এমপ্লয়মেন্ট ফোকাসড লারনিং বাংলাদেশ লিমিটেড সংক্ষেপে ইএফএলবিডি একটি গবেষণা ধর্মী প্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থানমূলক শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন- এই প্রতিষ্ঠানের মূল ভিশন।
ইএফএলবিডির গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ছোট্ট একটি অফিস নিয়েছি যাত্রাবাড়ি থানাধীন ছনটেক এ। তিনটি ল্যাপটপ এবং পুরাতন দুইটি কম্পিউটার দিয়ে চলছে আমার এই অফিস। ০১ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে অফিসটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছি। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত মাশরুম প্রকল্পের সমন্বয় কাজটিও এখান থেকেই হচ্ছে।
তিনজন গবেষণা সহকারি নিয়োজিত আছে ঢাকার এই অফিসে। মূলধনের অভাবে এখনও পুরোপুরি চালু করতে পারিনি সব কার্যক্রম। তাই বিকাল চারটা থেকে শুধু সাইবার ক্যাফে চালু থাকে। পুরাতন দুইটি কম্পিউটারে ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে এটিকে সাইবার ক্যাফে হিসেবে চালু করেছি। প্রতিদিন দু'চারজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এখানে আসে। কেউ আসে মেইল চেক করার জন্য। কেউবা পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার জন্য। মাঝে মাঝে অফিসিয়াল কিছু ব্যক্তিও আসেন, শেয়ার বাজারের দরদাম জানার জন্যও অনেকে আসেন।
অফিসে ঢোকার পথেই উত্তর দক্ষিণে লম্বালম্বি একটি অপ্রশস্ত কক্ষ। সর্বোচ্চ তিনজন বসতে পারবে। আপাতত এটিই ক্যাফে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কক্ষে তিনজন বসা থাকলেই কক্ষটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীতে ঠাসা মনে হয়। গেট দিয়ে বের হওয়ার পথে মাঝে মাঝে সাইবার কক্ষে উঁকি দেই। চার পাঁচ জন কিশোর বয়সী ছেলেকে মাঝে মাঝে দেখি। ভাবি যাক, আমাদের দেশের কিশোররা ও তথ্যপ্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ওদের সাথে একদিন কথা বলতে হবে। নানান কাজে ব্যস্ত থাকি। সময় করে উঠতে পারি না তাদের সাথে কথা বলার।
---------------------------------------------------------------------------
গতকাল অফিসে বসে আছি বিকেল বেলা। ৫ টার মত বাজে। নিবিষ্ট মনে কাজ করছি। মাত্র কারেন্ট এসেছে। ইএফএলবিডি অফিসের কিছু দাপ্তরিক কাজ সারছি। হঠাৎ অফিসের ভেতরের দিকে দরজায় অর্থাৎ আমি যে রুমে বসে কাজ করি সেদিকের দরজায় করাঘাত। নিবিষ্ট মনে কাজ করার জন্য এই দরজা দিয়ে অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। বিরক্তি নিয়েই দরজা খুলি।
আংকেল ভিতরে যাব।
-কেন?
কম্পিউটারে বসব।
-এখন তো কেউ নেই। অফিসের লোকজন আসুক।
আমরা এতক্ষণ ছিলাম। কারেন্ট চলে যাওয়াতে বের হয়েছিলাম।
আচ্ছা ঠিক আছে। এসো।
আমি দরজা খুলে দেই। ওরা চার পাঁচজন একে একে আমার অফিস রুম দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে। আমি আবার আমার কাজে মগ্ন হই।
এরই মধ্যে অফিসের লোকজন চলে আসে। সাইবার ক্যাফের দরজা খুলে তাদের কাজ তারা করতে থাকে। আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। হঠাৎ করে এই কিশোরদের কথা মনে পড়ে। তাদের ডেকে আমার টেবিলের সামনে চেয়ারে বসাই। ওদের পরিচয় নেই। কার বাসা কোথায়, বাবার নাম কি এগুলো জানি। ছনটেক অগ্রদূত বিদ্যানিকেতনের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সবাই।
নেটে বসে তোমরা কি কর?
এই প্রশ্নে চমকে যায় সবাই। কেউ কোন উত্তর খুঁজে পায় না। এ ওর দিকে তাকায়। আমি অভয় দেই নিঃসন্কোচে বলার জন্য। কেউই সঠিকভাবে বলতে পারে না। জড়তা এবং সংকোচ এসে ভর করে তাদের চোখে মুখে। নিষিদ্ধ কিছু করে ধরা পড়ে গেছে এমন একটা ভাব প্রত্যেকের অবয়বে।
আমি প্রসঙ্গ পাল্টাই।
আচ্ছা তোমাদের কারও কি মেইল অ্যাড্রেস আছে?
না নেই।
আমি বিস্মিত হই। এই কিশোর বয়সী ছেলেরা নেটে বসে কী করে তা ভেবে। ক্যাফের দায়িত্বে নিয়োজিত গবেষণা সহকারীকে ডাকি। ওর কাছে জানি এরা বেশ কিছু দিন ধরেই ক্যাফেতে আসছে। গান, সিনেমা, নাটক এগুলো ডাউনলোড করে এবং পেনড্রাইভে করে নিয়ে যায়।
হায়! হায়!! বলে কী।
এই শিশুগুলো নেটে বসে শুধু এই করে! পরক্ষণেই ভাবি, নেটে বসে কীইবা করার আছে ওদের। ওদের সামনে তো কোন দিক নির্দেশনা নেই যে নেটে বসে সুনির্দিষ্ট কিছু করবে।
তাহলে কি করা যায়! ওদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিলে কেমন হয়!
ওদেরকে কম্পিউটার জগতের ধারণা দেই। কম্পিউটার শেখার আগ্রহ আছে কিনা জেনে নেই। আজ ওরা মোট ৭ জন নাম দিয়েছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য। বিকেল ৫ টায় সবাই আসবে। প্রথম দিনের সেশনটা আমি নেবো। গবেষণা সহকারীকে নির্দেশ দিয়েছি ওদের উপযোগী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একটি মডিউল তৈরি করার। কিশোর এই ছেলেগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তির্ আওতায় নিয়ে আসতে হবে সচেতন ভাবেই। তাদের সামনে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা তুলে ধরতে হবে।
ইন্টারনেট হচ্ছে তথ্যের মহাসমুদ্র। দিক জানা না থাকলে এই মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খেতে হবে। অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ১২/১৩ বছরের এই শিশু-কিশোররা আমাদের ভবিষ্যত। এখনই এদেরকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হাতে নিতে হবে। আমি শুরু করে দিতে চাই আজই। বিকেল ৫ টায় ওরা আসবে অফিসে। ওদের জন্য ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। অফিসের গবেষণা সহকারীদের দ্বারাই কম্পিউটারের প্রাথমিক ধারণাটুকু দেওয়া সম্ভব। প্রশিক্ষণার্থীদের আগ্রহ অনুযায়ী কর্মকাণ্ড বাড়ানো যাবে। এদের মাধ্যমেই তথ্যপ্রযুক্তির সুফল ছড়িয়ে দিতে চাই অন্যান্যদের কাছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পরিপূর্ণভাবে শুরু করতে কিছু অর্থ লাগবে এই মুহূর্তে ।
আপনারা কেউ আমার এই প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হতে চাইলে যোগযোগ করতে পারেন- ৭৫৫৪৬৭৩ এই নাম্বারে। আপনাদের পরামর্শ এবং মতামত আমাকে প্রেরণা যোগাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


