অভিযুক্ত ব্যক্তি আসলেই দোষী। সে নিজেই ধর্মের অবমাননা করে পোস্ট দিয়েছিলো।

প্রথম সম্ভাবনা যদি সত্য হয়, তাহলে বিনাবিচারে অন্যের বাড়িঘর ভাংচুর করা, পুড়িয়ে দেয়া নিঃসন্দেহে জঘন্যতম অপরাধ। এক্ষেত্রে পেছনে কলকাঠি নাড়া ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া আবশ্যক।

এবার আসি দ্বিতীয় সম্ভাবনায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি আসলেই ধর্মের অবমাননা করেছিলো। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা ইসলামী আইন- যাই বলুন না কেন, কোন আইনই বিনা বিচারে কাউকে হত্যা করা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া অনুমোদন করে না। বিচার বিভাগ ছাড়া অন্য কেউ বিচার করার, শাসন বিভাগ ছাড়া অন্য কেউ রায় কার্যকর করার সুযোগ নেই।

তাহলে যারা অভিযুক্তের বাড়িসহ অারো অাটটি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন, তারা কোন আইনের বলে এ কাজ করেছেন? টিটু রায় দোষী, তার বাবা-মা কিংবা প্রতিবেশীরা? অভিযুক্ত ব্যক্তি থাকেন না'গঞ্জে, আপনারা বাড়ি পোড়ালেন রংপুরে। কেন? ধর্ম রক্ষা করতে গিয়েছিলেন? আইম ভেরি সরি টু সে, আপনি নিজেই ধর্মবিদ্ধেষী কাজ করলেন। ইসলাম আপনাকে যে অধিকার দেয়নি, আপনি সেটাই করেছেন।

আপনি ইসলামকে মহান করতে গিয়েছিলেন? আলহামদু লিল্লাহ, ইসলাম এমনিতেই মহান। তাণ্ডবলীলা চালিয়ে ইসলামের উপকার করছেন? নাহ, বরং আপনাদের জঙ্গিপনা ইসলাম বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। গুটিকয়েকের কর্মকাণ্ডে পুরো মুসলিম জাতির বদনাম হচ্ছে। একটা ইসলামী রাষ্ট্রেও অমুসলিমরা বিশেষভাবে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত। রাসুল (দ.) বলেছেন তাদেরকে হত্যাকারী জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (বুখারী:৩৮১)

বাড়িঘর পুড়ানোর আগে একবারও কি ভেবেছেন এতে কোন চক্রান্ত থাকতে পারে? গুলি খেয়ে মরার আগে একবারও কি ভেবেছেন কোন নেতার ক্ষমতার সিঁড়ি হচ্ছেন আপনি? একবারও অসহায় মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকাননি?

তো এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের কী করা উচিত? তথ্যপ্রমাণসহ তার নামে মামলা করুন। আইনের কাছে বিচার চান। প্রশাসন যদি বিচার না করে, তার জন্য তারা আল্লাহর নিকট দায়ী থাকবেন। আমরা প্রত্যেক মুসলমান বিশ্বাস করি সব মানুষ তার কর্মকাণ্ডের জন্য আল্লাহর নিকট দায়বদ্ধ।

সরকার এবং প্রশাসনের নিকট আমাদের প্রাণের দাবী- ধর্মের অবমাননা করে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আঘাতদাতা নরপিশাচদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। এতে একদিকে অপরাধীর শাস্তি হবে, অপরদিকে নিরীহ মানুষরা নির্বিচার হামলা থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি উস্কানি দিয়ে কেউ নিজের স্বার্থও হাসিল করতে পারবে না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১০:৩৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×