৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!
আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক অধিকার বিরুদ্ধ, একটা রাজনৈতিক দল ও তাদের ডামি দলগুলো এবং তাদের অনুগত বুদ্ধিজীবীদের আদর্শই মনে হচ্ছে- সরকার মানেই শত্রু- এটাই যেন নতুন সামাজিক সংস্কৃতি।
শিক্ষিত মানুষকে সম্মান করা এখন অনেকের কাছে সেকেলে ব্যাপার। বয়স, অভিজ্ঞতা কিংবা জ্ঞানের মূল্য নেই; ফেসবুকের দুটো স্ট্যাটাস আর ইউটিউবের কয়েকটা ভিডিও দেখেই অনেকে নিজেকে সর্বজ্ঞানী ভাবতে শুরু করেছেন!
আর গালাগালি?
যুক্তির ঘাটতি ঢাকার সবচেয়ে সহজ অস্ত্র।
কেউ একটু ভিন্নমত করলেই শুরু- ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশ্রাব্য ভাষা, অপমান। তরুণদের একটি অংশ আবার এটাকেই ভাবছে ‘স্মার্টনেস’!
অথচ বিপ্লবের উদ্দেশ্য তো ছিল অন্যায়, ভয় ও দাসত্বের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা- সভ্যতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার সংস্কৃতি ধ্বংস করা নয়।
রাষ্ট্রে আইন থাকবে, সমাজে শৃঙ্খলা থাকবে, আর মতের অমিল থাকলে যুক্তি থাকবে- এটাই তো সভ্যতার ন্যূনতম শর্ত।
স্বৈরাচার চলে গেছে- কিন্তু যদি অসহিষ্ণুতা, আইন অমান্য করার প্রবণতা, গালাগালি করার মানসিকতা আমাদের ভেতরেই থেকে যায়, তাহলে বদলালটা কী?
একটা দেশ শুধু সরকার বদলে উন্নত হয় না।
মানুষের আচরণ বদলাতে হয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হয়, সভ্যতার সংজ্ঞাটাও নতুন করে মনে করতে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



