
আমার কাছে শিক্ষক দিবস মানেই শুধু শিক্ষকদের কথা মনে করা নয়।এই দিনটায় আমার শৈশবের দুজন মানুষকে আরও একটু কাছে পাই।
একজন আমার আব্বা।
অন্যজন আমার আম্মা।
আব্বা ছিলেন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘ ছত্রিশ বছর শিক্ষকতা করেছেন।
আর আম্মা ছিলেন একজন হেডমিস্ট্রেস।
অদ্ভুত ব্যাপার,
আমার শৈশবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন মানুষই
জীবনটা শেখানোর পেশায় ছিলেন।
আব্বার কাছ থেকেই হয়তো
বইয়ের সঙ্গে আমার সেই পুরোনো প্রেমের শুরু।
শব্দের ভেতর দিয়ে,
গল্পের ভেতর দিয়ে,
একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে
একটা বড় পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয়।
টলস্টয়ের সেই ‘Golden Trinity’—
কোন সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
কোন মানুষটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,
আর কোন কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বড় হয়ে বুঝেছি,
কিছু প্রশ্নের উত্তর বইয়ে লেখা থাকে না।
কিছু উত্তর মানুষের জীবন দেখেই বুঝে নিতে হয়।
কখনো কেউ যখন বলে,
“স্যার আমাদের এমন ছিলেন...”
তখন মনে হয়—
আমার বাবা শুধু আমার শৈশবের মানুষ ছিলেন না,
তিনি অনেক মানুষের শৈশবেরও একটা অংশ ছিলেন।
কত ছেলেমেয়ে তাঁর কাছে ইংরেজি শিখেছে,
কতজন তাঁর বকা খেয়েছে,
কতজন হয়তো তাঁর বলা কোনো একটা কথা
আজও মনে রেখেছে—
আমি জানি না।
শুধু জানি,
একজন শিক্ষক চলে গেলেও
তাঁর ছাত্রদের ভেতর থেকে
তিনি পুরোপুরি চলে যেতে পারেন না।
আজ শিক্ষক দিবস।
স্কুলের সেই ব্ল্যাকবোর্ড নেই।
চকের ধুলো নেই।
পুরোনো শ্রেণিকক্ষও নেই।
কিন্তু আমার স্মৃতিতে
একটা স্কুল এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
সেখানে আব্বা আছেন—
হাতে চক,
সামনে কালো বোর্ড।
আর কোথাও,
একজন হেডমিস্ট্রেস হয়ে
আম্মাও হেঁটে যাচ্ছেন
সেই পরিচিত করিডোর দিয়ে।
সময় অনেক কিছু মুছে দেয়।
শ্রেণিকক্ষ বদলে যায়।
ব্ল্যাকবোর্ড বদলে যায়।
মানুষও একদিন চলে যায়।
কিন্তু কিছু মানুষকে
সময় কখনো পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারে না।
তাঁরা থেকে যান—
কোনো একটা বাক্যে,
কোনো পুরোনো বইয়ের পাতায়,
কোনো ছাত্রের স্মৃতিতে,
অথবা সন্তানের বুকের ভেতর।
আজ তাই সবার কাছে শিক্ষক দিবস হলেও,
আমার কাছে—
আরেকটা বাবা দিবস।
আর আম্মাকে মনে করার
একটা নীরব দিনও।
সেইসব শিক্ষককে শ্রদ্ধা,
যাঁরা ব্ল্যাকবোর্ডের কালো রঙের ভেতর
আমাদের রঙিন পৃথিবীটা দেখিয়েছিলেন।
— স্বপ্নবাজ সৌরভ
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





