somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কতটা ক্ষুদ্র আসলে আমরা

১৩ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের বাসস্থান পৃথিবী হচ্ছে সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ এবং সমগ্র সৌরজগতে এটাই একমাত্র গ্রহ যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব আছে। যদিও এই পৃথিবী আমাদের কাছে অনেক বড় মনে হয়, কিন্তু আদতে এটা বিশাল মহাবিশ্বের কাছে কিছুই না। এখানে এই "কিছুই না" শব্দটা যে কত ক্ষুদ্র আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না। বেশি কথা না বাড়িয়ে চলুন আমরা কতটুকু ক্ষুদ্র তা একটু কল্পনা করার চেষ্টা করি...

#
সূর্যকে যদি একটা সাধারণ দরজার সমান বড় ধরা হয়, তাহলে তার তুলনায় পৃথিবী হবে শুধুমাত্র একটা এক টাকার কয়েনের সমান!!!

চিত্রঃ সূর্য আর পৃথিবীর তুলনা।

(এবার চিন্তা করে দেখেন আপনি কতটুকু!!!)

#
সমগ্র সৌরজগতের ভর যদি ধরা হয় ১০০ ইউনিট, তাহলে সূর্যের একার ভরই হবে ৯৯.৮ ইউনিট আর সৌরজগতের বাদবাকি সকল গ্রহ উপগ্রহের মোট ভর হবে ০.২ ইউনিট!!!



#
এখন পর্যন্ত চারটা আমেরিকান মহাকাশযান আমাদের পৃথিবী থেকে উতক্ষিপ্ত হয়েছে ইন্টারস্টেলার স্পেস এর উদ্দেশ্যে।


যার মধ্যে ভয়েজার-১ ই আমাদের সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে গেছে এখন পর্যন্ত এবং তা ১১ বিলিয়ন মাইল। এটাই ছিল মানুষের তৈরী একমাত্র বস্তু যা কিনা প্রথমবারের মত আমাদের এই সৌরজগত ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে!! তারপর আসল ভয়েজার-২ যেটা কিনা পৃথীবী ছেড়ে চলে যায় ১৯৭৭ সালের ২০ই আগস্ট এবং এর বেগ হচ্ছে প্রতি ঘন্টায় ৩৯০০০ মাইল!

চিত্রঃ ভয়েজার-২

কিন্তু তারপরও আমাদের রাতের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল যে তারা (তার নাম সাইরাস) তার কাছাকাছি যেতে ভয়েজার-২ এর এখন থেকে আরও ২৯৬০০০ বছর লেগে যাবে!!!

#
১৯৯৫ সালে আমরা আমাদের সৌরজগতের বাহিরেও প্রথমবারের মত গ্রহের অনুসন্ধান পেয়েছি। আর এখন সূর্যের মত বিভিন্ন নক্ষত্রের চারদিকে আবর্তনরত গ্রহের সংখাও হাজার ছাড়িয়ে গেছে যাদের কিনা এক্সোপ্লানেট (যাদের সাথে সবদিক থেকে পৃথিবীর সাথে সবচেয়ে বেশি মিলে এমন গ্রহ। সেটা নিয়ে পরে একদিন আলোচনা করব) বলে।

#
সূর্যের মত এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে তৈরী হয় এক একটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ। আমরা যে ছায়াপথের অধীনে আছি তার নাম মিল্কিওয়ে। এই মিল্কিওয়েতে কমপক্ষে হলেও ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে। আর এই ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের মাঝে আমাদের সূয্যি মামা হচ্ছে আকারের দিক থেকে একটা নিম্নমধ্যমানের নক্ষত্র মাত্র!!!

চিত্রঃ মিল্কিওয়ের মাঝে অসংখ্য নক্ষত্র (এদের মাঝে সূর্যও একটা মাঝারি ধরনের নক্ষত্র)

আর এই পর্যন্ত আমাদের দেখা (মানে আমরা যতদূর পর্যন্ত দেখতে পেরেছি এপর্যন্ত) এরকম মিল্কিওয়ের মত ছায়াপথের সংখাই ১০০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে!!!

চিত্রঃ শিল্পীর তুলিতে মিল্কিওয়ের মত অসংখ্য ছায়াপথ

#
আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়ে এতই বড় যে, যদি আপনি আলোর বেগেও যান, তারপরেও আপনি মিল্কিওয়ের একমাথা থেকে আরেক মাথায় যেতে পাক্কা ১লক্ষ বছর লেগে যাবে!!!
উল্লেখ্য এই মহাবিশ্বে আলোই সবচেয়ে দ্রুতবেগে চলে এবং তা প্রতি সেকেন্ডে ৩লক্ষ কিলোমিটার করে যায়!!!

#
যদি মোটামুটিভাবেও হিসেব করি, তাহলে দেখা যায় যে এই মহাবিশ্বের প্রায় ৭০%ই হচ্ছে ডার্ক এনার্জি, যা কিনা আমরা কখনোই দেখি না। আর ২৫% হচ্ছে ডার্ক ম্যাটার, দুর্ভাগ্যবশত(!) আমরা এগুলোও দেখতে পাই না। তাহলে আমরা আসলে দেখতে পাই কি?? এই যে এত্ত বড় বড় বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র, ছায়াপথ এবং অন্যান্য ভরযুক্ত যা কিছু বস্তু আছে তার সবকিছু মিলাইয়াও মহাবিশ্বের ৫%ও হয় না!!!

এবার ভেবে দেখেন মহাবিশ্বের তুলনায় আপনি কতটুকু!!

আমরা নিজেদের অনেক অনেক বড় ভেবে কতইনা মারামারি হানাহানি করি, নিজেকে বড় বলে অহংকার করে কতজনকেই না তুচ্ছ্য তাচ্ছিল্য করি, একবার ভেবে দেখুনতো আমরা আসলে কি? কি লাভ এসব করে? কতটুকুই বা ছোট আমরা!!! আসলে চিন্তাই করা যায় না যে আমরা আসলে কতটুকু ছোট!!
যাওয়ার আগে ছোট্ট আরেকটা তথ্য দিয়ে যাই। আমরা এত এত আধুনিক যন্ত্র দিয়ে মহাবিশ্বের যতটুকু পর্যন্ত জানতে পেরেছি , বিজ্ঞানীদের মতে তা সমগ্র মহাবিশ্বের প্রায় ১০% এরও কম। অর্থাৎ আমরা এখন পর্যন্ত মহাবিশ্বের প্রায় ৯০% জায়গা সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখি না।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৬ সকাল ৮:৪৮
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×