somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের ছবি-৩

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১। আমার শৈশব আমি ধরে রেখেছি। রাখতে পেরেছি,এখনো খালি পায়ে হাঁটি ভোরের শিশিরে। বন বাঁদার থেকে তুলে আনি বুনো ফুল, ফড়িং ধরতে ছুটে যাই আনমনে, এখনো আমি অবাক চোখে আকাশ দেখি। পাখির কলকাকলী শুনতে কাক ডাকা ভোরে, মেটো পথ ধরে একা একা হাঁটি, ঘ্রাণ নেই ভেজা মাটির; ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাই শিশির ভেজা সবুজাভ স্নিগ্ধ কিশলয়...... বেগুনী রঙ আকাশে আজো উড়ে দুরন্ত কিশোরী মন।



বিরক্ত করতে আবার এসে গেলুম- প্রকৃতির ছবি তুলতে আমি বড্ড ভালবাসি। অজায়গা কু জায়গা থেেকেও সুন্দর তুলে আনতে তৎপর তা হোক না ভয়ংকরে সুন্দর। স্থির চিত্র তাও আমাদের দেশের প্রকৃতি মোটামুটি দেখে চোখ জুড়াই সবাই্-অনেকেরই ভাল লাগে। ভাই বোনেরা আমি ফটোগ্রাফার না -আর ফটোগ্রাফারের কোন গুণই নাই বলতে গেলে -এবং শেষ কথা এসব কঠিন জিনিস ইউটিউব দেখে শিখতেও পারুম না। যদি কোনোদিন কেউ হাতে কলমে শিখায়ে দেয় শিখে নিবো। যাই হোক। আজকের ছবিগুলোও ট্রেণ থেকে তোলা আর কিছু গ্রামের ছবি। আশাকরি কিছুটা হলেও গ্রামের আবেম পাওয়া যাবে। এবঙ কারো কারো গ্রামে যেতেও ইচ্ছে জাগতে পারে।

২। উচ্ছ্বাসগুলো হারিয়ে গেছে আর সময় বুড়ো হয়ে গেছে। এখন আর এখানে মধুর রস সংগ্রহে লিপ্ত হয়না প্রতিটি ভোরে। অযত্নে বেড়ে উঠেছে আগাছা। আর রসের গাছটি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে দেখে যাছে সভ্যতা হারিয়ে যাওয়ার খেলা। জীবন তো এমনই। ধরে রাখা যায় না অবশেষে ভারসাম্যতা।



৩। দুরুন্তপনার সেই ছেলেবেলা, কাঁদায় মাখামাখি, চঞ্চল মন ছুটে যায় সেই সেই দিনগুলোতে। কাঁদা খুড়ে তুলে আনা মাছের প্রহর। সেই ঘ্রান নাক টানলে আজো যেনো পাই......স্মৃতি রোমন্থনে বেঁচে আছে ছেলেবেলা। শৈশব যেনো এক রঙ বাহার ভুবন-যেখানে ছিল না কোনো চিন্তা-ভাবনা কিংবা মোহ অথবা দম্ভ। শুধু উড়ে বেড়ানোর সময়-ডানাহীন পাখি তবুও উড়ায় নেই ক্লান্তি-দিনভর ব্যস্ত -ডানপিঠে সময়। (ট্রেন থেকে তোলা ছবি)



৪। দৃষ্টির সীমানা ছুঁয়ে থাকে দৃষ্টি বিভ্রম ধূয়াশায়। মোহে আচ্ছন্ন থাকি এবেলা ওবেলা। সে হতে পারে প্রকৃতির মোহ-অথবা রঙিন ধরার রঙিন স্বপ্ন মোহ। কেউ ব্যস্ত থাকি সুন্দর উপভোগে আর কেউ রুটির রুজির সন্ধানে। ওরা কখনো সুন্দর বুঝে না-শুধু গতরে খেটে দুবেলার আহার জুটানোর কাজে ব্যস্ত । সুন্দর হয়ে উঠে ওদের কাছে পানসে। শীতের হিম, ছেঁড়া চাদরে গা জড়িয়ে -শুধু ভাবনায়-ভোর হলেই ফিরে যাবো কর্মে। পায়ের গোড়ালী ফেটে যেনো চৈত্রের খরা-পায়ে কি আর সইচে চায় এমন কর্মব্যস্ত জীবন। ওরা নিজেদের যত্ন চিনে না-বুঝে না। শুধু গতর খাটা পরিশ্রমে নিত্য মন ডুবিয়ে স্বপ্ন দেখে দুবেলা দুটো অন্নের।
সাতছড়ি চা বাগানের মেঠোপথ



৫। ঐ যে দেখছো...... পাতার ফাঁক গলে আলোর ঝর্ণা। আমি ঐ বাঁকেই ছিলাম দাঁড়িয়ে। তুমি তো আগাও নি আর পথ, কিভাবে তবে পাবে আমার দেখা..... জীবনভর তুমি এপাড়ে আর আমি ওপাড়ে..... কেউ কারো দেখা পাবো না হয়তো। এ কেমন অস্পৃশ্য অদৃশ্য ভালবাসা শুধু পুড়িয়েই মারে.......
সাতছড়ি চা বাগানের ভিতর জঙ্গলপথ



৬। আমি তোমার ভোরের মুক্তো
কচু পাতায় বাড়ি
ধরো আমায় পড়ে গেলে
দিয়ো নাকো ছাড়ি।
কুয়াশাতে সেজে আছি
এসো নগ্ন পায়ে
ভালবেসে ঠান্ডা হাতে
ছুঁয়ে দিয়ো গায়ে।



৭। রঙ্গনের ডালে ডালে
লেগে থাকে আগুন
মনে কেনো আসে নাকো
কোনো একটি ফাগুন।
রঙ লাগেনা মনের মাঝার
বিবর্ণ রঙ ছেয়ে
রঙন গাছের ফুল হতে চাই
আমি দু:খি মেয়ে।



৮। সেদিন না তোমায় জলের আয়নায় মুখ দেখালাম-তুমি মুখ ফিরিয়ে নিলে। দেখো আমি কচুরীপানায় ঢেকে দিলাম জল-আমায় আর দেখতে পাবে না। নাই বা দেখলে আমায় তবুও তোমায় মুগ্ধতা দিয়ে গেলাম। একটু দৃষ্টি ফেরাও- দেখো সবুজের আচ্ছাদনে তরুলতার ছায়া.... যেনো স্নিগ্ধতায় মাখামাখি। কি এবার তো একটু হেসে দাও আলতো। বুক ভরে টেনে নাও স্বস্তির শুদ্ধ অক্সিজেন। এই যে হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলো নিকোটিন-এবার তুমি সবুজ খাও-আর আমি তোমায় ভালবাসব-এখনো, যেমন বেসে এসেছি। (কচুরী ডোবা, হাঁসের খাবার big_smile )



৯। সবুজ হলুদে সজীবতায় মাখানো একটি শিশির ভেজা বেলা
ভেসে বেড়ায় মুগ্ধতা সব-যেথায় বসে ফুল পাখিদের মেলা
মাঘের হাওয়ায় মৌ মৌ ঘ্রাণ-মাঠজুড়ে সরষে ফুলের খেলা
এমন প্রহর মুগ্ধতার প্রহর- মুগ্ধ হও করো নাকো অবহেলা।
সবুজ সোনার দেশটি আমার-বড্ড ভালবাসি
ছড়ানো তার বুকের উপর-সুখ যে রাশি রাশি।
আমার দেশ আমার অহংকার আমার গর্ব
ট্রেন থেকো তোলা ছবি ।



১০। এইতো আমাদের দেশ-যেখানে সবুজে ছেয়ে থাকে মাঠ-মাঠে মাঠে গরু ছাগল স্বাধীনতায় চষে বেড়ায়......নীল আকাশটাও নুয়ে পড়ে মুগ্ধতায়। যেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অগণিত মুগ্ধতা। কবির ভাষায় যেমন-হায়রে আমার মন মাতানো দেশ, হায়রে আমার সোনা ফলা মাঠে, রূপ দেখে দেখে তোর কেনো আমার নয়ন জুড়ায় না .......তোরে এত ভালবাসি তবু পরাণ ভরে না । আমার দেশ আমার অহংকার আমার গর্ব।


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:২৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×