মানব দেহ।
বড়ই আজব একটি কারখানা।এটি এমন এক কারখানা যাতে একই সাথে নানা রকম কুপ্রবৃত্তি ও সুকুমার বৃত্তির সম্ভাবনারা বাস করে।এই কারখানার দুটি অংশ।একটি লোভ,লালসা,হিংসা,বিদ্বেষে আবর্তিত।অন্যটি ভালবাসায় পরিপূর্ণ।
লালন ফকির দেহতত্ত্ব নিয়ে একটি গান গেয়েছিলেন যার শুরুটা ছিল এরকম-
"দেহের মাঝে বাড়ি আছে,
সেই বাড়িতে চোর লেগেছে,
ছয়জনাতে সিদ কেটেছে,
চুরি করে একজনা।"
এই গানে বলা হয়েছে যে দেহের মাঝে একটি বাড়ি আছে।সেই বাড়িতে একদিন ছয়জন মিলে সিদ কেটেছে।এবং সেই ছয়জনের প্ররোচনায় অন্য একজন চুরি করেছে।মূলত গানটিতে রুপকের অন্তরালে কিছু আধ্যাত্বিক বিষয় ফুটে উটেছে।
মানব দেহে যোগ সাধনার ৭টি চক্র হয়েছে।যথাঃমূলাধার,স্বাধিষ্ঠান,মণিপুর,অনাহত,বিশুদ্ধ,আজ্ঞা,সহস্রার।১ম টি বাদ দিয়ে বাকী ৬টি চক্র মনে সিদ কাটে।এই ৬টি চক্রকে একত্রে বলা হয় 'ষড়রিপু'।এদের প্ররোচনায় পড়ে 'পরমাত্মা' নামে পরিচিত মুলাধার চুরি করে।মুলাধার হচ্ছে বাউলতত্ত্বের প্রতীক।বাউল তত্ত্বে একে আখ্যায়িত করা হয় সহজ মানুষ,রসের মানুষ,মনের মানুষ,আলেক মানুষ বলে।
মানব দেহে ৫টা ইন্দ্রিয় রয়েছে।যথাঃহস্ত,পদ,চক্ষু,কর্ণ,নাসিকা।পঞ্চইন্দ্রিয় ও ষড়রিপুর নানা প্রবঞ্চনায় পড়ে মানুষ অনেক সময় গতিপথ হারিয়ে জগতের মোহ ও আকর্ষণে পড়ে ভুলে যায় তার নিজের অস্তিত্ব,নিজস্ব সত্ত্বা।এটাই নিয়ম।কিন্তু পঞ্চইন্দ্রিয় ও ষড়রিপুর প্রবঞ্চনায় আবদ্ধ মানবদেহে অন্যদিকে আছে সুকুমার বৃত্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা।এ জগতে নানা মোহ ও আকর্ষণের সংগে প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়েই প্রবাহিত হয় মানুষের জীবন।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


