somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জয় শ্রীরাম , জয় জয় রাম শ্রীরাম !

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনারা কী ভাবছেন ? ত্রেতা যুগের কল্পকাহিনীর রামচন্দ্রের জয়ধ্বনি করছে আমার মত এক অধার্মিক ? আরে না না আপনাদের কাহিনী বলছি এই ঘোর কলিকালের এক রামচন্দ্রের , রক্তমাংসের রাম শ্রীরামের , বয়স মাত্র ৬০। তা কে এই রাম শ্রীরাম ? জানতে Google করবেন ? একটু দাঁড়ান, ব্যাপারটা আয়রনিক্যাল হবে।

নিম্নবিত্ত /মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী যুবকের যা স্বপ্ন , ভারতের চেন্নাইয়ে জন্ম নেয়া রাম তার থেকে ব্যাতিক্রম ছিলেন না। তিন বছর বয়সে বাবাকে হারান , বিধবা মা তার সব কিছু দিয়ে সন্তানকে শিক্ষা দেন , রাম মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করে ড্রিমল্যান্ড আমেরিকা পাড়ি জমান , পকেটে কয়েকটা ডলার , তাঁর মাতামহ বাড়ী বন্ধক রেখে আমেরিকা যাওয়ার বিমান টিকিট কিনে দেন। সেটা ১৯৮৩ সাল।

সাল ১৯৯৮। ২৩-২৪ বছরের স্ট্যানফোর্ড অধ্যয়ণরত দুই যুবকের মাথায় ঘুরছিল ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন তৈরির এক আইডিয়া। তারা অনুসন্ধান করছিল সিলিকনভ্যালির কিছু উদ্যোগপতির বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের যারা স্টার্টআপএ ইনভেস্ট করে। অধিকাংশই তাদের রিজেক্ট করছিলো এই বলে যে তাদের আইডিয়া ব্যবসায়িক দিক থেকে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিভিন্ন জায়গায় ধাক্কা খেতে খেতে তাদের পরিচয় হলো রাম শ্রীরামের সঙ্গে।স্ট্যানফোর্ডের এক অধ্যাপক এই দুই ছাত্রকে রামের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। রাম ততদিনে ভ্যালিতে কেউকেটা হয়েছেন , আরো অনেক কাজের সাথে তৈরী করেছেন নিজের কোম্পানী Junglee এবং কাজ করেছেন Amazon প্রতিষ্ঠাতা বিখ্যাত Jeff Bezos এর সাথে। Amazon পরে Junglee কে অধিগ্রহণ করে। রাম তখন ডলার মিলিওনিয়ার।

রাম দেখা করলেন তাদের সাথে ,শুনলেন তাদের সার্চ -ইঞ্জিনের আইডিয়া এবং এটাও জানতে পারলেন তারা স্টার্টআপ শুরু করতে চায় বাড়ীর গ্যারেজে ! প্রথম মিটিংয়ে দুই যুবকের বুদ্ধিদীপ্ত চোখ ছাড়া তাদের আর কিছুই উল্লেখযোগ্য মনে হলো না।শুরুরদিকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা আইডিয়ার থেকেও বেশী গুরুত্ব দেন আইডিয়ার পিছনের মানুষদের, রাম শ্রীরামের মনে হোল তিনি এদের ওপর ভরসা করতে পারেন। তিনি দিলেন ৫ লাখ ডলার , কিন্তু মুশকিল হল চেক লিখতে গিয়ে --১) নতুন স্টার্টআপের নাম ঠিক হয়নি এবং ২) কোন ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়নি। স্টার্টআপ বানানোর উত্তেজনায় ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন এটি ভুলে গেছেন ।

৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে গুগল ইনকর্পোরেটেড হলো ,তারপর ব্যাঙ্ক একাউন্ট খোলা হলো। রাম এই দুই যুবকের পরিচয় করিয়ে দিলেন Jeff Bezos এর সাথে। নভেম্বরে Bezos ইনভেস্ট করলেন ২.৫ লাখ ডলার , সাথে ছিল আরো দুই নিবেশকারী। এর পরে যেটা হলো .......ইংরাজিতে একটা কথা আছে ..... the rest is history .

Google প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন অথবা বর্তমান সিইও সুন্দর পিচাইয়ের নাম সবাই জানে কিন্তু রাম শ্রীরাম ? লো -প্রোফাইল থাকতে পছন্দ করেন , মিডিয়াতেও কালে ভদ্রে আসেন। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি Google বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর , এবং ল্যারি এবং ব্রিন এর মেন্টর। ২০১৫ সালে Google ভেঙ্গে Alphabet তৈরী হওয়ার পর তিনি সেটারও বোর্ড মেম্বার। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আরো একাধিক কোম্পনি , ২০০০ সালে তৈরি করেন বিখ্যাত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড Sherpalo--যার প্রধান কাজ ভারত সহ একাধিক দেশে প্রতিশ্রুতি সম্পন্ন প্রাথমিক স্তরের টেকনোলোজি কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করা এবং মেন্টরিং করা । তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান ১.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

"আমি অনেক বছর ধরে একজন উদ্যোগপতি , আমার অনেক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে , মাত্র কয়েকটি সফল হয়েছে "----বিনয় গুণীর ভূষণ যদিও সিলিকন ভ্যালি তাঁর সম্বন্ধে বলে : "দ্য ম্যান উইথ আ মিডাস টাচ " .

তাঁর সম্পদের বিরাট অংশই তিনি এখন চ্যারিটি তে ব্যয় করেন। Magic Busভারতের গরীব শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে ,Roshni দিল্লিতে গরীব মুসলমান মেয়েদের শিক্ষার আলো দেয়।


"If you take a single child out of poverty in a family where nobody has gone to school or college, you can change the trajectory for that child and the entire household, the entire family and its future generations." তাঁর উক্তি। Unsung Hero কী এঁদেরকেই বলে?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×