
আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়নি। যতবার ঝড় এসেছে, ততবার সে ফিরে দাঁড়িয়েছে মাটির গভীরে শিকড় গেঁথে।
আজ যখন চারদিকে ষড়যন্ত্রের কালো মেঘ, তখনও বিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। বড় বড় শক্তির খেলা বহুবার দেখেছে এই জাতি। প্রথমে একজনকে দিয়ে চেষ্টা, তারপর আরেকজনকে দিয়ে- কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা যতদিন এই মাটির পাহারাদার, ততদিন কারো স্বার্থসিদ্ধির জায়গা এখানে নেই। এটাই তো সেই আত্মমর্যাদা, যা লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির দাবার ছক বদলায়, বন্ধুত্ব-শত্রুতার সমীকরণ পাল্টায়- কিন্তু একটি জাতির আত্মমর্যাদাবোধ কখনো বিক্রি হওয়ার নয়। ভারত যখন নিজের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মাথা নত করেনি, তখন সেটাও এক শিক্ষা- ছোট হোক বা বড়, কোনো দেশকেই চাপ দিয়ে চিরকাল নত রাখা যায় না। এই অঞ্চলের মানুষ শান্তি চায়, নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করতে চায়, বিদেশি কোনো শক্তির হাতের পুতুল হয়ে নয়।
যারা আজ ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে, তারা ভুলে যাচ্ছে- এই জাতি বারবার প্রমাণ করেছে, তাকে সাময়িকভাবে ঘায়েল করা গেলেও চিরদিনের জন্য দমিয়ে রাখা যায় না। প্রতিটি অন্ধকার রাতের পরেই আসে ভোরের আলো। যারা আজ ক্ষমতার আসনে বসে উল্লাস করছে, ইতিহাস তাদেরও বিচার করবে- কারণ ইতিহাস কখনো মিথ্যাকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেয় না।
এই কঠিন সময়ে যারা মাটির টানে, মানুষের ভালোবাসায় বিশ্বাস রাখে, তাদের প্রতি আহ্বান- ধৈর্য হারাবেন না। যে দল লক্ষ কর্মীর রক্ত আর ঘামে গড়া, সেই দলের ভিত্তি এত সহজে নড়ে না। আজ যত অন্ধকারই নেমে আসুক, আগামীর সূর্য আবার উঠবেই। বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে- এই বিশ্বাসেই এই জাতি বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


