
বিড়ালছানা এত দুষ্টু হতে পারে যদি জানতাম, তাহলে হাজার টাকা খরচা করে হলেও মেলা থেকে পুতুলবিড়ালছানা এনে দিতাম মেয়েকে। তবুও এই জলজ্যান্ত ডাকাত বিড়ালছানা ঘরে আনতাম না।
আমার এক চিমটি মেয়ে পতৌদি। মেয়ের আবদার রক্ষা করতে গিয়ে যে বিড়ালছানাটি এনে ঘরে তুলেছি এখন তার দুষ্টুমিতে সবাই অস্থির।
একেকবার ইচ্ছে করে বিড়ালছানাটিকে বস্তায় ভরে নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে আসি, চোখ বেধে দূরে কোনো এক জঙ্গলে রেখে আসি কিংবা ছানাটিকে পিটিয়ে শাসন করি। কিন্তু কিছুই করতে পারছি না আমরা বিড়ালপাগল মেয়েটির কারণে। এই বিড়ালছানা ছাড়া মেয়ে কিছুই বুঝে না। বিড়ালছানাটি বেশি দুষ্টু বলে পতৌদি তাকে অনেক বেশি আদর করে।
উঠোনে মুরগিছানারা টইটই করে ঘুরছে। অমনি সে তাদের ওপর লাফিয়ে পড়বে। লুটোপুটি কারবার। পোষা কুকুরটি বারান্দায় গোল হয়ে ঘুমিয়ে আছে। সে তার গায়ে আছাড় খেয়ে পড়বে। কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ছুটে যায় বিড়ালছানাকে ধরতে। ছানাটি ফোঁস করে কুকুরের মুখে খামচি বসিয়ে দৌড়ে চলে আসবে পতৌদির কোলে।
ভয়ানক চোর!
চারদিক থেকে অভিযোগ আসতে লাগল বিড়ালছানাটির বিরুদ্ধে। সে যেখানে সুযোগ পায় সেখানেই মুখ দেয়, হাত লাগায়। সে এমন পটু যে, কেউ টের পায় না সহজে। এসব করে সে দৌড়ে এসে পতৌদির কোলে বসে হাত চাটে, পা চাটে, হাই তোলে। দেখে মনে হবে সে কিচ্ছুটি করেনি; তার মতো ভালো ছানাটি জগতে আর নেই।
বিড়ালছানাটির যন্ত্রণায় আমরা অস্থির হয়ে গেলাম। ছানাটিকে এখন কী করা যায়। আমি আর পতৌদির মা পরামর্শ করে ঠিক করলাম, ছানাটিকে আর পোষা যাবে না; দূরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসতে হবে। পতৌদি যদি বেশি কান্নাকাটি করে তো প্রয়োজনে অন্য একটা বিড়ালছানা এনে দেবো, তবু এ ছানাটিকে ঘরে রাখব না।
যেই কথা সেই কাজ। আমি চুপি চুপি বিড়ালছানাটিকে একটি চটের ব্যাগে ঢুকিয়ে সোজা চলে গেলাম দূরের একটা জঙ্গলে। জঙ্গলের কিছুটা ভেতরে গিয়ে ব্যাগটির মুখ আলগা করে দিয়ে সোজা চলে এলাম। আসার সময় ছানাটিকে বললাম, বড়ো জ্বালাতন করেছ তুমি, এখন এই জঙ্গলের পাখি ধরে খাও।’
সন্ধ্যার পর আমরা একত্রে খেতে বসলাম।
‘মিঁ-ঞা-ও।’
কে! মিঞাও করল কে? হাতে প্লেট নিয়ে পিঠ বাঁকা করে নিচে তাকিয়ে দেখি পা ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে পতৌদির বিড়ালছানাটি!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৩:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




