এই জীবনে আপনি কোন দিন শুনেছেন বা দেখেছেন যে একজন মা তার ৪ সন্তানকে সারা বছর রান্না করে না খাইয়ে পালা করে খাইয়েছে? মানে হল, যে মা তার ৪ সন্তানের প্রত্যেককে ৩ মাস করে মোট ১২ মাস খাইয়েছেন।
আচ্ছা এটা বাদ দেন, কোনদিন কোন বাবাকে কি বলতে শুনেছেন যে, আমি তোদের খাওয়ানোর টাকা যোগাড় করতে করতে ক্লান্ত? অথবা এটা দেখেছেন কোন বাবা বলেছে, এখন আমরা যে বাসাটাতে থাকি তা অনেক ছোট, তাই উনি ওনার সব সন্তান থেকে ২ জনকে অস্থায়ীভাবে কোন এতিমখানায় রেখে এসেছেন?
আমি নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি আপনারা কোনদিনই এই রকম কিছু শুনেন ও নি আবার দেখেন ও নি। কিন্তু আমি বলি কি উপড়ের দুইটা ঘটনাই ঘটার দরকার আছে!! কি ভাই আমার এ কথা শুনে আপনার চোখ কপালে উঠে গেছে? উঠাটাই স্বাভাবিক। তবে একবার … কেবল একবার চিন্তা করেন তো, কোন মা রান্না করে তার এক সন্তান কে ৩ মাস খাওয়াচ্ছে আর বাকী সন্তানরা অভুক্ত অবস্থায় তা চেয়ে চেয়ে দেখতেছে … ব্যাপারটা কেমন হবে? আমরা এটা মাঝাতের দুঃস্বপ্নে ও কল্পনা করতে পারি নাহ। তবে … …
এখন এমন কিছু দেখি যা দেখার কথা ছিল নাহ … এমন কিছু শুনি যা শোনার জন্য এই কা্ন প্রস্তত ছিল নাহ। যেই মা আমাদের এই দুনিয়ার আলো দেখায় … বাচ্চা জন্মের পর হতে শত কষ্ট স্বীকার করে … অসুস্থ শরীর নিয়ে আমাদের লালন পালন করে … রান্না করে খাওয়ায় সেই মাকে আমরা ভাগ করে খেতে দেখি। তার ৪ সন্তান তাকে সারা বছর খাওয়াতে পারবে নাহ তাই ৩ মাস করে ভাগে ভাগে খাওয়ায় … মায়ের প্রতি ভালোবাসার কি সুন্দর নির্দশন। আহা … মরি … মরি …
আর যে বাবা তার রক্ত পানি করে আমাদের জন্য সুখ কিনে আনে … আমাদের শত আবদার মেটার আমরা বয়কালে তার সকল আবদারকে কবর দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেই। আহা … বড়ই সৌন্দর্য।
তাহলে এইবার আপনারাই বলেন, কেন আমি বলবো না যে মা তার সন্তানদের ও পালা করে রান্না করে খাওয়াক আর বাবা তার সন্তানদের কোন এতিম খানায় দিয়ে আসুক। এই অপ্রিয় কথা গুলো কখোনই বলতাম নাহ … কিন্তু ইদানিং কালে আমরা আমাদের চারপাশে এই জাতীয় ঘটনাগুলো বেশী দেখতেছি। তবে আমরা চাইলেই এই লজ্জাকর ঘটনাগুলোকে দুনিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দিতে পারি। আর এ জন্য বেশী কিছুর দরকার নেই … দরকার শুধু একটু ইচ্ছা আর মা বাবার প্রতি ভালোবাসা – মমত্ববোধ।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



