somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গবন্ধু: দলীয় শিকল ভেঙে জনতার মাঝে

১৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না—ইতিহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা এ কথাই সাক্ষ্য দেয়। আর জোর করে চাপিয়ে দিলে ভালোবাসা নয়, জন্ম নেয় ঘৃণার বাম্পার ফলন। বঙ্গবন্ধুকে গত পনের বছর ধরে এমনভাবে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হলো যে, মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর নাম উচ্চারণ করাই বন্ধ করে দিল। তিনি হয়ে গেলেন মানুষের নয়, একটি দলের স্লোগান।

৫ই আগস্ট—এই তারিখে বঙ্গবন্ধু যেন আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। যে মুজিবর ছিলেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, তাকে ধীরে ধীরে সেই কেন্দ্র থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বিগত ১৫ বছর ধরে। বাংলাদেশ যদি একটি পূর্ণ বৃত্ত হয়, তবে মুজিবর সেই বৃত্তের বিন্দু, যা ছাড়া বৃত্তের অস্তিত্বই অসম্ভব। অথচ সেই বিন্দুকে দলীয় মালিকানার নামে এমনভাবে বন্দি করা হলো, যেন তিনি জাতির নয়, কেবল দলের সম্পত্তি।

আমার শোক আমার নিজের—আমার রক্তের, আমার আত্মার। কে আমাকে বলে দেবে, আমি আমার পিতৃশোক কিভাবে পালন করবো? হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা—এগুলো কোনো দলীয় গাইডলাইনের নিয়মে চলে না। আওয়ামী লীগ জনতার মুজিবরকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, আর সেই একচ্ছত্র দখলদারিত্বই বঙ্গবন্ধুর প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করেছে।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন সবার—মাঠের কৃষকের, নদীর মাঝির, শহরের শ্রমিকের, গ্রামবাংলার মায়ের। কিন্তু তাকে এমনভাবে ব্যবহার করা হলো, যেন তিনি কেবল মঞ্চের ব্যানারে, মিছিলের পোস্টারে, আর দলীয় বক্তৃতার মুখস্থ বুলি। যখন কোনো নেতা মানুষের হৃদয়ের চেয়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠেন, তখন ইতিহাস কেঁদে ওঠে—এবং সেই কান্না, একদিন দলীয় প্রাচীর ভেঙে জনতার কাছে ফিরে যায়।

আজ বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছেন—দলীয় কব্জা থেকে, কৃত্রিম মহিমা থেকে, শ্লোগানের শিকল থেকে। আজ তিনি আবার মানুষের, ইতিহাসের, বাংলাদেশের।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৬
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রোফাইল ফ্রেমের আগে: ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের ব্লগগুলি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:২২

বিশ বছর আগে, ২০০৬ সালের স্বাধীনতা দিবসে সামহ্যয়ার ইন ব্লগে কী লেখা হচ্ছিল—এই প্রশ্নটি কেবল নস্টালজিয়ার নয়, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিসরের এক প্রাথমিক মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার প্রশ্ন।



আজ যখন আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-২)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৮



সূরাঃ ২ বাকারা, ২১ নং আয়াতের অনুবাদ-
২১। হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমোদের সেই রবের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা মোত্তাকী হও।

সূরাঃ ২... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিনাশ গ্রহাণুপুঞ্জের অধিবাসী - সাইন্স ফিকশন

লিখেছেন আরাফাত৫২৯, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:১০




১/
বিজ্ঞান একাডেমির প্রধাণ মহামতি গ্রাহাম উনার অফিসের বিশাল জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সময়টা প্রায় শেষ বিকেল। সন্ধ্যার রক্তিম আভা দূর আকাশে দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো আকাশটাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তরের ইতিহাস অন্য কিছুর সঙ্গে মিলবে না, সত্যিই?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×