কেমন আমাদের চারপাশের কালো মেয়েদের জীবন যাপন?
.
যখন কোন দম্পতির ঘর আলোকিত করে একটি ফুটফুটে শিশুর জন্ম হয়। বলা বাহুল্য তখন তারা অত্যন্ত খুশি হয়। কিন্তু ঐ বাচ্চার গায়ের রংটা যদি হয় কালো। তাহলে কিছুক্ষনের জন্য হলেও তাদেরই মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। আর বাদ বাকিদের কথা তো বাদই দিলাম।
.
কালো বাচ্চাটাকে তারা তাদের নিয়তি হিসেবে মেনে নেয়। সব স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু স্বাভাবিক হয় না আশে পাশের লোকগুলোর মন,মানষিকতার।
.
যদি ঐ বাচ্চাটা হয় মেয়ে। তাহলে তাকে এমন অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। যা তার পক্ষে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। হতে হয় নানা ভাবে হেনস্থা। আর সেটার শুরু হয় ছোটবেলা থেকে।
.
যখন সে একটু বড় হয়। তখন সে, তার বয়সী সঙ্গীদের সাথে খেলতে গিয়ে শুনতে পায়। তাকে উদ্দেশ্য করে তারা বলছে কাইল্যা বা কালী। সে দেখতে পায়, শুনতে পায় তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। যার মূল বিষয়বস্তু সে নয়। তার গায়ের রং।
.
যখন সে আর একটু বড় হয়ে স্কুল,কলেজে যাওয়া আসা শুরু করে। সেখানেও তাকে হতে হয় অপমানিত এবং লান্ঞ্ছনার স্বীকার।
.
মহল্লার মকবুল মিয়ার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটা শোনে যে তিনি এবং তার বৌ আলোচনা করছে; ইশশ ওমুক সাহেবের মেয়েটা কি কালো কি কালো! এই মেয়েকে বিয়ে করবে কে?
.
অন্যদিকে মেয়ে কালো বলে তার মা-বাবাও অনেকসময় খোটা দেয়। কারন কালো মেয়ের বিয়ে দেয়া এই সমাজে অনেক কঠিন। সবাই তো দূধে আলতা বর্ণের মেয়ে খুজে। তাই বলে কি কালো মেয়েদের বিয়ে হয় না? হয়।
.
অনেক কষ্টে যখন মেয়েটার জন্য একটা পাত্র পাওয়া যায়। তখন পাত্রপক্ষ ঝোপ বুঝে কোপ মারে। দাবি করে অনেক টাকার যৌতুক। মেয়ের বাবা ধনী হলে সমস্যা হয় না। সমস্যাটা হয় গরীব হলে।
.
বিয়ের পরেও এই রুপ নিয়ে খোটা দেয়া চলতেই থাকে। কখনও বা পায় তার শ্বশুর বা শ্বাশুরীর কাছ থেকে কখনও বা আত্মীয়-স্বজন কিংবা ননদের কাছ থেকে। কিন্তু তার মনে ব্যথা লাগে তখনই যখন তার স্বামী তার(মেয়েটার) রূপ নিয়ে বিদ্রুপ করে।
.
একটা কালো মেয়ে যতটা নিরহংকারী হয়। একটা রুপবতী মেয়ে ততটাই অহংকারী হয় তার রুপ নিয়ে।
.
একটা কালো মেয়ে সবার সাথে খুব সহজে মিশে যেতে পারে,আপন করে নিতে পারে। আর এই গুনটা সবার মাঝে বিদ্যমান থাকে না।
.
শুরু যখন করেছি শেষও তো করতে হবে। আর শেষটা কবির ভাষায় করি
........কালো যদি মন্দ হবে গো...........
.............কেশ পাকিলে কান্দো কেন.......
(কোন এক গ্রুপ থেকে সংগৃহীত)
আমাদের চারপাশে এখনও উপরোক্ত ধ্যানধারনাগুলো বিদ্যমান। সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই তবে সমাজের ধারনাগুলো এখনও পিছিয়ে রয়েছে অনেক। শিক্ষিত হওয়া সত্বেও অশিক্ষিত আর অবুঝদের মত কথা বলতে শোনা যায় এখনও।বন্ধ হোক এসব হীনধারনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



