somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈশব - ০২

০৩ রা মে, ২০২৩ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন কিছু লিখতে গিয়ে যেন বারবার শৈশবেই আশ্রয় নিতে হয়। বর্তমানের এই যাপিত জীবন যেন গ্রীষ্মের খরতাপের মতোই হয়ে গেছে। শৈশবের স্মৃতিগুলো যেন ঝড়ের মতো সমস্ত গ্লানি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে মনটা ঠান্ডা করে দেয়।

আমার স্কুল জীবন শুরু হয় এলাকার ডনডিউ কিন্ডারগার্ডেন থেকে। বয়স তখন পাঁচ কি ছয়। আম্মা স্কুলে দিয়ে আসতো, আর নিয়ে আসতো। টিফিনে আম্মা মাঝে মাঝে ডিম সিদ্ধ করে দিত, আব্বা অনেক কৃচ্ছতা অবলম্বন করে সংসার চালাতো তাই মাঝে মাঝে সেটাও বরাদ্দ থাকতো না। আমরা ছিলাম তিন বন্ধু - আমি, মনি আর শাহিন। এদের অবস্থাও কিছুটা আমার মতোই ছিল। বাসা থেকে টিফিন দিত কি দিত না এই অবস্থা।



আমাদের ক্লাসে সানি নামের লক্ষী একটা মেয়ে ছিল (পরবর্তিতে সানির চাচার সাথে আমার বোনের বিয়ে হয়)। সানির আম্মু প্রতিদিন তার টিফিনে অনেক খাবার দিয়ে দিত। তাতে থাকতো নসিলা বা জ্যাম মাখানো পাউরুটি, চিকেন স্যান্ডউইচ, ডিম সিদ্ধ, কলা, আপেল, কমলা। নব্বইয়ের দশকে ঐসব খাবার দাবার ছিল সমাজের এলিট ক্লাসের খাবার। টিফিন টাইমে সানি কিছুই খেত না, পুরো টিফিন বক্স ভর্তি খাবার আমাদের তিন বন্ধুকে দিয়ে দিত। সানির টিফির বক্স আমাদের কাছে আলিফ লায়লার গুপ্তধনের বাক্সের মতোই ছিল। চিকেন স্যান্ডউইচ আর জ্যাম মাখানো পাউরুটি নিয়েই মারামারি লাগতো। পরে সানির মধ্যস্ততায় বাই রোটেশনে সেগুলো খাওয়া হতো। যার ভাগে যেদিন চিকেন স্যান্ডউইচ পড়তো, সেদিন সে ছিল রাজা ! বাকিরা প্রজা।

প্লেতে পড়া অবস্থাতেই সবেমাত্র গণনা করা শিখেছি। আমরা আবিস্কার করলাম সাত দিনে হয় এক সপ্তাহ, তাহলে প্রত্যেকে প্রতিদিন এক টাকা করে জমালে প্রতি সপ্তাহে সবাই একটা করে কোক খেতে পারবো ! এটা ছিল বিশাল একটা আবিস্কার, যেই কথা সেই কাজ। বাবার পকেট থেকে চুরি করে, মাটির ব্যাংকের ভেতর থেকে কয়দা করে, এভাবে সেভাবে সবাই টাকা জমিয়ে সপ্তাহে একটা করে কোক খেতাম।



স্কুলটার কাছেই ছিল শিকদার বেকারী। তখনকার দিনের সাধারন পাউরুটি আর ক্রিম রোল এখনকার দিনের তথাকথিত প্রিমিয়াম কোয়ালিটির পেস্ট্রির থেকেও উন্নতমানের ছিল। তখনকার দিনের মায়েরা ছেলেদেরকে এদিক সেদিক যেতে দিত, লুতুপুতু করে বড় করতো না। স্কুলের পরে সেই শিকদার বেকারীতে যেতাম, কারিগরদের আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম, কারিগররা বিভিন্ন মজার মজার বেকারী আইটেম খেতে দিত। বসে বসে তাদের কাজ দেখতাম, বড় বড় জালী কুমড়াকে একটা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে ফুটো করতো, পরে সেটা চিনির শিরায় ডুবিয়ে মোরব্বা বানাতো যা কেক, পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারী আইটেমে ব্যবহার হতো। আমাদের কাজ ছিল বেকারীতে ডুকেই রসে ডুবানো টাটকা মোরব্বা খাওয়া। আহা ! কি যে তার স্বাদ, মনে হতো পেয়ে গেছি আকাশের চাঁদ।

ভাল থাকুক আমাদের স্মৃতির বাচ্চারা-বন্ধুরা, ভাল থাকুক, দুরন্ত হোক এখনকার দিনের শিশুরা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×