
বিড়ালটি এতদিনে জেনে গেছে, কানিবগী বাঁশবাগানে ডিম পেড়েছে। বাঁশবাগানে কে এলো আর কে গেল তার খবর রাখে সে। কে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটাল সেই খবরও রাখে।
সন্ধ্যা হলেই পাখিরা ফিরে আসে বাঁশবাগানে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। তখন বিড়াল ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাঁশবাগানের পাখি দেখে।
পাখিরা বাসা বাঁধে বেশ উপরে। তাই বিড়াল সহজে কোনো পাখি শিকার করতে পারে না। তবে পাখিরা যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে তখন একটা সুযোগ পেয়ে যায় বিড়াল। দুটি পাখি ঝগড়া করতে করতে পাকখেয়ে মাটিতে এসে পড়ে। ওমনি বিড়াল খপ করে ধরে নিয়ে চলে যায়।
বিড়াল বাঁশবাগানে এসে বলে, পাখিরা তোমরা কি ঝগড়াঝাটি করা একেবারে ভুলে গেলে! আজকাল তোমাদের মাটির কাছাকাছি আসতে দেখি না। এমন সময় বিড়াল বকেরছানার কান্নার শব্দ শুনতে পেল! বিড়ালের জিবে এসে গেল পানি।
বিড়াল বকের বাসার দিকে তাকিয়ে বলল, বক ভায়া, তোমাদের ছানারা কেমন আছে? কোনো সমস্যা থাকলে বলো, দেখি কোনো উপকার করতে পারি কি না।
বক নিচের দিকে তাকিয়ে বিড়ালকে বলল, আমাদের ছানা দুটো বেশ ভাল আছে। তবে ওরা ভারি দুষ্টু। ওরা ঝগড়া করে আবার কান্নাকাটিও করে।
দারুন। ছোটবেলা আমরাও অনেক ঝগড়া করেছি আবার মারামারিও করেছি। এতে কোনো ক্ষতি নেই বরং লাভ আছে। এই ধরো, শরীর হবে শক্ত। আর মনে পাবে বল। তুমি ওদের মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে দেখতে পারো, ওরা ব্যথাও পাবে না। ব্যাপারটা কত মজার আর গৌরবের, বুঝতে পেরেছ? বলল বিড়াল।
খুব বুঝেছি। যত্ত সব আজব কথা! রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল বগী।
দুই.
দুদিন পর বিড়াল এসে বগীকে বলল, তোমাদের আদরের ছানারা দেখতে কেমন হয়েছে, দাওতো দেখি।
বগী বলল, ওরা খুবই ছোট; এখন দেখাদেখির কী বোঝে ওরা, আরেকটু বড় হোক।
বিড়াল তিন দিন পরে এসে বলল, তোমার ছানাদের আমার হাতে একটু দাও আদর করে দিই, ওরা বেজায় খুশি হবে।
বগী বলল, ওরা যা দুষ্টু-রে বাবা। ওরা লাফিয়ে পড়বে আর ওদের হাত-পাগুলো ভাঙবে!
বিড়াল কোনো উপায় করতে না পেরে শেষে বলল, তাহলে ছানাদের উপরে তুলে ধরো। ওরা দেখুক সবুজ বন। আর আমিও দেখি ওদের।
বগী বলল, ওরে বাপরে! ওদের উপরে তুলে ধরা কি চাট্টিখানি কথা!
কেন, কয় রতি ওজন ওদের? বলল বিড়াল।
বগী বলল, কয় রতি মানে! ওজন ওদের কয়েক টন!!
বগীর কথা শুনে বিড়াল হাসতে হাসতে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে গেল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


