সব কিছুই মানুষের অভ্যেস হয়ে যায়।
জীবনের সাথে জড়িয়ে গেলে ঠেলে ফেলতে পারে না,আর ৷
আমার গল্পের নায়ক অনু
সেও এতটা বছর
কাটিয়ে দিলো ৷
অনু অবাক হয়ে দেখে সাতষট্টি বছরের লোকটা ঠিকঠাক রিকশাটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ৷
দুপুরের রোদে দর দর করে ঘাম ঝরছে, তবুও সে থামছে না ৷
কাঁপা হাতটা শক্ত হয়ে আসে আরো ৷
মানুষ, নিজের জীবনের সবকিছু মেনে নিয়ে পথ চলে, চলতে হয় তাকে
রিকশা চালকের শারীরিক কষ্ট আর অনুর মানসিক কষ্টের মাঝে কোন পার্থক্য নেই ৷
কষ্টের রিকশাই টেনে গেলো সারা জীবন ৷বিরাট এক শূন্যতার ভেতর হাঁতড়িয়ে ফিরেছে নিজেকে ৷
দুঃখের ভারী বোঝাটা টেনে নিয়ে গেছে এতটা জীবন ৷
বদলে ফেলতে পারতো ৷ অনেকে বদলে ফেলে ৷ ছিঁড়ে ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়।
নিজের মতো করে জায়গা করে নেয় ৷
সেটা যেমনি হোক, নতুন করে বাঁচতে শেখে ৷অনু তা পারেনি ৷
এক সময় অস্থির ভাবে ছুটে বেড়িয়েছে,খেয়ালি করেনি ৷
সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন ৷
সতেরোটা বছর সে আশায়
কুড়ে কুড়ে মরেছে ৷
প্রায় শেষ প্রান্তে এসে দেখলো,চির রেখাটা ফাটলে রূপ নিয়েছে ৷
দূরত্ব বেড়েছে কেবলি ৷
জীবনের চিত্রনাট্যটা আগে থেকেই লিখা থাকে ৷
আর বদলালো যায়না কিছুই ৷
কেবলি বেড়ে উঠে
কষ্টের পাহাড়,
এখন একাকী রুমে,
ঘূটঘূটে অন্ধকারের ভেতর হাঁতড়িয়ে ফেরা ৷
খোলা মাঠটা নিষ্ঠুর ভাবে তাকিয়ে থাকে ৷আকাশটাও কিছুই বলে না ৷
আজ শমসের মিঞার রিকশায় উঠতে গিয়ে কেঁপে উঠলো অনু ৷
তারচে" অধিক বয়সের লোকটা কাঁপা কাঁপা হাতে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে ৷
কত কঠিন জীবন
শমসের মিঞার ৷
তিনটা মেয়ে বিয়ে করে
সংসারী হয়ে গেছে ৷
তার পাশে কেউ নেই আজ ৷
আমরা শুধু নিজের কষ্ট
নিয়ে জাবর কাটি ৷
কত মানুষ, কত রকমের কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে ৷
অন্যের বড় কষ্টটার দিকে তাকালে নিজেরটা কষ্টটা, হালকা হয়ে যায় অনায়াসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২১ দুপুর ২:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




