somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাস্তিক মুসলিম

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতোদিন ‘মডারেট মুসলিম’ নাম শুনেছি, এখন নতুন আরেক ধরণের মুসলিম চোখে পড়ছে- মাস্তিক মুসলিম! ভ্রু কুঁচকে হয়তো ভাবছেন এ আবার কেমন মুসলিম রে বাবা! চলুন তাইলে পরিচয় করিয়ে দিই।

মাস্তির বিপরীত সংযম। সেজন্য শুরু করি রোযা থেকেই। মাস্তিকরা রোযা না রাখলেও ইফতারে থাকে আইটেমের বিশাল বহর। রোযার পুণ্যি থেকে বঞ্চিত হলোইবা, কিন্তু ইফতারের স্বাদ থেকে মাহরুম হওয়ার মতো নফরমান বান্দাহ নয় এরা! আর যদি কোনক্রমে রোযা রাখেও, প্রতি মুহূর্তের ফিলিং ছবিসমেত ফেসবুকে পোস্ট হবে। ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় রোযার আগে থেকেই! ঈদের জামাতে না আসলেও অন্যদিকে ডিজে পার্টির প্রস্তুতি চলে। বিকেল থেকেই শুরু হয় পার্টি। ঈদ সেলিব্রেশন পার্টি। কেউ কেউ তো আরো কয়েকধাপ এগিয়ে। চাঁদ উঠার সাথে সাথেই নানান কিসিমের যন্ত্রসহযোগে গান বাজানো শুরু করে, এবং সেটা অবশ্যই হিন্দি গান! পরের দিন শুরু হয় সফর। খোলা ট্রাকে সাউন্স সিস্টেমে উচ্চ আওয়াজে গান বাজিয়ে পাড়া কাঁপিয়ে যাত্রা। সাথে তাণ্ডবনৃত্য! যদিও তাদের এই সফর আমাদের জন্য suffer!

এই তো গেলো রোযার ঈদ। এবার আসি কুরবানির ঈদে। কুরবানির প্রথম প্রস্তুতি শুরু হয় গরুর হাট থেকে। বিরাট গরুর সাথে বিরাট একটা গ্রুপ ছবি না হোক; অন্তত একটা সেলফি তো নেয়া চাইই চাই। এরপর গরু কিনলে সেটার মূল্য, সাথে বিগত কয়েকবছরেরটাও জানিয়ে সেলফিসমেত ফেসবুকে পোস্ট দিবে।
ফর এক্সাম্পল-

“হাই গাইজ,
কুরবানির গরু কিনলাম। ১ লাখ ৩০ হাজার। কেমন হলো? অবশ্য গতবারেরটার চেয়ে একটু বেশি দাম পড়েছে। গতবার কিনেছি ১ লাখ ২৮ হাজার দিয়ে! এর আগেরটা ১ লাখ ২০ দিয়ে।”

এবার জবাহ্'র ছবি, গরুর উপরে বসা ছবি, গোস্ত খাওয়ার ছবি সব ফেসবুকে আপলোড হবে। এরপর মৌজ মাস্তি কি বাদ যাবে? অবশ্যই না। আবার রোযার ঈদের পুনরাবৃত্তি!

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যদি এতোটা লাগামছাড়া হয়, তাহলে ধর্মে অননুমোদিত বা সম্পর্কহীন অনুষ্ঠানে এরা কেমন করে বা করবে ভাবুন তো! এদের নিউইয়ার সেলিব্রেশন দেখে পশ্চিমারও হয়তো মনের দুঃখে কেঁদে ফেলবে কিংবা হাসতে হাসতে জ্ঞান হারাবে। দুই দিনের বৈরাগী, ভাতেরে কয় অন্ন! বিজয় দিবস উদযাপন দেখলে আমার ভয় হয়- এই বুঝি শহীদেরা জিন্দা হয়ে ওদের গলা টিপে খুন করে ফেলে! ভাষা দিবস উদযাপন করা দেখলে সালাম, জাব্বার, রফিক, বরকতেরা হার্ট এ্যাটাক করতো! বাংলা নববর্ষ উদযাপন দেখলে মহামতি আকবর বলতো, “হায় খোদা! ক্যান যে এই জাতিরে নতুন পঞ্জিকা দিলাম!!!”


ভাবছেন ওরা ধর্ম কর্ম কিছু করে না? করে করে। আলবৎ করে। আপনার আমার চেয়ে বেশি করে! ফি বছর বড় বক্তা দাওয়াত দিয়ে আজিমুশ্বান মাহফিলের আয়োজন করে। বিরাট গরু ছাগলের হাট থেকে বিশাল বিশাল গরু কিনে বিরিয়ানি করে মানুষদের খাওয়ায়। তীর্থে যায়। নারী-পুরুষের ভেদাভেদ ভুলে মাইক বাজিয়ে বড় বড় ওরসগুলোতে শরীক হয়। গরু-মহিষ দান করে দো-জাহানের অশেষ নেকি হাসিল করে। ওরস আয়োজকদের পক্ষ থেকে জান্নাতের নিশ্চয়তা লাভ করে। আর কী চাই?

তবে একটা বিষয়ে আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারি- এদেরকে জুম্মা ছাড়া অন্য নামায কষ্মিনকালেও আদায় করতে নাও দেখতে পারেন। যেখানে আনন্দ ফুর্তি, সেখানেই এদের পাওয়া যাবে। ধর্ম-অধর্ম কোন ম্যাটার না।

ওহ, আরেকটা বিষয়ে বলতে ভুলে গেছি। পুজো, হোলি বা বলি; মন্দির, প্যাগোডা, চার্চ কিংবা গির্জায় ওদের অবাধ পদচারণা দেখতে পারেন। ওরা বেশ কালচার্ড আর অসাম্প্রদায়িক তো! আমরা না হয় একটু পিছিয়েই থাকলাম। তাতে এমন আর কি হাতি-ঘোড়া বয়ে গেলো!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৯:৫৭
১৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×