আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এই উপমহাদেশে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন জাতি ও বর্ণে বিভক্ত রয়েছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে এই নিম্ম বর্ণ তথা ঋষি (মুচি), কাওরা, বেহারা, জেলে, দাই, ধোপা, ডোম হেলা শিকারী, হাজাম, বুনো, কলু ইত্যাদি সমাজের নিন্ম বর্ণেও মানুষ। কালের বিবর্তনে রাজনৈতিক ও সামাজিক কুটিলতা এবং শাসকদের দূরদর্শিতার কারণে এই জাতিগুলো তথাকথিত নিম্ম বর্ণ বা অস্পৃশ্য জাতিতে পরিণত হয়। আমাদের স্বপ্ন ছিল সদ্য স্বাধীন দেশে আমরা সম্মানের সহিত সকল ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অসাম্য ও অবহেলা থেকে মুক্ত ভাবে জীবন যাপন করতে পারব। কিন্তু নির্মম হলেও সত্য এই নিম্ম বর্ণের মানুষেরা এখনও সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত। আমরা এ দেশের নাগরিক হয়েও শুধু মাত্র নিম্মবর্ণে জন্মগ্রহণ করার কারণে অত্যান্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। এই ধারাবাহিকতার কারণে সমাজ থেকে বৈষম্য দুর করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করছি।
বৃহত্তর সমাজের কাছ থেকে বাংলাদেশে এই একবিংশ শতাব্দীতেও দলিত স¤প্রদায় প্রতিনিয়ত অস্পৃশ্যতার শিকার হয় । সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। এই বিচ্ছিন্নতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানসিক। হোটেল-সেলুনে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়না, কোন কোন জায়গায় ঢুকতে দিলেও আমাদের জন্যে নিম্নমানের পাত্র নির্ধারিত থাকে, চিহ্ন দেওয়া থাকে কিংবা আমাদের নিজেদের কাপ সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। অন্য জনগোষ্ঠীর সাথে মিশবার, নলকুপ থেকে পানি নেবার, সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবার এবং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা পাবার অধিকার থেকে আমরা বঞ্চিত। সাধারণ পূজামন্ডপে আমাদের প্রবেশাধিকার নেই, আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা কারণ অন্য সম্প্রদায়ের শিার্থীরা তাদেও পাশে বসতে চায় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


