somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দূরাবস্থায় পড়েছেন? ঘুরে দাঁড়াবেন যেভাবে

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মাঝে মাঝে অনাকাঙ্খিতভাবে বিপদে পড়ে যেতে পারে যে কেউ। যোগ্য মানুষও খুব ঠেকে যেতে পারে। বিশেষ করে উদ্যোক্তরা বিপদে পড়ে বেশি। হচ্ছে না হচ্ছে না করে এক সময় গিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। সময়টা কাটিয়ে উঠতে পারলে সব ঠিক হয়ে যায়, সবকিছু দাঁড়িয়ে যায়, তবে কাটিয়ে উঠতে না পারলে একেবারে তলানিতে গিয়ে পড়ার সম্ভাবনাও থাকে।

ধরুণ, অনেক কিছুই করছেন, হয় হয় করে সেগুলো ঠিক এখনো হচ্ছে না, আবার অনেক কিছু হয়েছেও, কিন্তু টাকার অংকে ফেরৎ আসার মত অবস্থা এখনো হয়নি। বিনিয়োগ করেছেন অনেক, তা যেমন টাকা, পাশাপাশি শ্রম এবং মেধা। সব মিলিয়ে সম্ভাবনাময় একটা অবস্থানে আপনি আছেন। কিন্তু বর্তমানের অবস্থা হয়েছে ভয়ঙ্কর। কী করবেন এই অবস্থায়? ক্লোজঅাপনিউজ আপনার জন্য দশটা উপায় বাতলেছে-

১। প্রথমে মেনটাল সেট-আপ ঠিক করুণ । অর্থাৎ, বর্তমান অবস্থাটা মেনে নিন। ধরে নিন জীবনের একটা মোড়ে আপনি অবস্থান করছেন। অন্তত কয়েকজন মানুষকে বেঁছে নিন যাদের সাথে আপনার বর্তমান অবস্থাটা শেয়ার করা যায়।

২। ধার-দেনা থাকলে তাদেরকে আপনার বর্তমান অবস্থার কথা বুঝান, দেব দিচ্ছি না বলে তাদের কাছ থেকে একটা লম্বা সময় নিন, বারে বারে সময় নেওয়ার থেকে তাদের বলুন, তাদেরকে বিশ্বাস রাখতে বলুন। বুঝান যে একটু কাটিয়ে উঠতে পারলেই তাদের টাকাটা সর্বপ্রথম দিয়ে দেবেন।

৩। বাসা ভাড়া বাকী পড়লে মালিকের সাথে কথা বলুন, চেষ্টা করে দেখেন, বাসাটা ছেড়ে না দিয়ে পারা যায় কিনা। সম্ভব না হলে তুলনামূলক অনেক কম ভাড়ায় নতুন একটা বাসা নিন। সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে বাড়ি চলে যাওয়া বা স্ত্রী সন্তানদের অন্যত্র (বাড়ি বা শশুর বাড়ি) পাঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে খরচ কমিয়ে নতুন করে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা ভালো।

৪। নিজের শিক্ষা এবং অবস্থানের কথা ভুলে যান। এই মহূর্তে একটি চাকরি নিন। হতে পারে চাকরিটাতে আপনার বেতন যোগ্যতার তুলনায় অনেক কম। অবস্থান নিয়েও ভাববেন না। মনে রাখবেন, সাময়ীক সমস্যার কারণে আপনি চাকরি নিচ্ছেন। মূলত একটু কাটিয়ে উঠতে পারলে নিজের কাজেই আবার মনোযোগী হবেন। তাই বলে নতুন চাকরিতে আপনার দায়িত্বে অবহেলা করবেন না। ভাগ্য ভালো হলে নতুন চাকরিটা আপনার জন্য নতুন কোনো পথের সন্ধানও দিতে পারে।

৫। এই সময়ে সবকিছু ফেইস করতে না গিয়ে নিজেকে একটু আড়াল করে রাখাই ভালো। ফেইসবুক বন্ধ করে রাখতে পারেন, মোবাইল নম্বরটাও আপাতত বন্ধ করে দিতে পারেন, নতুন নম্বর ব্যবহার করতে পারেন। তবে পাওনাদার থাকলে মাঝে মাঝে ফোন করে তাদের আশ্বস্থ করতে ভুলবেন না। তাতে আপনার উপর তাদের আস্থা বেড়ে যাবে।

৬। সবকিছুর পরেও নিজের স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রাখতে ভুলবেন না। ইচ্ছেটা প্রবল হলে নিজের কাজের জন্য সময় আপনি পাবেনই। নিজের প্রতি আস্থা হারাবেন না। শুধু খারাপ সময়টা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুণ।

৭। স্ত্রী-সন্তানদের সাথে হাসি-ঠাট্টা খুঁনসুটি করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, সবকিছুতে পয়শা লাগে না। পকেটে একশো টাকা নিয়েও আশেপাশের কোনো জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসা যায়। এক কথায়, সমস্যার মধ্যে সব সময় ডুব দিয়ে থাকবেন না, বরং সম্ভাবনা নিয়ে বেশি ভাবুন।

৮। বিপদে পড়লে মনে হয় কিছুই নেই। কিছুই অর্জিত হয়নি। আসলে এতদিনে অাপনি অনেক কিছু অর্জন করেছেন। নিজের সামনে সেগুলো তুলে ধরতে চেষ্টা করুণ। এই মুহূর্তে পদক্ষেপ বাড়াবেন না। এমনকি ছোটখাটো কোনো পদক্ষেপও এড়িয়ে চলুন। নিমন্ত্রণগুলো বিনয়ের সাথে ফিরিয়ে দিন। অনেকে সন্তানদের দুরাবস্থার কথা জনাতে চায় না। এতে সমস্যা বাড়ে। সন্তানদের সাথেও বর্তমান অবস্থা শেয়ার করুণ। তাতে তাদের বাস্তব জ্ঞান বাড়বে এবং তারা সহমর্মী হতে শিখবে।

৯। এই মুহূর্তে আপনি মারাত্মক অর্থকষ্টে আছেন, এতে আপনি ইমেজ সংকটে পড়তে পারেন, অনেকের কাছে ছোট হওয়া লাগতে পারে। তাই নিজেকে একটু সীমাবদ্ধ করে রাখুন। নিজের উপার্জনধর্মী গুণগুলো কাজে লাগিয়ে অায় বাড়ান শুধু। এমনকি যদি আপনি টাইপ করতে পারেন, তাহলে অবসরে টাইপ করেও উপার্জন করুণ। পারলে অাপনার স্ত্রী বাসায় দুটো বাচ্চা পড়াক। আপনিও রাতে দুটো টিউশনি নেন। যেকোনো উপায়ে, তবে পরিশ্রম করে এবং সৎভাবে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোটাই এই মুহূর্তে আপনার একমাত্র লক্ষ্য।

১০। খরচটা একেবারে কমিয়ে নিয়ে আসুন। হিসেব করে দেখুন, যদি ধার-দেনা খুব বেশি থাকে তাহলে উপার্জন করে আপনি কুলাতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে স্থায়ী কোনো সম্পদ আপনাকে ছাড়তে হতে পারে। সেটি জমি বা স্ত্রীর গয়না, যা-ই হোক। দেখা গেছে গয়না বন্ধক রেখে টাকা অানার থেকে সবসময় বিক্রী করা লাভজনক। হয়ত বিক্রী করলে আপনি দুই লাখ টাকা পাবেন, কিন্তু বন্ধক রেখে পেলেন দেড় লাখ টাকা। পরে ঠিকই সময়মত টাকা পরিশোধ করে গয়না আর ফেরৎ আনতে পারবেন না। ফলে পঞ্চাশ হাজার টাকা আপনার লসের উপর লস হল।

ভেবে দেখুন, আপনার বাস্তব অবস্থা আপনিই সবচে’ ভালো জানেন। আরো অনেক উপায় নিশ্চয়ই বের হবে। ভেঙ্গে না পড়লে উত্তরণ আপনার হবেই। স্বপ্ন সিঁড়ি বেয়ে একসময় কাঙ্খিত লক্ষ্যে আপনি পৌঁছেও যাবেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×