somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমের রেজালা

২১ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালোবাসার ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে এর চেয়ে সুলভ জিনিস এই ডিজুস যুগে আর দুটি নেই। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো যখনই ৫০০ ফ্রি এসএমএস-জাতীয় অফার ছুড়ে দেয়, তখনই কয়েক হাজার সম্পর্কের বীজ ঢুকে পড়ে বিভিন্ন নম্বরে। একটা সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর এই অসামান্য অবদান সত্যিই প্রবাদতুল্য।এখানে একটা সম্পর্কের রিভিউ তুলে ধরা যায়।

রাত ১২টা বেজে এক। কোনো এক তরুণ আয়েশি ভঙ্গিতে খাটের ওপর আধশোয়া হয়ে কাঁধের নিচে দুটো বালিশ আর পায়ের নিচে একটা কোলবালিশ রেখে ডায়াল করা শুরু করল তার নিজের নম্বরের উল্টো দিক থেকে। যেমন, তার নাম্বার যদি হয় ৩৬৯, তো সে ডায়াল করল ৯৬৩ নাম্বারে। ওপাশ থেকে গুরুগম্ভীর কোনো এক মাঝবয়সী আংকেলের ভয়েস ভেসে এলে লাইন কেটে দিয়ে ক্রমান্বয়ে একটা বা দুটো সংখ্যা পাল্টে পাল্টে ডায়াল করতে থাকল। মাত্র কিছুক্ষণের ধৈর্যের পরীক্ষা, তারপর—


ওপাশ থেকে মেয়েটি প্রথমেই জিজ্ঞেস করবে

—কে?

ছেলেটি বলবে,

—এটা কি নীরার নাম্বার?

—না, রং নাম্বার।

—আপনি কে, জানতে পারি? —আপনার নাম?


—সেটার কী দরকার?

—না মানে, এমনিই, কৌতূহল।

—অতি কৌতূহল ভালো না, রাখি।

—না, শোনেন শোনেন, একটু কথা বলি।

—কেন বিরক্ত করছেন?

—কই, বিরক্তি করছি কোথায়? আমি কি কোনো অভদ্র আচরণ করেছি?

—এত রাতে আননোন কোনো নম্বরে ফোন করে আলাপ জমাতে চাওয়াটাও কিন্তু কোনো ভদ্রলোকের কাজ নয় (দেখেন পাঠক, দেখেন, মেয়েটাও কিন্তু ফোন রেখে দিচ্ছে না, এখানেই মজা)।

—না, আসলে খুব নিঃসঙ্গ লাগছিল তো।

—আচ্ছা, তাই? তো আপনার নীরার নম্বরে ট্রাই করেন (দেখেন পাঠক, দেখেন, মেয়ে তার নিজের অজান্তেই নীরার প্রতি কিঞ্চিত্ জেলাস ফিল করছে, এখানেই মজা)।

—নীরা কে?

—বারে, আপনি তো ফোন করে নীরাকেই চাইলেন।

—তাই নাকি? ইন্টারেস্টিং তো!

—আপনি বলতে চান, আপনি নীরা নাম্নী কাউকে চাননি?

—মনে পড়ছে না, চাইতেও পারি। যদিও এ নামে কাউকে চিনি না আমি।

—এ নামে কাউকে চেনেন না? তবে যে খুঁজলেন!

—না চিনলে কি খোঁজা যাবে না? আমি তো আমাকেও চিনি না, তাই বলে কী প্রতিদিন নিজেকে বয়ে বেড়াচ্ছি না?

—বাহ্, আপনি একটা আজব তো (দেখেন পাঠক, দেখেন, মেয়েটা টোপ গিলে ফেলেছে, এখানেই মজা)।

—যা হোক, আচ্ছা, আপনার নাম যেন কী বলেছিলেন...।

—সীমা, হায় আল্লাহ, নাম তো বলে ফেললাম। আগে তো কোনো নামই বলিনি, কেন মিথ্যে বলে আমার নামটা জেনে নিলেন?

—কে বলেছে আগে বলেননি? বলেছেন, আমার মনে পড়েছে, সীমাই বলেছিলেন নাম।

—আশ্চর্য, আমি বলিনি, আমি নিশ্চিত।

—বলেছেন, মনে মনে।

—আপনি মনের কথাও ধরতে পারেন?

—হুঁ।

—আর কী কী পারেন?

—আরও অনেক কিছু পারি, আস্তে আস্তে জানবেন।

—আপনার নাম তো জানা হলো না।

—আমার নাম? আমার নাম যেন কী? দাঁড়ান, একটু দেখে নেই (দেখেন পাঠক, দেখেন, ছেলেটা মেয়েটাকে ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছে এবং সে পারছেও, এখানেও মজা)।

— নিজের নামটাও ভুলে গেছেন?

—না, আসলে অনেক দিন হয় কেউ নাম ধরে ডাকেনি তো, তাই।

—কেন? কেন? কেউ ডাকেনি কেন নাম ধরে?

—কে ডাকবে? কেউ-ই তো নেই আমার (দেখেন পাঠক, দেখেন, এই জায়গাটায় একটু বিশেষ নজর দিন, এখানে ছেলেটি মেয়েটির কাছ থেকে সিমপ্যাথি আদায়ের চেষ্টা করছে, মোবাইল রিলেশনের ক্ষেত্রে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। ছেলেটা নিজেকে যতটা অসহায় করে উপস্থাপন করবে, মেয়েটা ছেলেটার প্রতি ততটাই ‘আহারেসুলভ মমতায় এগিয়ে যাবে, এখানেই মজা)।

—কোথায় থাকেন আপনি? মনে আছে তো?

—হ্যাঁ হ্যাঁ, নামটাও মনে পড়েছে। আমার নাম আকাশ, থাকি অমুক এলাকায়, আর আপনি?

—আমি তমুক এলাকায়।

পাঠক, এরপর ওদের কথাবার্তায় রেখে আপনি দুটো দিন ঘুরে আসুন, যেমন রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠানে চুলায় সবকিছু তুলে দেওয়ার পর উপস্থাপক আর অতিথি কিছুটা সময় গল্পগুজব করে কাটায়, তেমন। দুদিন পর এবার আপনি ঢাকনা তুলে দেখবেন তৈরি হয়ে গেছে সুস্বাদু প্রেমের রেজালা, জিভে ছুঁয়েও অনায়াসে বলতে পারেন—বাহ! চমত্কার! আসুন, আমরা এখান থেকেও কিছু কথোপকথন সংগ্রহ করি।

—জান, আকাশের চাঁদটা দেখছ?

—হুঁ।

—কেমন লাগছে?

—ভালো।

—শুধু ভালো?

—না, তোমার মতো ভালো, তুমি ওই চাঁদের গায়ে একটা চিহ্ন এঁকে দাও না, আমি দেখি!

— উঁহু, চাঁদের গায়ে আমি কোনো চিহ্ন আঁকব না, তোমার হাতে আঁকব, দিবে আঁকতে?

—দুষ্টু...

(দেখেন পাঠক, দেখেন, আর সামনে এগোনো যাচ্ছে না, এখানেই মজা)।

সুস্বাদু হালের প্রেম-রেজালা।

সংগ্রহঃ রস+আলো
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×