somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কপি-পেস্ট_14_ ইশারা (সুমন লাহিড়ী)_1

১১ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সব আর্টিকুলেট করে আনছিলো প্রাপন। স্নানজলে বাথ নিতে নিতে তার তরল শৌর্যের যোগচিহ্ণ ধুয়ে যাচ্ছিলো। লিবিডোসজল স্বপ্নগুলো আড়মোড়া দিয়ে আড় ভাঙছিলো। হর্ষযন্ত্র সামান্য ভিজে সয়লাব। খর্বুটে হলে মিলিন্দ সোমন যেমন হতো আর কি! স্নানজলে মৃদু গুঞ্জন আর পুনঃ পুনঃ সেই অর্জিত বিরক্তি ভেঙে জলে আছাড় খাচ্ছিলো বালতি। জলের ছিটেয় পুরনো অর্শের দাগ ভিজে যাচ্ছিলো। তারপর তারে মেলে দিতে তাতে ছ্যাঁক ছ্যাঁক চুমো খায় ফণাতোলা রোদ্দুর।

নিজের শরীর থেকে লোকায়ত গন্ধ পাচ্ছিলো প্রাপন। পিরিচে থুতনীর শিশির বেটে খিন্ন হাতে তাকে ছুঁতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। ছুঁলেই কিন্তু বৈদ্যুতিক শাপ। আর শাপ থেকে জেগে ওঠে ধুঁতরোমার্কা বিচিতে ষাঁড়ের অবসাদ। অবসাদে থ্যা থ্যা মাদুরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রস্রাব করে নিচ্ছিলো চির ডাইনী নাগর। নাভিতে প্রপাত ছিলো চুলের। কেন্দ্রে ভ্রমর আছে কি না, তা জানতেই বুঝি সুকুল আঙুলগুলো তারিফ করে নেয় স্তনবৃন্ত, পুরুষবৃন্তকে। নিশাদলে ঝাঁঝালো রাগ ফলিয়ে নিজেকে শুধায় প্রাপন, হাম আপকে হ্যায় কওন? প্রশ্নের কিছুক্ষণ পর প্লেগ নেমে আসে মেধায়; মগজ-গাদন দিয়ে পান্তা-পুরুষ ঝরোকার মতো লেগপুল করে। মিহিন বাতাসে পাঁচফুটিয়া সময়ের থুতু বিজ্ঞাপন ধ্যেয় জেনে ধর্মের কল নাড়ায়। ধর্মে ভরে ওঠে স্তনবৃন্ত। ডুবো কাম কৃশ পায়ে নিন্দাপঙ্কে ঘোরে। কষ্টবলয় নাড়া হয় যখন সময় এসে মুতে শুকিয়ে নেয়।

তাড়সের ফেন গালছিলো ভোরাই। ফ্যানের সরে রোদ হাসে, তখন তারও হাসি ভাসে ঠোঁটে। ওষ্ঠ থেকে কে নাগরিক ছিঁড়ে নেয় পুরুষ-ভাষা। স্টোভে চতুর্থীর হেলে পড়া চাঁদ; দিশিমদ, ছোলা-গুড় চাপানো। চাঁদের আলোয় চটপটি, চাট খেতে খেতে কে যেন ধর্মপ্রাণ কয়েক হাজার ঘুঘু ছুঁড়ে দিলো বুনো বাগানে। ধান এসে খেয়ে নিলো পাকা মই। খায়। খায়। মাপা হাতে তোলা ভাত খায় মোহাম্মদ বিষ্ণু। খাওয়ার পরে রাহাজানি হয় ভাতঘুম। কেননা প্রায় তক্ষুণি খচাং চিমটি লাগে কাশবনে। মেঘলা দুপুরে ইজ্জত আর রাখা যায় না। স্বপ্ন পর্দা সরে; মেঘভাঙা ঝুলন, আর ঝুলনে ফোলা পাজামার গিঁট। গিঁটে টান। ভরাটানের তদন্ত হয়। ঘরের ভিতর নগ্ন হতে গিয়ে লোভানি কাঁঠালের ভুঁতি ঢুকে যায়। পর্ণকণা সোহাগী আঙুলে নষ্ট করে নগ্নতা। একা একা ঘুরে যায় ফুল, পেন্সিলদাগের মতো কামরেখা, কষ্টভাষ নেয়ে ওঠে সবুজ চিহ্ণে। একাগাছ, প্রাপন, বীজ নষ্ট হতে পারে ভেবে লেবেল ক্রসিংয়ে ঘোলাটে জোৎস্নাকাদা মেখে পেখম খুলে বসে উদোম ট্রেনে। নীল রক্ত মাখে আধুলি ভিখিরি, মহম্মদ। মাখতে মাখতেই সহবাস জ্বালা একাকী জ্বালায় কোষে কোষে ঝিনুকের মতো ভাঙে, ফাটে, বিস্ফারে। ইঞ্চিখানেক অনিদ্রায়, মৈথুনে, গর্জনতেলে মিঠুন পরিহাস। অথৈ রক্তারক্তি। তবু তো সেই মহাপ্রস্থানে সহাবস্থান, সমপ্রেম। এই কি সেই রয়ে সয়ে ননীচুরির স্বাদ যাচনা- ভাবে প্রাপন, ভাবে মহম্মদ। অনালোকে ফ্যাকাশে শ্যামল কবিত্ব যেন বা। হাঃ। অজাচার শেষে, বিলসন অন্তে পালাক্রমে মো. বিষ্ণু আর প্রাপন ডি স্যুজা যে সকল প্রশ্নের মুখোমুখি হয়, তাতে ভূমিকম্প পড়ে ভূগোলে।

:তোমাদের sexual identity কি?
বিখ্যাত উলট বাতাসে বিভিন্ন কৌণিক আলোতে তাদের যৌনতা সুবিচিত্র। মাতালের মতো পাতাল ফেঁড়ে উঠে আসা এ প্রশ্নে সেজদার ভঙ্গিতে উপুড় হয়ে পড়ে তারা। তখন ফুটো উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান হয়...
(পরবর্তী পর্বে সমাপ্য)

(দৈনিক বাংলাবাজার, ১ কার্তিক, ১৪০৪)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×