somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্পোকেন ইংলিশ না হিন্দি ক্লাস! ভাষা কি রিপ্লেস হয়ে যাচ্ছে!!?

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাষা আন্দোলনের ডাক আরও একটা দিতে হবে খুব অচীরেই। কারন হলো, আজকাল বাচ্চা থেকে শুরু করে সকল বয়সের ছেলেমেয়েরা প্রায়ই হিন্দি ভাষায় কথা বলার প্রবনতা বেড়ে উঠছে। কেন এই কাজটা করে তা সঠিক জানি না । হতে পারে ফান করে নয়তো ইচ্ছে করেই, যদি তা না হয় তাহলে অভ্যাসগত কারনেও হতে পারে। এখন আধুনিক সমাজে হিন্দিতে কথা বলাটা একটা আধুনিকতা কিংবা কালচার হয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য খুবই ভয়াবহ !! হয়তোবা কোনদিন স্পোকেন ইংলিশ এর মত স্পোকেন হিন্দিরও কোচিং সেন্টার দেখা যেতে পারে আর সেটা হবে আমাদের জন্য খুবই দুঃখের বিষয়। হিন্দি ভাষাটা এমন ভাবেই ছড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশে যে কয়দিন পর বাংলার পর হিন্দি ২য় ভাষা স্বীকৃতি পেয়ে যেতে পারে, সাবধান।।
আশেপাশে বসবাসরত ছেলেমেয়েদের কে ইদানিং দেখি হিন্দি ভাষায় কথা বলছে খুব সহজে এবং অনরগল। এমনকি ছোট বাচ্চারাও হিন্দিতে কথা বলছে; তু ইধার আ যা, মুঝে বল ফেক, তু ইস বাখ্ত ক্যায়া কার রাহা হ্যায় এত সহজে তাদের কাছ থেকে কথা গুলো শুনছি, যা খুবই বিস্ময়কর। এমনকি আমার ভাগ্নেও মাত্র ৬ বছর বয়স, কিছু দিন আগে বাসায় বেড়াতে আসে, আমার মোবাইলের কভার টা আমাকে দেখিয়ে বলছে- মামা তুমি কি এইটা " ইসতেমাল " কর না?!! ইসতেমাল একটা হিন্দি শব্দ যার অর্থ ব্যবহার করা। আর এই শব্দটা সে কতই না সহজে রপ্ত করে ফেলেছে। নিজের ভাইগ্নাকে দিয়ে উদাহরন দিলাম কারন অন্য কাউকে দিয়ে যদি উদাহরন দেই তাহলে খবর পেলে আমাকে ধুয়ে দিবে একদম।!! এরকম যখন অবস্থা যখন দেখি তখন খুব খারাপ লাগে ভাবি দেশ ও জাতি কোন দিকে যাচ্ছে!!?
বি: দ্র: আমি আমার বড় বোন ও দুলাভাইকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে বলেছি যে ছেলে এবং দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যেভাবেই হোক তারা যেন তাদের সন্তানকে হিন্দি চ্যানেল না দেখায়।।

এত দ্রুত এবং সহজে হিন্দি ভাষা শেখার জন্য খুব করে একটা ধন্যবাদ দেয়া যায় হিন্দি চ্যানেল, সিরিয়াল, আর কার্টুন শোকে যেগুলো হিন্দিতে প্রচারিত হয় অবশ্যই তাইই হবে যেহেতু ভারতের চ্যানেল। বাচ্চাদের খুব পছন্দের একটা কার্টুন হলো ডোরেমন, এছাড়া অগি এন্ড দ্যা কোকরোচেস্, মোটু-পাতলু, আরও অনেক নামকরা কার্টুন রয়েছে তবে এগুলো একটু বেশি দেখা হয় যা দেখে ছোট বাচ্চারা খুব সহজেই হিন্দি ভাষা শুনছে আর সেগুলো রপ্ত করছে। আমি প্রায়ই সময় এসকল বাচ্চা দের অভিভাবকদের বুঝাই যে এগুলো ওদের দেখাইয়েন না। তাদের উত্তর হলো একেক জনের একেক রকম যেমন- বাচ্চা খেতে চায় না তাই কার্টুন দেখিয়ে খাওয়াতে হয়, ঘুমোতে চায় না তাই, কেউ কেউ বলেই ফেলেন দেখুক না কি আর হবে বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে, আর সবাই তো দেখে তাদেরকে বলতে পারেন না এরকম ধরনের কথাও শুনতে হয়েছে আমাকে। কেউ আছেন সুন্দর করে বলেন, প্রতিবেশি দেশের ভাষাইতো পাকিস্তানের ভাষাতো আর না!! আমি আশ্চর্য হয়ে যাই কিভাবে বলে এসব কথা। অদৃশ্য যন্ত্রনাহীন এক স্লো পয়জন আমাদের শরীর বিবেকের ভেতর পুষ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত, বলতে হয় নিশ্চিত এটা প্রতিবেশি দেশের একটা চক্রান্ত কিংবা অনেক আগের করা একটা নীল নকশা!! অথচ আমরা দেশের মানুষ বুঝেও না বুঝার বা ভান করছি। আজকে যে শিশু পৃথিবীতে আসছে যার শরীর ও ব্রেইন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সকল শিশুদের মাথায় যদি হিন্দি ভাষার বীজ বুনে দেয়া হয় তাহলে কি তারা বড় হয়ে তা ভুলে যাবে?! সবারই নিজেদের মনে নিজে নিজে প্রশ্ন করা উচিত!!

বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যে দেশ ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছে, কত মায়ের বুক খালি হয়েছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে। আজ বাংলাদেশের মানুষ এ আত্নত্যাগের তাৎপর্য ভুলে যাচ্ছে। শুধু একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন খালি পায়ে প্রভাত ফেরীতে যায় শহীদ মিনারে ফুল দেয় ব্যস এই পর্যন্ত। স্কুল কলেজে বা ভার্সিটিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে। এতটুকু করলেই কি দায়িত্ব সব শেষ হয়ে যায়!? বাংলা আমাদের মাতৃভাষা পুরোপুরি শ্রদ্ধা রাখাটা অত্যাবশ্যক ও বাংলা ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখাটাও খুব জরুরী।
বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন ভাষা হলো বাংলা। এতে কোন সন্দেহ নাই, দাবী করতে পারি কারন আমি নিজেই অনেক বিদেশি লোকদের কাছ থেকে একথা শুনেছি। আর আমাদের দেশের বিখ্যাত ভাষাবিদরা তো আছেন যারা সারাজীবন এই বাংলা ভাষার উপর চর্চা ও শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন।

ভাষা শেখাটা ভালো, কমবেশি কিছু ভাষার উপর দক্ষতা থাকা ভালো, তবে এভাবে হিন্দি ভাষা টা যেভাবে মুখে মুখে ছড়িয়ে যাচ্ছে তা ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে পরবে নিজ দেশের ভাষার উপর। এখনই সোচ্চার হতে হবে নাহলে পরে পস্তানোর সুযোগ থাকবে না!! বিষ একবার ছড়িয়ে পরলে সারা শরীর বিষে নীল হয়ে যাবে।।

লেখায় কোন ভূল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, ধন্যবাদ।।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:২৪
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×