আজ ভীষন একা লাগছে মেঘার। যদিও চারিপাশে কথা বলা কিংবা গল্প করার মানুষের অভাব নেই। ইচ্ছে করলেই গিয়ে যে কারোর সাথে গল্প করতে পারে সে। কিন্তু প্রয়োজন ব্যতীত কারো সাথে কথা বলার মত মেয়ে না মেঘা। কোলাহলপূর্ণ ক্যাম্পাস থেকেও ওর কাছে মরুভূমি যেন একটা। শুধু কানের ভীতর মশার মত ভ্যানভ্যান আওয়াজ আসছে এই যা।
বাসা থেকে কিছু না খেয়ে খুব সকালেই ক্লাসের আগে চলে এসেছে সে। কাল রাত থেকে মন ভাল নেই। ভাল না থাকার কারনও আছে সবসময় হাস্যোজ্জল মেয়েটির কাছে। তার ভালোলাগা মানুষটি এড়িয়ে চলছে তাকে! এরকমই চিন্তা ঘুরছে মেঘার মাথায়!! অবশ্য এরকম চিন্তা করার যথেষ্ট যুক্তি আছে ওর কাছে। দ্বীপ কিছুদিন ধরেই খুব গম্ভীরভাবে কথা বলছে ওর সাথে। একটুও সময় দিচ্ছেনা ওকে। ওহ্ বলা হয়নি দ্বীপ হল মেঘার জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসা সেই ছেলেটি। খুব ভাল বন্ধু সে। যদিও ইদানিং দ্বীপের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে মেঘা। জেদী,ছন্নছাড়া,খারাপ মেয়েটা ভাল হওয়ার পিছনে এই ছেলেটির ই সব অবদান । দ্বীপের সব কথাই মেঘা শুনে। প্রত্যেকটি কাজ ছেলেটিকে বলে করে সে। ছেলেটিও মেঘাকে ছোটদের মত করে সব বুঝিয়ে দেয়।
কিন্তু আজ কয়েকদিন ধরেই দ্বীপ ভাল করে কথা বলছেনা ওর সাথে। মেসেজ এরও উত্তর দেয়না ঠিকভাবে। মেঘা যেরকম আত্মসম্মানী সেও দ্বীপকে বার বার বিরক্ত করতে চাইছে নাহ্। তাই অভিমান করে নিজে থেকেই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। কোন মেসেজ কিংবা কল ও দিবেনা বলে বসে আছে। এদিক দিয়ে দ্বীপ ও কোন খোজঁ নিচ্ছেনা মেঘার। এতদিন দ্বীপের কোন মেসেজ না পেয়ে রাগে মোবাইলটাই ভেঙ্গে ফেলেছে।রাগ কমার পর মনে পরল যে দ্বীপ ইচ্ছে করলেও আর যোগাযোগ করতে পারবেনা। কেন যে মোবাইটা ভাঙতে গেল। এইসব ভেবে মেঘার মন খারাপ অনেক। সারা রাত ধরে না ঘুমিয়ে কেঁদেছে মেয়েটা। ঘরটাকে একরকম জেলখানার মত লাগছিল ওর। তাই সকালে উঠেই কাউকে না বলে চলে এসেছে ক্যাম্পাসে। ভেবেছিল সবার সাথে থাকলে কিংবা ক্লাস করলে হয়ত ভাল লাগবে কিন্তু নাহ্। প্রতিটি মূহুর্তই শুধু দ্বীপকে নিয়ে ভাবছে মেঘা। তাও অভিমান কিংবা ক্রোধ যাই বলা হোক সেই ধংসাত্বক বস্তুর জন্য জোর করে ভাবনাগুলোকে সরিয়ে দিচ্ছে মন থেকে। আর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর বিরক্ত করবেনা ও দ্বীপকে যতই কষ্ট হোক না কেন। সব স্মৃতিগুলো মুছে সামনে এগিয়ে যাবে। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। যে তাকে কোন গুরত্বই দেয় না তার পিছনে ছুটা আর মরুভূমিতে মরিচীকার পিছনে ছুটে যাওয়া একই কথা।
( সম্পূর্ণ কল্পনা )
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



