somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

(প্রয়াত) সঞ্জীব দা..., (প্রিয়) গিয়াস ভাই....এবং এই আমি...

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনে পড়ে,
সিরডাপ মিলনায়তন। বন্ধু সন্মেলন। অদ্ভুত সেই মানুষগুলোকে। তারচেয়েও বেশি মনে পড়ে ঝাকড়া চুল, পুরুষ্ঠ গোঁফ, বিশ্বজয়ী হাসি। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘পাঠক সংগঠনের জনক’-এর ক্রেস্ট। নিলাম অটোগ্রাফ। বন্ধুসভা তখন চিনতাম। জানতাম না।
মনে পড়ে।
শুক্রবার। প্রথম আলোর দোতলার বোর্ডরুম। অচেনা বন্ধু। আমিই সবচেয়ে বেশি চেনা, নিজের কাছে। ধীরে ধীরে চিনলাম গিয়াস ভাই, ফারুখ ভাই, মেসবাহ ভাই...। লিস্টিটা শেষ হওয়ার নয়।
মনে পড়ে।
আগস্ট মাস। ‘ঢাকা দেখা’ অনুষ্ঠান।
মনে পড়ে।
সিএ ভবনের দোতলার সিড়ি। হাতে সাধু ভাষায় লেখা ‘ঢাকা দেখার হাড়ির খবর’-এর প্রিন্টেড কপি। বুক দুরুদুর। পান্থ’র হাতে দিয়ে বাঁচলাম।
গিয়াস ভাই, কোনো এক অজানা কারণে কিছু কিছু মানুষের সামনে আমি সহজ হতে পারি না। অবাক হয়ে আবিস্কার করি, সেই ‘কিছু কিছু মানুষ’ আমার কাছে অসম্ভব শ্রদ্ধার, ভালোবাসার, সন্মনের। সেই ‘কিছু কিছু মানুষ’-এর মধ্যে আপনিও একজন, জানেন গিয়াস ভাই?
মনে পড়ে।
বুধবার। দোতলার বোর্ডরুম। ‘গিয়াস ভাই, লেখাটা আমি-ই লিখেছিলাম। আমার নাম...’। ‘তাই নাকি?’ আমার বুকে হাতুড়ির ঘা। পিঠে আপনার হাত। সে স্পর্শ স্নেহের, ভালোবাসার, আশীর্বাদের; আমি বুঝেছিলাম।
মনে পড়ে।
তারপর...
কত লেখা দিয়েছি। কিছু কিছু গিয়েছে ছাপাখানায়। বাকি সব নীলক্ষেতে। কাগজ বিক্রেতাদের কাছে। বুধবার, বন্ধুসভা খুলে দেখি, এটা আমার লেখা? আমি এমন লিখতে পারি? পরে বুঝেছি, আসলে পাকা রাঁধুনির হাতের ছোঁয়ায়-ই এমন জাদুকরি পরিবর্তন।
মনে পড়ে। সবই মনে পড়ে।
গিয়াস ভাই,
এখনো কাঁচা-পাকা হাতেই ব্যর্থ চেষ্টা। পাকা রাঁধুনি আর পেলাম না। যে রাঁধুনির গল্প আপনি বললেন, তাঁর অনুজ’র হাতের কলম আমার লেখাকে ব্যবচ্ছেদ করেছিল। ভাবতেই মনটা ভরে ওঠে।
এই রাঁধুনি এখন রান্নাঘরে আসবেন না আর। শেখাবেন না নতুন নতুন রেসিপি। সুস্বাদু রান্না পাব না আমরা।
মনটা হু হু করে ওঠে। চোখটা ভেজে ওঠে। ভীষণ বিষাদে।
সঞ্জীব চৌধুরীর হাতে গড়া, গিয়াস আহমেদ, প্রিয় গিয়াস ভাই, আপনার হাত ধরেই আমার গুটি গুটি পায়ে চলা শুরু। সেই শুরুটা শেষ হবে কবে জানি না। শুধু জানি, পাকা রাঁধুনির বড় অভাব এখন। খুঁজছি, চোখ মেলে, চোখের নাগালে পাই না।
নিঃসীম শূণ্যতা যাকে নিয়ে গেছে চিরতরে, তার পথ চেয়ে থেকে আর কত? নির্ভার হতে চাইছি। পারছি না।
মনটা হু হু করে ওঠে।

চোখটা ভিজে ওঠে।

ভীষণ আফসোসে।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

ছবি সংগৃহিত।

অংশ ১: ভূমিকা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য

ইসলাম কোনো আংশিক বা বিচ্ছিন্ন জীবনদর্শন নয়। বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোট ডাকাতদের বয়কট করুন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৩


আহা, বাংলাদেশের রাজনীতি যেন একটা অদ্ভুত সার্কাস, যেখানে ক্লাউনরা নিজেদেরকে জান্নাতের টিকিটের এক্সক্লুসিভ ডিলার বলে দাবি করে, কিন্তু পকেট ভরে টাকা নিয়ে ভোটের বাজারে ডাকাতি চালায়। জামায়াতে ইসলামীর মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×