তখন ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলছে।এমন ই একসময় হাংগেরির বুদাপেষ্টে এরোপ্লেন ইঞ্জিনিয়ার এর্নো রুবিক সিনিয়র ও কবি মাগদোলনা-র ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান।নাম রাখা হয় পিতার নামে,এর্নো রুবিক জুনিয়র।তারিখটি ছিল ১৯৪৪ সালের ১৩ই জুলাই।রুবিক বড় হল,বুদাপেষ্টের টেকনিকাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্থাপত্যবিদ্যার স্নাতক করল।৭১-৭৫ পর্যন্ত স্থপতি হিসেবে কাজ করার পর অধ্যাপনা শুরু করলেন বুদাপেষ্ট কলেজ অব আপ্লোয়েড আর্টসে।

১৯৭৪ সালে খেলার ছলে বানিয়ে ফেলেন বর্গাকার একটি খেলনা,যা নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামানো যায়,টাইম-পাস করা যায়।১৯৭৮ সালে কি মনে করে তিনি সেই বর্গটাকে বা কিঊবটাকে বুদাপেষ্ট আন্তর্জাতিক মেলায় প্রদর্শন করলেন।ব্যাস,পড়ে গেল শোর।মাতামাতি শুরু হয়ে গেল এই কিউব নিয়ে। ব্রিটেন,ইঊরোপ,আমেরিকায় লাখে লাখে বিক্রি হতে থাকে।রীতিমত কিঊব ম্যানিয়ায় রুপ নেয় সেটা। স্যাম লয়েডের ফিফটিন পাজলের পর আর কোন কিছুই এত ল্টা আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি।তার নামে খেলনার নাম হয়ে গেল রুবিক কিঊব।

রীতিমত অমর করে দিলেন তাকে।কিন্তু তিনি এখানেই থেমে থাকলেন না।আবিস্কার করেন রুবিক স্নেক,রুবিক পিরামিড,পিরামিক্স,মিরর কিউব মত দূর্দান্ত সব মজার ধাধা।১৯৮০সালে কিছুদিন একটু গেম এন্ড পাজল জার্নালের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেন।তারপর নিজেই রুবিক স্টূডিও নামে প্রতিষ্টান খুলে বসলেন।

তার সবচেয়ে বিখ্যাত আবিস্কার রুবিক কিউব টা হচ্ছে আসলে ২৬টি টুকরাবিশিষ্ট (টুকরোগুলোকে কিঊবলেট বলে, ষড়ভুজ আকৃতির একটি খেলনা।
এতে ৬পাশে ৬টি কালার থাকে। কালারগুলো মিলানো রুবিক কিঊব সমাধানের উদ্দ্যেশ্য। এ পর্যন্ত আমার জানামতে গিনেস বুক অব রেকর্ড ৩.২৩সেকেন্ড। বাংলাদেশে এই রেকর্ডটি সাকিব ইবনে রশিদর হাতে। তার সর্বনিম্ন ৬.৫৫সেকেন্ড।
এই পোষ্টির সমাপ্তি টানব ছোট্ট একটি তথ্য দিয়ে। আগেই বলেছি রুবিক্স কিঊবে ২৬টি কিউবলেট থাকে যা নাড়ানো যায়। এই কিঊব দিয়ে বরাবর ৪৩২৫২০০৩২৭৪৪৮৯৮৫৬০০০ রকম নকশা করা যায়। আর কিউব দিয়ে এত নকশা তৈরীর পিছনে ভুমিকা রাখছে গণিতের একটি সুত্র,যাকে আমরা "সিমেট্রি অব ম্যাথম্যাটিক্স" বলি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২১ সকাল ৯:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



