somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিষাদ আব্দুল্লাহ
পেশা: বেসরকারি কর্মকর্তা, সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। জন্ম: কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, বাংলাদেশ ।

পাঠক তাঁর প্রিয় লেখকের সাথে দেখা না করাই শ্রেয়-বিষাদ আব্দুল্লাহ

১৩ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

view this link
সাদা পৃষ্ঠায় লেখক ভরিয়ে তোলে চারপাশ। সমগ্র বিশ্বব্যবস্থা অথবা নিজেকে মাতিয়ে রাখে, তাতাঁতে থাকে, শাণ দিতে থাকে তাঁর মন-মগজের যৌথ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়। লেখক যখন নিজের দর্শন-ভাবনাগত গুহায় থেকে ধীরে ধীরে ভাবনার পাখিগুলোকে ডানা লাগিয়ে উড়িয়ে দিয়ে নিজেই ভাবনার গুহায় পড়ে থাকেন, আর যখন সাদা পৃষ্ঠাজুড়ে উড়তে থাকে ভাবনাপাখিগুলো, তখন সেগুলো ধরতে পাঠক ছোটে সেই ভাবনাপাখির পিছু পিছু। সে এক অবর্ণনীয় সোন্দর্য্য। পাঠকের চোখজুড়ে, মুখের ওপর বিভিন্ন খেলার উৎস, আনন্দ-উচ্ছ্বাস, কান্না, হাসি, আফসোস, তীব্র চিৎকার, গালি, বিদ্রোহে ফেটে পড়তে চায়, মুখ-বুক-মন ভরে অনর্গল অফুরন্ত ফুরফুরে বাতাস নিতে থাকে। কিংবা নতুন কোন জগতের ভিতরে ঢুকে গিয়ে অন্যকোন জগতের খোঁজ পেয়ে যায়। সেখানে পাঠক দেখেন সমগ্র বিশ্বকে, বিশ্বের ভিতরে মানুষাবর্তনকে, নিজের ভিতরে খুঁজে পায় সে লেখককে। কিন্তু আসলেই লেখককে কি! নাকি পাঠকই খুঁজে পায় নিজেকে! নিশ্চয় তখন লেখক পাঠকের ভিতরে রুপান্তরিত হয়ে যায়, তখন লেখক-পাঠকের পার্থক্য মুছে যায়। লেখকই হয়ে ওঠেন পাঠক, পাঠকই হয়ে ওঠেন লেখক আর তাঁদের ভিতরে জন্ম নেয় নতুন কোন কিছু, সেটা হতে পারে বিশ্বের বাইরের অথবা বিশ্বের ভিতরের সমস্ত বস্তু-অবস্তু। এই ঘোরের ভিতরে পাঠক নির্মাণ করতে থাকে নিজেকে, ভাঙতে থাকে তাঁর চারপাশ, বদলে যেতে থাকে তাঁকে ঘিরে আবর্তিত দুনিয়া। পাঠককে ঘিরে থাকা মানুষদেরও পাঠক চিনতে থাকে চট জলদি এবং ক্রমান্বয়ে সেই সব মানুষও বদলাতে থাকে ধীরে ধীরে।

পাঠক-লেখকের মধ্যে যখন পারস্পরিক মেলামেশা হয়ে যায়। তখন পাঠক তাঁর প্রিয় লেখককে খুঁজতে থাকে, দেখার করার জন্য মন ছুটতে থাকে উসাইন বোল্টের গতিতে। তা স্বাভাবিক। যখন পাঠক তাঁর প্রিয় লেখকের দেখা পেয়ে যায় ,তখন পাঠক কি ভাবে? অথবা পাঠকের তৎক্ষণাৎ কি চিন্তার উদয় হয় তাঁর মন-মগজে? সে কি আনন্দে মাতোয়ারা? সে কি মর্মান্তিকভাবে হতাশ?

একজন পাঠক যখন তাঁর প্রিয় লেখকের সাথে মিশে, কথা বলে তখন সে হতাশও হতে পারে। তার প্রধানতম কারণ হতে পারে, যে প্রিয় লেখকের বই তাঁর চিত্তে দাগ কাটে, সমস্ত দিন-রাত তোলপাড় করে, চোখের নিদ্রা ওড়িয়ে দেয়, সে লেখক বাস্তবে হিতে বিপরীত, তাঁর লেখার সাথে ব্যক্তি লেখকের কোন মিল নেই। অভ্যাসগত, আচারণগত, কথা বলার গতানুগতিক রুপ পাঠককে হতাশ করে। সে ভাবতে পারে এই ব্যক্তিই কিভাবে এ রকম ঋদ্ধ লেখা লিখেছে! কিভাবে তা সম্ভব! দেখে তো তা মনেহয় না! হয়তো ভেবেই ফেলে, দেখতে তো দেখি বোকাসোকা অথবা ভাবতে পারে ধান্দাবাজ, ঠকবাজ, প্রতারক, অনর্গল মিথ্যা বলে, মুখোশ পরে থাকে, রগচটা, একরোখা, মারাত্মক অহমিকার মিনার চূড়ায় বসে থাকে, খ্যাতির লোভে মরিয়া, অমিশুক, হিংসুটে, অন্তমুর্খী ইত্যাদি ইত্যাদি হয়তো পাঠক কথা বলতে বলতে ভেবেই নিতে পারে যে, এই ব্যক্তির (লেখক) তো আমার (পাঠক) চেয়ে জানাশোনা কম! তার কারণ হতে পারে, পাঠক তখন তাঁর প্রিয় লেখকের লেখার সাথে দেখা হওয়া লেখকের সামঞ্জস্য করতে থাকে। যখন দেখে পাঠক তাঁর প্রিয় লেখকের সাথে তারঁ চোখে দেখা, কথা বলা প্রিয় লেখককে এক করতে পারেন না তখনই হতাশার উদ্ভব ঘটে।

সব পাঠক কিংবা সব লেখকের ক্ষেত্রে উপরোক্ত ভাবনা যেমন সত্যি নয় ঠিক তেমনি পাঠক-লেখকের ভালোবাসা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রগাঢ় সম্পর্কও ঘটে। লেখকরা তো আর মানুষের উর্ধ্বে নন লেখকদের রাগ আছে, আছে ক্ষোভ, হতাশা, ভালোবাসা সব মিলিয়ে রক্ত মাংসের মানুষ। কিন্তু পাঠক যখন ভেবে নেয় লেখকরা উদার, অহিংসা, মানবতাবাদী, সত্যবাদী এই ভাবনার ভিতর থেকে যখন প্রিয় লেখকে মূল্যায়ন করতে যায় ঠিক তখনই বিপত্তিটা বাধে। প্রতিটি লেখককে ব্যক্তি জীবনে তার সময়ের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়, লড়াই করতে হয় তলাবিহীন সমাজের সাথে, পৃথিবীর ভিতরে অমানুষদের গড়া বিভিন্ন ব্যবস্থার ভিতর দিয়ে যেতে হয়, সমস্ত পৃথিবীর বিভিন্ন শ্রেণি মত-পথের ভিতর দিয়ে যেতে হয়, লেখককে বাঁচতে হয় পৃথিবীতে থেকে। ফলে লেখককে বিভিন্ন পন্থার অবলম্বন করে টিকে থাকতে হয় যা নিশ্চয় লেখক তাঁর ক্ষুরধারা লেখনীর ভিতরে ফুটিয়ে তুলেন অবচেতনে, উহ্যরুপে কিংবা স্পষ্টরুপে যা পাঠককে খুঁজে নিতে হয়।

পাঠক হিসেবে আমি এই দ্বন্দ্বগত অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে। আমার কাছে মনে হয়, একজন পাঠক তার প্রিয় লেখকের সাথে দেখা না করাই শ্রেয়! তাতে করে পাঠক তাঁর প্রিয় লেখককে লেখকের লেখার মধ্য দিয়ে যেভাবে খুঁজে পায় সেভাবেই অটুট থাকুক। যেভাবে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দিয়ে কল্পনার রাজ্যে দাঁড় করান সেভাবেই তাঁর প্রিয় লেখক অটুট থাকুক।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×