somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোনাস রোনাল্ডো সহ অবশেষে মেসিকে দেখার সুযোগ হল, স্থান সেই ওল্ডট্রাফোর্ড! B-)

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :







২০১১ সালে যখন মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বাংলাদেশে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে আসে তখন অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সেই ম্যাচ দেখা সম্ভব হয় নাই। বিলাত থেকে ষ্টাডি ও কাজ কর্ম বাদ দিয়ে খেলা দেখা মোটেও সহজ নয়। ইচ্ছা আছে যে যদি বৃটিশ পাসপোর্ট পাই তখন অবশ্যই রিয়াল ও বার্সার মধ্যকার খেলা স্পেনে গিয়ে দেখব। কিন্তু কিছুদিন আগেই শুনি যে মেসি ও রোনাল্ডো কেউই আরো ৩-৪ বছর বার্সা ও রিয়ালে থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। এরই মধ্যে হঠাৎ ১৮ই নভেম্বর দুফুরে জানতে পারলাম যে আজকে ম্যান ইউর ওল্ড ট্রাফোর্ডে আর্জেন্টিনা ও পর্তূগালের মধ্যে প্রদর্শনী ফুটবল খেলা। যেখানে মেসি, রোনাল্ডো ও ডি মারিয়া এরা সবাই খেলবে। এই খবর জানা মাত্রই ফোন দিলাম ম্যান ইউর টিকেট বিক্রির সেকশনে। কিন্তু সহজে কোন অপরাটেরকে লাইনে পাচ্ছিলাম না কেবলই ওয়েটিং মিউজিক টোন শুনছি। এভাবে ২৫-২৮ মিনিট পর পেলাম এক তরুণী অপারেটরকে। ভাগ্য ভাল যে এই ম্যাচের জন্য ক্লাব মেম্বারশীপ লাগবে না। আমিও এইবার ইউনাইটেডের পারফরমেন্স তেমন ভাল না হওয়ায় মেম্বার হই নাই। কারণ এত দূরে গিয়ে খেলা দেখে যদি দল ভাল না করে তখন বিষন্ন মনে বাসায় ফেরা কষ্টকর। সে যাই হৌক টিকিটের মূল্য ৪০ পাউন্ড এবং বুকিং চার্জ ৪ পাউন্ড। যথারীতি বাংলাদেশী পাসপোর্ট ও ব্যাংক ষ্টেটমেন্ড নিয়ে গেলাম পরিচয়পত্রের জন্য।

এবার খেলার সমন্ধে বলতে গেলে যা বুঝলাম টিভিতে রোনাল্ডোকে দেখে আমরা অনেকেই কমবেশী আচ করতে পারি সে তার কোন সতীর্থকে পাস দিবে অথবা গোলে শট নিবে। কিন্তু মাঠের রোনাল্ডকে দেখে সেটা আচ করা বড়ই দুরুহ! সে যেভাবে পাস দেয় তাতে বিপক্ষের খেলোয়াড়রা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় এবং সব সময় আতংকের মধ্যে থাকে। তবে মাঠে রোনাল্ডেকে দেখে মনে হল তার বয়স হইছে। যদিও ২৯ বছর চলে লাগে তার বয়স ৩২। অন্যদিকে বিশ্ব সেরা মেসি এক কথায় জাদুকর। বল যে সে কিভাবে রিসিভ করে মনে হয় কেউ যেন একটি লোহাকে চুম্বকের দিকে ছুড়ে দেয়। আর মেসি যাকে বল দেয় যেন কোন দূধর্ষ স্নাইপার বরাবরই তার লক্ষ্য অর্জন করে। আর যে ভাবে বল নিয়ে ড্রিবলিং ডজ দেয় মনে হয় বল মেসির কথা শোনে। যেন বলটা তার শরীরেই অংশ। যদিও তাদেরকে প্রথমার্ধ পর তুলে নেওয়া হয় তারপরেও বলতেই হয় বার্সা ও রিয়ালের জন্য মেসি, রোনাল্ডো যেভাবে উজাড় করে খেলে জাতীয় দলের জন্য সব সময় সেভাবে খেলে না। তবে আর্জেন্টিনার পক্ষে ডি মারিয়া ও পর্তূগালের পক্ষে ন্যানি যথেষ্ঠ পরিশ্রম করে খেলছে। বাকী অন্যরা অতটা সিরিয়াস ছিল না। আর্জেন্টিনা অনেক আক্রমণ ও গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যার্থ। ২০১৪র ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালের মতই হিগুয়াইন দুইটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে। শেষমেশ পর্তূগালই বেশ কয়েকটি আক্রমণ থেকে একটিকে গোলে পরিণত করে ১-০তে জয়ী হয়। আমি মনে করি পর্তূগাল ঝড়ে বক জিতেনি বরং নিজ রক্ষণভাগকে সামলে সুযোগ মত মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণ করে। তাদের এই ভূমিকা আমার কাছে বুদ্ধিমানদের মতই লাগছে। তুলনার বিচারে আর্জেন্টিনা পর্তূগালের চেয়ে ভাল দল। সেই আর্জেন্টিনাকে ৯০ গোল বঞ্চিত করে রাখা সহজ নয়। যদিও আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারছে ও খেলাটাও তেমন প্রবল লড়াই (যা ঘরোয়া ও ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ান্স লীগে দেখে থাকি) হয় নাই তবুও যে দুই বর্তমান সময়ের বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলার ও কিংবদন্তীদের স্বচোক্ষে দেখলাম এটাই বড় কথা। আর জাতীয় দলের হয়ে মেসি ও রোনাল্ডো মুখোমুখি হবে সেটা মনে সহজে ঘটবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১:০৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×