আমাদের একটা চরম অসভ্য শিক্ষক ছিল। মেয়েদের সাথে অশোভন আচরণ করায় তার বিরুদ্ধে আমরা মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে অভিযোগ করি। প্রায়ই দেড় বছর ধরে এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলে। মজার ব্যাপার হল, ছেলেরা প্রথমে কেউই এগিয়ে আসেনি। এমন না যে ছেলেরা কেউ তার স্বভাব সম্পর্কে অবগত ছিল না। কিছু ক্ষেত্রে তারা সুবিধাও নিত এটা বলে স্যার তো মেয়েদের পছন্দ করে তাই তুমি মেয়ে তুমিই কাজটা করো।
তারা এগিয়ে আসেনি এর পেছনে কারণ ছিল, ওই শিক্ষক ভীষণ ভাল পড়াতেন, ভাল গ্রেড দিতেন! ছেলেদের ওই সময়কার স্বার্থপরতার জন্য ব্যাপারটা শেষ হতে অত দিন লেগেছিল। আমরাও নানান মানসিক টেনশনে ভুগেছি। শুধু মনে হত উনি ফিরে আসলে আমাদের কী হবে! হয়ত আমাদেরই শিক্ষা জীবন বরবাদ করে দিবে।
এগিয়ে তো আসেইনি বরং নানান উলটা পালটা কথা বলত। সব না জানার ভান করে জিজ্ঞেস করত, আসলেই কী স্যার এমনটা করেছিল? নাকি তাকে ফাঁসানো হচ্ছে!!!
তারপর আরেকজনের বিখ্যাত ডায়ালগ ছিল, "এই মেয়েগুলোর কী এমন চেহারা যে স্যার তার সুন্দরী বউকে রেখে এদের গায়ে হাত দিতে যাবে!"
আরেকজন বলেছিল, "গায়ে হাতই তো দিয়েছে, রেপ তো করেনি, এটা নিয়ে এত মাতামাতির কী আছে!"
ভাগ্যিস, অনেকগুলো মেয়ে ছিলাম তাই তো একজন আরেকজনকে সাপোর্ট দিতে পেরেছি। কিন্তু একটা মেয়ের সাথে এমনটা হলে সে মানসিকভাবে কতটা ভেংগে পড়ত!
ওই সময় দেশের অবস্থা ভীষণ খারাপ ছিল। আমাদের টিচার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল না। বাইরে থেকে টিচার এনে কোর্স শেষ হলেও সেমিস্টার ফাইনাল হত না শুধুমাত্র টিচার না থাকার জন্য। আমরা একটা বড় আকারের সেশনজটে পড়লাম। ছেলেগুলো মেয়েদেরকেই দোষারোপ করত। এর ফলে, মেয়েদের কারো কারো মধ্যে এই ধারণার জন্ম নিলো যে আমাদের জন্যই আমাদের এই হাল। ভুলে গেল যে উনি থাকলে আমাদের এখানে থেকে পড়াটা আরো যন্ত্রণাদায়ক হত।
অভিযোগ জানানোর পর স্যার ব্যাপারটা মিউচুয়াল করতে কয়েকজনকে ফোন দিয়েছিল সে সময়কার কল রেকর্ডগুলো রাখা হয়েছিল। তারপর পলিটিক্যাল এক ছেলেকে ফোন দিয়ে স্যার অনুরোধ করেছিল। পলিটিক্যাল ওই ছেলেও আবার মেয়েদেরকে বলেছিল আর কিছু যেন করা হয়। সত্যি বলতে কি, আমার তখন মনে হত এক সাথে এতগুলো এইরকম টাইপ পুরুষ কিভাবে জমা হল?
যাই হোক, কিছুদিন পরে কতগুলো মানুষ পুরুষের দেখা মিলল। তারা এগিয়ে আসল, সাহায্য করল। বদমাইশটা বিদায় হল।
পরিচিত এক বিশিষ্ট ভদ্রলোক চাকরিচ্যুত ওই শিক্ষকের ব্যাপারে একদিন জানতে চাইলেন। প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন, কেমন পড়াতেন এইসব। তারপর কেন চাকরি গেল শুনতেই আতকে উঠে বললেন, সেকি এই কারণে একটা লোকের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল!
আমার তখন মনে হল উনি যেটা মিন করছেন সেটা হল স্যার যা করছে সেটা কিছুই না!
অনেক রাগ লাগায় বলে দিলাম, আপনি তো জানেনই সব তবে আমাকে কেন জিজ্ঞেস করলেন?? উনি তো খুব ভাল তাহলে উনার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিয়ে আসেন। আমার সাথে কথা বলেন কেন।
উনি বললেন, এখন তোমাদের ওই স্যার যেই চাকরিটা করেন তাতে সব মিলিয়ে ২০,০০০ টাকার মত পায়। আমি জানি উনি এটাই ডেজার্ভ করেন কিন্তু আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের কাউকে এভাবে দেখতে কী ভাল লাগে, বলো?
জীবনটা খুবই সুন্দর। তনুকে মেরে ফেলে ভালই হয়েছে। এই সমস্ত কিছু লোকজন থেকে সুন্দর সুন্দর প্রতিবাদী স্ট্যাটাসের দেখা মিলেছে। তনুর সাথে যতই ইনজাস্টিস হবে, তারা ততো সুন্দর সুন্দর মা বোনকে নিয়ে স্ট্যাটাস মারবে আর প্রমাণ হবে, নারীদের ভাল থাকা নির্ভর করে পুরুষের ওপর।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



