" যদি দেখি নীল আকাশ……তোমার
চোখে দেখে……
সাদা মেঘদল…
থাকি নীলিমা জুড়ে………
যদি বলি তুমি ভোর……আর শুদ্ধ
অনুভুতি ধরে
আমার আছো অস্তিত্ব জুড়ে…… "
গানটা সারাদিন কানের
কাছে বাঁজতে থাকে অর্ক র। কলেজ
প্রোগ্রাম এ শোনা এই গানটির
প্রতি আলাদা একটা মোহ
সৃষ্টি হয়েছে। যদিও গানটা কোন
প্রফেশনাল গায়কের গলায় শোনা নয়,
তবুও
আলাদা একটা মায়া আছে গানটিতে।
গানটি অবশ্য তারর কলেজের কোন
একটা মেয়ের গাওয়া। মেয়েটির
গলায় অসম্ভব মায়া। এই সব
চিন্তা করতে করতে মোবাইল
টা হাতে নিল অর্ক কল দিল অভ্রকে।
--- হ্যালো দোস্ত
--- হুম বল।
--- একটা সমস্যায় পড়ে গেছিরে। ---
কি হলো আবার?? কোন
ঝামেলা??
--- আরেহ তেমন কিছু না।
--- তো তাইলে???
--- আর বলিস নাহ
আজকে প্রোগ্রামে "যদি দেখি নীল
আকাশ"
এই
গানটা যে মেয়েটা গেয়েছো চিনোস
ওকে?মম
--- অহ!!! এই কথা??? তো বন্ধু হঠাৎ
আপনার এমন কি হলো।??? হুম??
--- আরে প্যাঁচাল পারিস
না তো চিনোস কিনা তা বল।
--- হুম চিনি। ওর নাম হলো ঐশি। টুটটুট
টুট।।
কলটা কেটে দিলো অর্ক। মনে হয় সাত
সাগার তের নদী পার হয়ে প্রশ্নের
উওর আনলো।
যদি দেখি নীল আকাশ……তোমার
চোখে দেখে……
সাদা মেঘদল…
থাকি নীলিমা জুড়ে………
যদি বলি তুমি ভোর……আর শুদ্ধ
অনুভুতি ধরে
আমার আছো অস্তিত্ব জুড়ে……
গানটা মনে মনে গাইতে থাকে অর্ক।
অর্ক মূলত একটা আলাদা প্রকৃতির।
সারাদিন একা একা থাকে। তার বন্ধু
বলতে অভ্রই।
মেয়ে বন্ধু নেই বললেই চলে। অবশ্য অর্ক
নিজেই মেয়েদের
থেকে দুরে দুরে থাকে।
আর আজকে সেই অর্কই
কিনা একটা মেয়ের ব্যাপারে এত
কিছু চিন্তা করছে। মেয়েটার গলায়
মায়ায় অর্ক কেমন মায়াবদ্ধ হয়ে গেল।
রাতে মনে হয় কম করে হলেও ১০০+
গানটা গায়।
মেয়েটার
কথা চিন্তা করতে করতে কখন
যে ঘুমিয়ে পড়ে অর্ক তা নিজেও
জানে না। মানুষ চিন্তায় মগ্ন
হলে আসে পাশের কিছুই যে খেয়াল
থাকে না তার জ্বলন্ত প্রমান।
সকালে ঘুম ভাঙ্গে আম্মুর ডাকে।
কিরে হারামজাদা কলেজ
যাবি না???
আর কত ঘুমাবি?? উঠ।
নাস্তা করে কলেজ যা।
সকালের নাস্তাটা শেষ
করে কলেজের দিকে রওনা হয় অর্ক।
গানটা এখনো তার চিন্তায় ঘুরপাক
খাচ্ছে ।
মানুষ যখন একটা ব্যাপার
নিয়ে বেশি চিন্তা করে তখন
সেটা বেশি সময় স্থায়ী হয়।
আপনি ভুলতে চাইলেও পারবেন না।
রিক্সা থেকে নেমেই দেখে অভ্র
দাড়িয়ে।
কিরে ব্যাটা লেট কেন??
রাতে ঘুমাইসোস
তো নাকি সারারাত
জেগে জেগে চিন্তাই করলি।
--- না ঘুমাইছি। একটু লেট করে ঘুম
ভাঙ্গলো। তো তুই কখন আসলি?? একটু
আগেই। আর এসেই তোমার চিন্তার
বিষয়কে দেখে ফেললাম। ---
মানে?? কি বলোস??
ন্যাকামি রাখো বন্ধু।
ঐশিকে দেখলাম।
--- কই???
লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছে। মনে হয়
লাইব্রেরিতেই আছে।
আচ্ছা দোস্ত বাই। কাজ আছে। বলেই
হন হন করে হাটা শুরু করলো অর্ক। গন্তব্য
লাইব্রেরি।
সে যে রেগুলার যায় তেমমন কিছু নয়।
সাধারনত কলেজ এর মার্ক সীট
দেখতে যাওয়া হয়। তাছাড়া না।
কিন্তু আজকে কোন একটা মোহ
তাকে ডেকে নামিয়ে যাচ্ছে। এ
মোহ এর কি নাম হবে তা আমার
জানা নেই। তবে কম বেশি সবাই র ই
আছে ।
৫ মিনিট হাটার পর পৌছে গেল
লাইব্রেরি তে । পশ্চিম
কোনে জানালার পাশে বসে বই
পড়ছে ঐশি।
হালকা বাতাসে চুল গুলো উড়ছে।
দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।
সে যে এখানে রেগুলার
আসে তা দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কোন
কিছু চিন্তা না করেই ঐশির
সামনে বরাবর
রাখা চেয়ারটাতে দপাস করেই
বসে পড়ে অর্ক।
চশমাটা নাকের উপর থেকে একটু
উপরে তুলে তাকালো ঐশি।
একটু লজ্জাই পেল অর্ক।
আবার নিস্তব্ধতা গ্রাস
করলো লাইব্রেরির পরিবেশকে।
গলায় ভয় ভয় নিয়ে অর্ক
নিস্তব্ধতা ভাঙ্গলো অর্ক। --- আপনার
গানের গলাটা অসম্ভব সুন্দর।
হঠাৎ কথা শুনে কিছুটা অবাক
হলো ঐশি,
--+ জ্বি ধন্যবাদ। কিন্তু আমার
তো তেমন মনে হয় না। বৃষ্টিইতো জোর
আমার নামটা দিয়ে দিল। অথচ
আমাকে একবার ও বলেনাই।
কালকে যখন আমার নাম ডাক
পড়লো আমি থো হয়ে গিয়েছিলাম।
পরে কি আর করার প্রিপারেশন
ছাড়া গাইলাম।
ঐশির কথা গুলা হা হয়ে শুনছিল অর্ক।
যেন সে এখন অন্য জগতে।
কথা শেষ হওয়া মাএ বলল।
সত্যি বলছি আপনার গানের গলা অনক
সুন্দর। বাই দা ওয়ে আমি অর্ক।(যদিও
নাম জানতো অর্ক।)
-- আমি ঐশি।
অনেক সুন্দর নাম। তোমার গলার মত।
তুমি কি রেগুলার
আসো লাইব্রেরি তে।।
ইস ইস
স্যরি স্যরি তুমি করে বলে ফেললাম।
বলেই হাপিয়ে উঠে অর্ক।
যেন কোন মহাযুদ্ধের যোদ্ধা। ইটস
ওকে। সমস্যা নেই।
হুম বই পড়া আমার নেশা। সময় পেলেই
আসি।
তোমাকে তো আজকেি দেখলাম
প্রথম এখানে।
কথাটা শুনে কিছুটা লজ্জাই পেল
অর্ক।
হুম আজকেই প্রথম। সময় তেমন একটা পাই
না তো। আচ্ছা এখন যাই। ক্লাস
আছে পরে আবার দেখা হবে কেমন।??.
আচ্ছা। বাই।
এমন করে প্রায়ই
লাইব্রেরি তে কথা হতো তাদের।।
অর্ক এখন লাইব্রেরির নিয়মিত সদস্য।।
একদিন অর্ক হুট করেই বলে বসে পাশের
কফিশপটায় যাবে??.?
বলেই মাথা নিচু করে বসে পড়ল অর্ক।
কিছুটা অবাক হয়েই ঐশি বলল
আজকে তো পারছি না। সমস্যা নাই
কালকে পারবো। কি বলো??
-- হুম ওকে।
কথা শেষ হওয়ার পর উঠে চলে যায় ঐশি।
তারপর ও আরো ৩০-৪০ মিনিট বসে থাকে অর্ক।
নিজের কথা গুলোই ভাবছে। হুট
করে কফিশপে যাওয়ার কথা বলা কি ঠিক হলো??
হ্যান ত্যান।
অর্ক দিনটা কেমনে পার করলো সে নিজেই জানে।
পরের দিন
বিকেল ৪টা।
একটি ছেলে কফিশপের পশ্চিম
কোনে বসে আছে এটা যে অর্ক তার কোন সন্দেহ
নেই।
হঠাৎ করেই পশ্চিম আকাশ
কালো করে বৃষ্টি পরা শুরু হলো। যেন
পুরো আকাশটা ঐশির আসার পথে স্বাগতম করছে
জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছে অর্ক।
বৃষ্টি দেখতে ভালোই লাগে ।
বৃষ্টি দেখতে দেখতে আনমনে হয়ে গেল অর্ক।
তার মাথার রাজ্যের ভাবনা।
( বৃষ্টি মানুষকে অতি মািএক ভাবুক করে তুলে)
স্যরি স্যরি একটু লেট হয়ে গেল। অনেক দ্রুত
কথা গুলো বলেই দপাস করে বসে পড়ল ঐশি।
ঐশির কথাই বাস্তবে ফিরে অর্ক।
--- সমস্যা নেই।
ঐশি আজকে কালো রং এর জামা পড়ে আছে।
যেমন নীল আকাশের বুকে এক চিলতে কালো মেঘ
সুন্দর তেমনি ঐশিকে ও লাগছে।
কথাটা চিন্তা করতেই অন্য জগতে চলে যায় অর্ক।
কফি খেতে খেতে তারা একথা ও কথা বলে।
একে অন্যের ব্যাপারে বলে।
নিজে দের মধ্যে মোবাইল নাম্বার আদান প্রদান
করে।
বৃষ্টি থামলে তারা বের হয়ে যায়।
রাত ১১টা ১২ মিনিট।
অর্ক মোবাইল এর ডায়াল প্যাড এ
নাম্বারটা তুলে বসে আছে কল দিবে কিনা দিবে এ
নিয়ে চিন্তায় মগ্ন
হঠাৎ কি ভেবে কল দিয়ে বসলো তিন চার বার
রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে কল রিসিভ হয়।
---- হ্যালো।
--+-- হুম অর্ক। কি অবস্থা ।
-----+ এইতো। তোমার???
---- হুম আমিও। কি করো??
এমন করে প্রায় প্রতি নিয়ত কথা বলতো,
দেখা হতো যার সাক্ষী হেডফোনটা ।
দিন দিন অর্ক ঐশির প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ছে।
হঠাৎ করেই ঐশির মোবাইল
বন্ধ,কলেজে আসে নাহ। এ যেন সুন্দর
আকাশে কাল বৈশাখী ঝড়।
১দিন ২ দিন করে ৮ টা দিন পার হয়ে যায়।
হঠাৎই খবর পায় ঐশি ACCIDENT করে হসপিটাল এ
এডমিট।
খবর শুনার পর পাগলের মত ছুটে যায় অর্ক।
গিয়ে যা শুনে তাতে তার অবস্থা আরো খারাপ
এক্সিডেন্ট করে ঐশির চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গেছে।
৫ দিন পর :
একটি বালক তার মনের কথা বলছে বালিকাকে
বালক : বালিকা হবে কি তোমার
কাঁধে একটু ঠায়,
যেথায় হবে আমার শেষ আশ্রয়....
বালিকা দিবে কি আমায়,
তোমার কাঁধে একটু ঠায়?????
কুয়াশার দীর্ঘশ্বাস, আমার উচ্ছাস,
রমনী তোমার বুকে পডুক আমার শেষ
নিশ্বাস।
বালিকা : ওহে বালক হবে কি তোমার ঐই হাতের
পাঁচ আঙ্গুলের ভাজে আমার জায়গা,
যেথা রাখবো হাত সারাবেলা??
বালক বালিকাটি আর কেউ নয়। আমার গল্পের
অর্ক আর ঐশি।
৫ দিনে আগে কি হয়েছিল জানেন???
শুনুন তবে
অর্ক তার একটি চোখ ঐশিকে দিয়ে দেয়
কি হবো চোখ দিয়ে যদি না পাই অপলক দৃষ্ট
সুন্দর হোক ভালবাসা।
সুন্দর হোক ধরনী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



