somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিজাতদের প্রতি সরকারের নেক নজর

৩১ শে জুলাই, ২০১০ বিকাল ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বসবাসরত উচ্চবিত্তের লোকদের জন্য উচ্চমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে বারিধারার কূটনৈতিক এলাকা ও মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। বারিধায়ায় ‘ডেসকো’ এবং মতিঝিলে ‘ডিপিডিসি’ এ চিঠি দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মহাখালী ও অন্যান্য অভিজাত এলাকার গ্রাহকদের মতামতের জন্য এ ধরনের চিঠি দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বারিধারা এলাকার গ্রাহকদের কাছে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে—কূটনৈতিক এলাকার গ্রাহকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিতব্য বর্ধিত ট্যারিফে বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের শর্তে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন আছে। বিদ্যুত্ ঘাটতি মোকাবিলার জন্য সম্প্রতি সরকার বেশ কিছু ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রসমূহের উত্পাদন খরচ বেশি হওয়ায় এর ক্রয়মূল্যও বেশি।
চিঠিতে বর্ধিত ট্যারিফে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ প্রাপ্তির সুযোগ গ্রহণের জন্য গত ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ করে বলা হয়, নির্ধারিত বিদ্যুত্ বিতরণ লাইনের অধীনে সম্মানিত গ্রাহকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। ফলে কি ধরনের প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে এ নিয়ে এলাকা দুটির গ্রাহকদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। তবে তারা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কারণ, তারা ভাবছেন তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালানোর ব্যয়ের চেয়ে এটা সাশ্রয়ী হবে। অন্যদিকে রাজধানীর অন্যান্য অভিজাত এলাকা—গুলশান, বানানী ও ধানমন্ডির বাসিন্দাদের কাছে এখনও এ ধরনের চিঠি না দেয়ায় তারা আভিজাত্যের দৌড়ে পিছিয়ে রয়েছেন ভেবে ধনীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দলের অফিস সংলগ্ন তোপখানা এলাকার বিদ্যুত্ গ্রাহকরা এটাকে সরকারের একটি বৈষম্যমূলক নীতি হিসেবে দেখছেন। তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারা একটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
এ ব্যাপারে গুলশান-২ এলাকার বাসিন্দা জাহের আহমেদ বলেন, লোডশেডিংয়ের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সরকার যেহেতু অভিজাত এলাকায় বর্ধিত ট্যারিফে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সেহেতু বারিধারার সঙ্গে গুলশান ও অন্যান্য অভিজাত এলাকাতেও একইসঙ্গে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। কারণ, বারিধারার বাসিন্দাদের মতো উচ্চহারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পাওয়ার আর্থিক এবং সামাজিক যোগ্যতা আমাদের আছে।
তবে এ ব্যাপারে তোপখানা এলাকার বাসিন্দা বাবুল আকতার বলেন, বিদ্যুত্ সঙ্কট নিরসনে প্রথমেই সরকারের বৈষম্যমূলক নীতি নেয়া ঠিক হয়নি। প্রথমে উচিত হবে সবার জন্য লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা। তারা অভিজাত এলাকার জন্য উচ্চহারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকত না। লোডশেডিংয়ের মহাদুর্যোগে শুধু অভিজাত এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের বিষয়টি বর্তমান সরকারের বুর্জোয়া নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে পল্টন এলাকার বাসিন্দা এম এম মিলটন সরকার এ উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, বাড়তি বিদ্যুত্ উত্পাদনের মাধ্যমে বারিধারা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ইত্যাদি অভিজাত এলাকায় উচ্চমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করলে অন্য এলাকায় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। ফলে এক সময় আমরা হয়তো প্রচলিত মূল্যেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সুবিধা পাব।
এদিকে এ ব্যাপারে বারিধারা এলাকার ডেসকো’র কমার্শিয়াল অফিসার গাজী শাহরিয়ার পারভেজের কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে বারিধারার কূটনৈতিক এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে। তাই তাদের কাছে সবার আগে চিঠি দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ গ্রাহক রাজি হলেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে এবং ওই এলাকার সব গ্রাহককে এ প্রস্তাবনার আওতায় আনা হবে। কারণ, অধিকাংশ গ্রাহক রাজি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যদের জন্য আলাদা লাইনের মাধ্যমে বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। অর্থাত্ এ ক্ষেত্রে এলাকার সবাইকেই বর্ধিত ট্যারিফের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। বর্ধিত ট্যারিফ কত নির্ধারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকার এখনও ঠিক করেনি। নির্ধারণ করার পর আমরা সব গ্রাহককে জানিয়ে দেব। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ১৫ টাকা নির্ধারণ করার কথা ভাবা হচ্ছে।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×