somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফকির ইলিয়াস
আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

উজ্জ্বল মার্চ মাস ও ইতিহাসের পায়রাগুলো

১১ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




উজ্জ্বল মার্চ মাস ও ইতিহাসের পায়রাগুলো
ফকির ইলিয়াস
=========================================
মার্চ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসের ১৭ তারিখেই জন্মেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মুজিব জন্ম না নিলে বাংলাদেশ নামক দেশটি আমরা পেতাম না। পেতাম না এ জন্য বলছি, কারণ বাঙালি জাতির নেতৃত্ব দেয়ার মতো নেতা আর ছিলেন না।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা, জেল-জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল বাঙালি। কিন্তু তাদের দিকনির্দেশনা দেয়ার মতো নেতা ছিলেন না। ওই সময়ের রাজনৈতিক টানাপড়েনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে একক নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশই ছিল আইন। তার কথাতেই চলেছিল গোটা দেশ। তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা এবং পূর্ববাংলার গণমানুষের মুকুটহীন স¤্রাট হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়েই বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ একদিকে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান, অপরদিকে বাংলার আপামর জনগণের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে একাত্তরের মার্চে একমাত্র বঙ্গবন্ধুরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার এই সাংবিধানিক অধিকার ছিল। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের লাখো জনতার উপস্থিতিতে ওই ঐতিহাসিক ঘোষণার আলোকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাংবিধানিক অধিকার থেকেই ২৬ মার্চ মধ্যরাতে বিডিআর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

মাতৃভাষা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সংগ্রাম শুরু হয়। তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের বুকের তাজা রক্ত¯্রােতের মাধ্যমে। সেই বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেই বাঙালি জাতি খুঁজে পায় তাদের হারানো হাজার বছরের স্বপ্নসাধ স্বাধীনতা উদ্ধারের মূলমন্ত্র। চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়। ছাপ্পান্নতে এসে সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান করা হয়। বাষট্টিতে শিক্ষা কমিশন আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ছেষট্টিতে লাহোরে ৬ দফার স্বাধিকার আদায়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। আটষট্টিতে বঙ্গবন্ধুসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করা হয়। ঊনসত্তরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই আসে আমাদের স্বাধীনতার ডাক। জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবের মুক্তির পর ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তৎকালীন তুখোড় ছাত্রনেতা ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবে জনতার মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ওই জনসভা থেকেই বঙ্গবন্ধু দেশের নাম ‘বাংলাদেশ’ ও জাতীয় ¯েøাগান ‘জয় বাংলা’র ঘোষণা দেন।

এর পরের ঘটনাগুলো আমাদের জানা। একাত্তরের ১ মার্চ পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন হঠাৎ করেই স্থগিত ঘোষণা করেন। জেনারেল ইয়াহিয়ার এ ঘোষণার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে ওঠে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩ মার্চের জাতীয় অধিবেশন বয়কটের যে আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তার সঙ্গে তাল মেলানোর জন্যই যে অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন, তা আর বুঝতে কারো বাকি থাকে না। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সূত্র ধরে ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়ে সমগ্র জাতি জোটবদ্ধ হয়ে প্রস্তুতি নেয় চূড়ান্ত যুদ্ধের। ঘরে ঘরে শুরু হয় প্রস্তুতি। তরুণদের রক্তে আগুন জ্বলে ওঠে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সারা দেশের জেলা, থানা, ইউনিয়ন ও পাড়া-মহল্লায় গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। সংগ্রহ হতে থাকে অস্ত্র। চলতে থাকে প্রশিক্ষণ। গড়ে তোলা হয় সর্বত্র প্রতিরোধের মোর্চা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় প্রবাসী মুজিবনগর সরকার। আর এই প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি ফিরে পায় তাদের স্বাধীনতার সাধ। একাত্তরের এই মার্চের মতো এমন অগ্নিঝরা, ঘটনাবহুল সমুজ্জ্বল কোনো মাস জাতির জীবনে আর আসেনি। বঙ্গবন্ধু মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকার সুযোগ না পেলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে ভারতীয় বাহিনী দেশত্যাগ করে এবং মুক্তিবাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে। বিশ্বের ১০৪টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন এবং ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭২ সালের ১৪ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান গৃহীত হয়। তিনি শিল্প-কারখানা, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি জাতীয়করণ করেন। তিনি ১০ অক্টোবর ১৯৭২ বিশ্ব শান্তি পুরস্কার ‘জুলিও কুরি’ পদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় বক্তৃতা করে বাংলাকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার চেষ্টা করেন। আত্মপরিচয়হীন জাতি খুঁজে পায় তার অস্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা। বাঙালি জাতির জীবনে মার্চ মাসের দিনগুলো উজ্জ্বল হয়ে থেকে যাবে ঐতিহাসিক কারণে। এই মাসের কিছু দৈনন্দিন ডায়েরি আমি নতুন প্রজন্মের জন্য তুলে ধরতে চাই। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর এই কার্যক্রমগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।

৮ মার্চ ১৯৭১ : পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নামকরণ শুধু ‘ছাত্রলীগ’ ঘোষণা করা হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

৯ মার্চ ১৯৭১ : এই দিনে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পল্টন ময়দানে ভাষণ দেন- “ইয়াহিয়াকে তাই বলি, অনেক হইয়াছে আর নয়। তিক্ততা বাড়াইয়া আর লাভ নেই। ‘লাকুম দিনুকুম অলিয়াদ্বীন’ (তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার)-এর নিয়মে পূর্ববাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করে নাও। শেখ মুজিবের নির্দেশমতো আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কোনো কিছু করা না হলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মিলিত হইয়া ১৯৫২ সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলব।” ভাসানী এ দিন ১৪ দফা ঘোষণা করেন। বিভিন্ন আন্দোলন চলতে থাকে, প্রাণহানিও থেমে থাকেনি।

১০ মার্চ ১৯৭১ : সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থার প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাজউদ্দীন আহমদ নির্দেশাবলি দেন।

১১ মার্চ ১৯৭১ : ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক স্বাধীন পূর্ববাংলা কায়েমের সংগ্রামের আহ্বান। জনগণের প্রতি ছাত্র ইউনিয়নের যে আহ্বান ছিল :

-রাজনৈতিক প্রচার অব্যাহত রাখুন। গ্রাম অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে ইহা ছড়াইয়া দিন।

-সর্বত্র ‘সংগ্রাম কমিটি’ ও ‘গণবাহিনী’ গড়িয়া তুলুন।

-শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন।

-যে কোনো রূপ দাঙ্গা-হাঙ্গামা-উস্কানি প্রতিরোধ করুন।

-শান্তি-শৃঙ্খলা নিজ উদ্যোগে বজায় রাখুন।

-এই সংগ্রামের সফলতার জন্য সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম শক্তির ঐক্য গঠনের জোর আওয়াজ তুলুন।

১৩ মার্চ ১৯৭১ : আওয়ামী লীগের প্রতি জাতীয় পরিষদের সংখ্যালঘিষ্ঠ দলগুলোর সমর্থন।

১৫ মার্চ ১৯৭১ : শেখ মুজিবের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন। কিন্তু একটি প্রেস কনফারেন্সে ভুট্টো ঘোষণা দেন ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করবেন না’।

১৮ মার্চ ১৯৭১ : অসহযোগ আন্দোলন ১৬ দিনে পদার্পণ করে। এই আন্দোলনের ঢেউ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

২০ মার্চ ১৯৭১ : জয়দেবপুরের রাজবাড়িতে অবস্থিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটালিয়ন তাদের হাতিয়ার ছিনিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেয়। গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সবাই মিলে টঙ্গী-জয়দেবপুর মোড়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলে নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য শামসুল হকের নেতৃত্বে।

২২ মার্চ ১৯৭১ : শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত স্বাধীনতার জন্য বাঙালি সংগ্রামে গর্জে ওঠে। যতই দিন গড়াচ্ছিল, রাজনৈতিক সংকট ততই গভীরতর হচ্ছিল। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে একাত্তরের ২২ মার্চের ঘটনাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সকালে ২৫ মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে বলেন, পাকিস্তানের উভয় অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনাক্রমে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের পরিবেশ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ২৫ মার্চের অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়েছে। অসহযোগ আন্দোলনের ২১তম দিবস ছিল ২২ মার্চ। ‘জয় বাংলা’ ¯েøাগানে মুখরিত হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে ছুটে যায়। সমবেত জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার বক্তৃতা করেন। সংগ্রামী জনতার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানের মধ্যে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন বন্দুক, কামান, মেশিনগান কোনো কিছুই জনগণের স্বাধীনতা রোধ করতে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৩ মার্চ রাতে পাকিস্তান দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান এখন এক ক্রান্তিলগ্নে উপনীত। গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। তবে আমরা যদি আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থাকি, তাহলে কোনো কিছুই আমরা হারাব না।

২৩ মার্চ ১৯৭১ : পাকিস্তানের জাতীয় দিবস আওয়ামী লীগ প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে। ফলাফলবিহীন আলোচনা চলতে থাকে। সর্বত্র বাংলাদেশের নতুন জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়।

২৫ মার্চ ১৯৭১ : আলোচনা ভেঙে যায়। ইয়াহিয়া ও ভুট্টো গোপনে পাকিস্তান চলে যান এবং শেখ মুজিবকে বন্দি করে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। এসব বেদনাময় দিনের খতিয়ানগুলো সবার মনে রাখা দরকার। আজ আমরা যে দেশে দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস নিচ্ছি- সেই দেশটি খুব সহজে অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশের আকাশের স্তরে স্তরে আজ অনেক আশার পায়রা উড়ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। রেমিটেন্স, কৃষি ও পোশাক শিল্পে বিস্ময়কর উন্নতি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এর সবই পজিটিভ দিক। এই অগ্রসরমান অবস্থা এগিয়ে নিতে হলে দেশকে ন্যায় ও শান্তির পথে পরিচালিত করতে হবে। রাজনীতিকে মানুষের কল্যাণের আলোকবর্তিকা হিসেবেই রাখতে হবে। প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে- যারা এই দেশটির জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে গিয়েছেন, তাদের ঋণ শোধ করার অন্যতম উপায় হলো দেশপ্রেম।
------------------------------------------------
দৈনিক ভোরের কাগজ ॥ ঢাকা ॥ শনিবার, ১১ মার্চ ২০১৭
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৭ সকাল ১০:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×