somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময়, বৃষ্টি আর আমি

২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশ পুরো অন্ধকার হয়ে আসছে, চমকে উঠলাম বাতাসে আমার ঘরের জানালাটা ধাম করে বাড়ি খাবার শব্দে। তাড়াতাড়ি মাথা বের করে দেখার চেষ্টা করলাম মাঠে কেউ নামলো কিনা। হুমম... কেউ এখনো আসেনি, কিন্তু কাউকে না কাউকে আসতেই হবে। কেউ না আসলে আমাকেই যেতে হবে, ভালো কাজে বাধা আসবেই। যদি বাধাই না আসে তাহলে সেই কাজ ভালো না হবার সম্ভাবনাই বেশি, তাই আম্মুর বকায় কান না দিয়ে আমিই বের হলাম। তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই দৌড় দিয়ে মাঠে গিয়ে গাছের নিচে দাড়ালাম। ৫ মিনিটের মধ্যেই সবাই হাজির। প্যান্টটা পায়ের কাছে একটু গুটিয়ে নিয়ে সবাই শুরু করলাম ফুটবল খেলা। অবিরাম বৃষ্টি, বিকট শব্দের বাজ, কাদায় থকথকে মাঠ, কোনোকিছুই থামাতে পারেনি আমাদের, সারা গায়ে কাদা মেখে, আছাড় খেয়ে কাদা খেয়ে খেলে গেছি যতক্ষন পেরেছি। হয়তো বয়সটাই এমন, কোনকিছু কেয়ার করার সময় কোথায় আমাদের?

আমি সবসময় জানতাম আমি বৃষ্টি পাগল মানুষদের একজন। আমার এই Rainmania'র শুরু কবে আমি নিজেও জানিনা। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ কোনটা, আমি বলবো অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে রিকশার হুড ফেলে ঘুরে বেড়ানো।শুধু আমিই না, এমন অনেক মানুষকে পাওয়া যাবে যারা এই কাজ করতে পছন্দ করবেন। কিন্তু সময় এমন একটা আজব জিনিস যা সবকিছু বদলে দেয়। সময়ের সাথে সাথে আমিও বদলে যেতে থাকলাম। ইউনিভারসিটিতে যাবার সময় বৃষ্টি হলে মাঝেমাঝে মনেহতো....আরে বৃষ্টি আসার আর টাইম পেলনা! আমার স্টুডেন্টকে পড়াতে যাব, আর তখনই বৃষ্টি। আমি ছাতা দু'চোখে দেখতে পারিনা (আসলে দু'চোখেই দেখতে পাই, কিন্তু ছাতা আমার সহ্যই হয়না), তাই ছাতা নেয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। এভাবেই আমার Rainmania আস্তে আস্তে কমে আসতে লাগল।

মোবাইল ফোনের আলার্মে ঘুম ভেঙে গেল। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টি হচ্ছে, মেজাজটাই খিচড়ে গেল। এই ঠান্ডার মধ্যে এখন ক্লাসে যেতে হবে বৃষ্টিতে ভিজে। আর এখানে বৃষ্টির সময় কোথাও দাড়ানো যায়না, কারন এইখানে বাংলাদেশের মতো বৃষ্টির সময় কেউ কোথাও দাড়িয়ে থাকেনা। নির্বিকার হয়ে সবাই হেটে যেতে থাকে বৃষ্টিতে। ঠান্ডার মধ্যে বৃষ্টি যে কি ভয়াবহ তা হয়তো শুধু এখানে আসলেই বোঝা যাবে। ক্লাসে যাবার আগে আমার ল্যাপটপে BBC'র website থেকে weather forecast টা দেখে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। Heavy shower তো আছেই তার উপর বাড়তি যন্ত্রনা হিসেবে temperature টাও negative। এই ছিল আমার কপালে! কি আর করা... আগাগোড়া প্যাকেট হয়ে বের হলাম ক্লাস করতে। মাথায় হুড দিয়ে সাবধানে বের হই যাতে বৃষ্টিতে ভিজে না যাই, বাস স্টেশনে বসে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই মনে হয়ে গেল আমার সেই দিনগুলোর কথা। এ আমি কোন জায়গায় এলাম যেখানে আমার বৃষ্টি ভালো লাগেনা! আসলে বদলে গেছে কি? সময়, বৃষ্টি, না আমি? নাকি সবকিছুই?

~বিদঘুটে
২৬/১০/২০০৮
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২২
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×