somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা কবিতাটি।

একদিন ইশ্‌কের গভীর রাতে
খোদা তোমাকে আমি বললাম
তুমি কোথায়?
তুমি কোনো উত্তর দিলে না
শুধু আমার বুকের ভেতর
একটি নীরবতা রেখে গেলে।

আমি আবার ডাকলাম
আমি তো তোমাকে খুঁজছি
নীরবতা আরও গভীর হলো।

তখন বুঝলাম হয়তো এতদিন
আমি তোমাকে খুঁজিনি
খুঁজেছি আমারই
একটি সুন্দর কল্পনাকে।

আমি ছিলাম আমার জ্ঞান নিয়ে
আমার সাধনা নিয়ে, আমার পুণ্য নিয়ে
আমার মর্যাদা নিয়ে
আমার পরিচয়ের অহংকার নিয়ে।
বলতাম এ আমার।

একদিন ইশ্‌ক এসে
আমার মুঠো খুলে দিল
বলল দেখো,কী আছে তোমার হাতে?
আমি তাকিয়ে দেখি শূন্য।

যে শ্বাসকে বলেছিলাম আমার শ্বাস
সে তো আমার আগে থেকেই
আকাশের আমানত।
যে জীবনকে বলেছিলাম
আমার জীবন সে তো একদিন
আমার হাত ছেড়ে যাবে।

যে প্রতিভায় আমি নিজের নাম লিখেছিলাম
সেটিও তো অদৃশ্য কোনো দানের আলো
যে ভালোবাসতে পারি
সেই ক্ষমতাটুকুও আমার অর্জন নয়।
এমনকি
তোমাকে খুঁজবার যে আকুলতা
সেটিও তো তোমারই দেয়া।

তখন বুকের ভেতর একটি পুরোনো প্রাসাদ
ভেঙে পড়তে লাগল আমি’র প্রাসাদ
একটি করে ইট খুলে গেল
আমার জ্ঞান,আমার গর্ব
আমার সাধনা,আমার শ্রেষ্ঠত্ব
আমার আমি জানি
সবই ধুলো হয়ে
পড়ে রইল পায়ের কাছে।

আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম
তবে আমি কোথায়?
ইশ্‌ক বলল না কিছু
শুধু দেখাল একটি আয়না।
সেখানে দেখলাম যে আমি-কে এতদিন
অমর ভেবেছিলাম
সে তো এক মুহূর্তের অতিথি।

নাম বদলায় শরীর বদলায়
সম্পদ চলে যায়, মর্যাদা মুছে যায়
প্রশংসা থেমে যায় তবু আমি
আমার, আমার বলে
শূন্য মুঠো আঁকড়ে থাকি!

সেই মুহূর্তে আমার ভেতর কিছু একটা
নিভে গেল ,নিভল অহংকার
নিভল দাবির আগুন
নিভল শ্রেষ্ঠ হওয়ার বাসনা।

এটাই কি তবে ফানা?
নিজেকে মুছে ফেলা নয়
বরং মুছে ফেলা
নিজেকে কেন্দ্র করে
বোনা মিথ্যার দেয়াল।
আমি বড় , এই শব্দের মৃত্যু
আমিই জানি এই অন্ধকারের মৃত্যু
সব আমার এই মোহের মৃত্যু
আমি অন্যের চেয়ে উত্তম
এই বিষের মৃত্যু।

তারপর অদ্ভুত এক সকাল এলো
আমি ভাবলাম
এবার হয়তো পৃথিবী ছেড়ে
দূরে কোথাও চলে যাব
কিন্তু তুমি যেন বললে
না, ফিরে যাও।

যেখানে মানুষ কাঁদে,সেখানে যাও
যেখানে ক্ষুধা আছে সেখানে যাও
যেখানে মানুষ একা তার পাশে বসো
যে ভুল করেছে তার দিকে পাথর ছুড়ো না
তার জন্য দোয়া করো।

যে তোমার চেয়ে আলাদা
তাকে ছোট করো না
তার ভেতরেও আমার নিঃশ্বাসের
গোপন রহস্য আছে।

তখন বুঝলাম
ফানার পরে শূন্যতা নয়
আসে বাকা।
বিলীন হয়ে আবার ফিরে আসা
তবে আগের মতো নয়
আগে বলতাম আমি সবার ওপরে।
এখন বলি আমি সেবক সবার
যুক্ত হয়েছি সমাজ সেবার কাজে !!!!

আগে জ্ঞান ছিল আমার মুকুট
এখন জ্ঞান হলো
আমার দায়িত্ব পালন
আগে ধর্ম ছিল
অন্যকে বিচার করার দাঁড়িপাল্লা
এখন ধর্ম হয়ে গেল
অন্যের ক্ষত ঢেকে দেওয়ার চাদর।

আগে ইবাদত ছিল
নিজেকে পবিত্র ভাবার কারণ
এখন প্রতিটি সিজদা
শুধু একটি কৃতজ্ঞতা
যা কিছু পেয়েছি
সবই তোমার।

এখন অন্যের ভুল দেখলে
চোখ আগে যায়
নিজের অন্তরের আয়নায়
নিজেকে জিজ্ঞেস করি
আমার ভেতরে কি
এই ভুলের কোনো ছায়া নেই?

কারও পতন দেখলে
হাসি আসে না
হৃদয় নরম হয়ে যায়।

কারও অন্ধকার দেখলে
নিজেকে আলোকিত ভাবি না
শুধু মনে হয়, হে রব
আমাকেও তো তুমি
অন্ধকার থেকে তুলে এনেছ।

তখন আমি আর তুমি
দুটি শব্দ হয়তো রয়ে যায়
কিন্তু তাদের মাঝখানের
দেয়ালটি আর থাকে না।

আমি আছি কিন্তু নিজের জন্য নয়
আমি বাঁচি কিন্তু নিজের অহংকারে নয়
আমি ভালোবাসি কিন্তু পাওয়ার জন্য নয়।
আমি সিজদা করি
কিন্তু নিজের পুণ্য গোনার জন্য নয়।

আমি পৃথিবীতে থাকি কিন্তু পৃথিবীকে
নিজের সম্পত্তি ভাবি না।
এটাই হয়তো ফানার পরের সকাল
নিজেকে হারিয়ে
মানুষকে ফিরে পাওয়া
মানুষকে ফিরে পেয়ে
সৃষ্টিকে ভালোবাসা
আর সৃষ্টির ভেতর দিয়ে
স্রষ্টার রহমতের গন্ধ পাওয়া।

শেষে একদিন আবার তোমার কাছে এসে
শুধু এইটুকু বলব হে প্রিয়,
আমার কিছুই নেই।

এই শ্বাস তোমার,এই প্রাণ তোমার
এই চোখের জল তোমার
এই ভালোবাসা তোমার
তোমাকে খোঁজার ব্যাকুলতাও তোমার।

শুধু একটি জিনিস আমার বলে মনে হয়েছিল
আমি
আজ সেটিও তোমার দরবারে রেখে এলাম
তারপর তুমি যদি জিজ্ঞেস করো
এখন তুমি কে?

আমি হয়তো মাথা নত করে বলব
আমি কিছুই নই
এই না-হওয়ার মধ্যেই
তোমার দেওয়া
সবকিছুকে নতুন করে
ভালোবাসতে শিখেছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×