
আসছি আসছি করে সে এসেছিল কাছে। খুশিতে সবাই তাকে বুকে আঁকড়ে ধরি। তার অপেক্ষায় পার হয়েছিল একটি বছর! তাকে নিমন্তন্ন করে আমরা সাজিয়ে রাখি ত্যাগের সামিয়ানায় মনের মেহমানখানা। ত্যাগের পসরা বসাই জিভে, রসনার মুখে পড়িয়ে দেই তালা। এক মাসের জন্য দিনের মুখে তালা মেরে সিলগালা লাগিয়ে রাখি। নতুন করে ফের মনের ঘর সাজাতে থাকি পবিত্রতার চাদর বিছিয়ে। অত:পর সে আসে আমাদের মাঝে শুধু আমাদের কল্যাণের পথে পা রেখে খুব নিরবে। আমরা তাকে গ্রহণ করি সাদরে, আনন্দে। তাকে নিয়ে লিপ্ত হই নিজেদের জন্য পরকালে শান্তি পাওয়ার আশায় কঠিন সাধনা। গোনে গোনে কেটে যায় অবশেষে মেহমানদারিত্বের প্রহর। তার যাবার ডাক এসে যায়। সে প্রস্তুত হতে থাকে দাওয়াত শেষে বাড়ি ফিরবে বলে। আমরা দু:খে হই কাতর। অবসাদ নেমে আসে মনে! বিদায় জানাতে কার না কষ্ট হয় শুনি? যে মেহমান শুধু আসে আমাদেরই কল্যাণের উদ্দ্যেশে, তাকে বিদায় জানাতেই হয় নির্দ্বিধায়! সে চলে যায় পূণ্যির খেয়ায় চড়ে... হাত নেড়ে বিদায়ের আর আমরা গোধূলিয়ায় দাঁড়িয়ে রক্তিম আকাশপানে তাকিয়ে খুঁজতে থাকি দুটি খুশির প্রথম খুশি উদযাপনের সেই বাঁকা আলোটিকে। সে মিলিয়ে যায় ধীরে নিকষ কালোতে। যাবার বেলায় দিয়ে যায় এক আকাশ হাজার সমুদ্র কোটি নদী আনন্দ। অত:পর তাকে ভুলে যেতে থাকি ফের!
তার কল্যাণে কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি পুণ্যি সে আমার মাবুদ জানেন! কতটুকু পাপ বিসর্জন দিতে পেরেছি সে-ও আমার মাবুদ জানেন। শুধু প্রার্থনা সেই উত্তম মেহমানের কল্যাণে যেনো তিনি আমাদের পূর্বের গুনাহ খাতা মাফ করে দেন এবং আগামী দিনগুলোতে যেনো পাপের পথে পা না বাড়াই সে জন্য আমাদের মনে হেদায়েত দান করেন! অনায়াসেই যেনো অশুদ্ধতার পথটিকে আপথ বানিয়ে দেন এবং কাঁটা বিছিয়ে দেন, সে পথে যেনো আর হাঁটতে না পারি-আমীন!

ছবি-নেট কালেক্টেড

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

