somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীরার বিয়ে

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৮ম অংশের পরঃ
(বিয়ের প্রথম সকাল ১)


সকাল বেলা নীরার ঘুম ভাঙল বড় আপার ফোনে । এই সেল ফোন টা নীরার নামেই কেনা হয়েছিলো । ইউনিভার্সিটি তে যাওয়ার সময় ফোন টা থাকতো ওর সাথে কিন্তু ফোনে রিচারজ করার অনুমতি ছিল না।“নীরার কখনো দরকার ও মনে হয়নি । কাকে কল করবে ও? বাবা মা দরকার হলে ওকে কল করত । শেষ কিছুদিন থেকে ফোন টা মায়ের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ঢুকানো ছিল । বিয়ের দিন নীরা মাকে বলেছিল “ ফোন টা ড্রয়ারে রাখা আছে। “ (মা যেন না মনে করে নীরা এই বাড়ির কিছু চুরি করে নিয়ে গেছে) । একথা শুনে কি মনে করে বাবা বলেছিল “ফোন টা তুমি নিয়ে যাও।“
সকাল বেলা ফোন করেই বর আপা বললঃ “কিরে রেজা কি হাত ধরেছিল নাকি রাতে? আমি তো ভাবলাম একা বাড়িতে সারা রাত রেজা তোকে তাড়া করে বেরাইসে ধরার জন্য, আর তুই দউরাই বেরাইসিস পালানোর জন্য। তুই আবার চিৎকার চেচামেচি করে মানুষ জড় করিস নিত? হাহাহা”
নীরাঃ না আপা, হাত ধরেনি ।
আপাঃ তুই হাত ধরিস নি?
নীরাঃ আমি হাত ধরব কেন?
আপাঃ আচ্ছা বুঝসি। হাত তাত ধরলে আমাকে জানাবি, মা আমাকে বলেছে তোকে জিজ্ঞাসা করতে । ছেলে আবার নপুংসক কিনা জানা দরকার।
নীরা মনে মনে ভাবে ছেলে নপুংশক হলে কি বাবা মা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে? ছেলে কি কেমন এটা এখন জানা কি আসলেই মায়ের দরকার নীরাকে উদ্ধার করার জন্য? বরং নীরার ধারনা মা এমন একটা খবর পেলে সবাইকে ডেকে ডেকে জানাবে । মায়ের মধ্যে কিছু পৈছাশিক উল্লাসের ব্যাপার আছে ।মানুষের দুঃখে মা কেন যেন খুশী হয় । মায়ের পাগলের গুষ্টির মধ্যে সব থেকে বড় পাগল (নীরার মতে) যেই মামা (পাভেল মামা) সে নাকি প্রতিদিন রাতে বউ পেটায় ( ভয়ংকর রাগের কারনে এই মামাকে সবাই ভয় করে। অন্যের জন্য কাজ করা মানে সম্মান হানি ভেবে এই উনি কোনদিন চাকরি করেনি । সারা জীবন বাবার রেখে যাওয়া টাকাতেই জীবন চালিয়েছেন আর জীবনের সব না পারার গ্লানি মিটাতে চেয়েছেন বউকে মারধর করে। নীরা মাঝে মাঝে ভাবে মামী এই বদ লোকটার সাথে থাকে কেন? বড় আপাকে জিজ্ঞাসা করায় বড় আপা বলেছিল, “মামীর যাওয়ার কোন জায়গা থাকলে অবশ্যই যেত ।“ এই মামীটার জন্য খুব খারাপ লাগে নীরার । কেন মানুষের জীবন এত কঠিন হয়? )
তবে মায়ের ভাষ্যমতেঃ “চোরের মেয়েরে আমাদের বাড়ির বউ করা হয়েছে, এটাই তো ওর সাত জন্মের ভাগ্য । এখন কি ওকে মাথায় করে রাখতে হবে? ওই রকম বেড়াল মুখো মেয়েদের জীবন এমনই হয়।“(পাভেল মামার কেন এই চোরের মেয়ের ( মায়ের ভাষ্যমতে) সাথে বিয়ে হল, সেটাও এক বিরাট ইতিহাস, পাঠকদের সেই গল্প ও না হয় আরেকদিন শুনাব)।
গোসল করে আসার পর নীরা লুকিয়ে রেজা সাহেবের দিকে কয়েকবার তাকাল । রেজা সাহেব কি ভাবছে বউ বদলায় গেছে? কিন্তু রেজা সাহেবের মুখে তেমন একটা ভাবান্তর দেখা যাচ্ছে না, মনে হয় খেয়াল করেনি । একটু পরে নীরার দেবর ননদেরা সকালের নাস্তা আর সাথে একটা হারমোনিয়াম নিয়ে আসল । খাওয়া দাওয়ার পর নাকি এখানে গান বাজনা হবে ।
একটু পরেই নীরা বুঝল, এটা একটি একক সংগীত সকাল, যেখানের একমাত্র শিল্পী ছোট ননদ পাপড়ি । তার সেই তাল লয় ছাড়া একের পর এক গানের সময় নীরার কেন যেন শুধু মায়ের কথা মনে পরছে । মা এখানে থাকলে কি বলত এখন? নীরার কোন কারন ছাড়াই মায়ের জন্য মন কেমন করা শুরু হল ।
....................................................................................চলবে
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:২৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট ব্যবসা, বড় আইডিয়া: প্রযুক্তি না নিলে পিছিয়ে পড়বেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩



বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা (SMEs) মানেই হচ্ছে “চা খেতে খেতে বিজনেস প্ল্যান” - কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন শুধু চা আর আড্ডা দিয়ে ব্যবসা চলে না, দরকার প্রযুক্তির ব্যবহার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্তানকে দ্বীনদার হিসেবে গড়বেন যেভাবে

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

মুসলিম বাবা-মা হিসেবে কখন থেকে বাচ্চাকে ইসলাম সম্পর্কে ধারনা দিবো? এজ আর্লি এজ পসিবল।
মনে হতে পারে বাচ্চা বুঝবে না, কিন্তু ব্রেইন ঠিকই ক্যাচ করে নিবে।
একটা রাফ গাইডলাইন আছে এখানে বাচ্চার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেষ বিকেল Last Afternoon

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৫

এই পৃথিবীতে শেষ বিকেলে আমরা কেটে ফেলি দিনগুলো
আমাদের শরীর থেকে, আর গুনি সেই হৃদয়গুলো যা আমরা নিয়ে যাব
এবং যেগুলো যাব এখানে রেখে। সেই শেষ বিকেলে
আমরা কোনো কিছুকে বিদায় বলি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×