somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফালতু কথা ৬

৩০ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফালতু কথা।
..............
কয়েকদিন যাবত ছোটবেলার খেলার সাথীদের খুব মনে পড়ছে। লিটুল, বকুল, শওকত, মুরাদ, আসাদ এরাসহ আরো অনেকেই ছিলো আমার খেলার সাথী। একটা বিষয় অবশ্য খেয়াল করেছি অামি, যখন নিজের মন খারাপ থাকে, শরীর খারাপ থাকে অথবা একটু অবসর সময় পাই তখনই ছোটবেলার ঐ বন্ধুরা এসে ভিড় করে আমার সামনে। আমার বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে প্রায় সকলেই ছিলো ডান পিটে। একমাত্র নরম-ধরম, হাবা-গোবা,টাইপের আমেরসাধু ছিলাম আমি্। এতো ভীতু টাইপের ছিলাম আমি যে, কোন দিন কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ,মারামারিতে জড়াইনি। এমনকি কখনো কখনো আমাদের সাথে অন্য পাড়ার ছেলেদের মারামারি বেধে গেলে, বিসমিল্লাহ বলে সকলের আগে দৌড়ে পালিয়ে প্রথম হতাম। যদিও স্কুলের কোন দৌড় প্রতিযোগিতায় কোনদিন নামই লেখাইনি্, কেউ ল্যং মেরে পা ভেঙ্গে দেবে এই ভয়ে। তাই বলে প্রতিযোগিতায় নাম লেখাইনি তা নয়, কোরআন তেলাওয়াত, গান, গজল ইত্যাদিতে নাম লিখিয়ে রিতিমত পুরস্কার নিযে তবেই ঘরে ফিরেছি। হাত-পা ভাঙ্গার ভয় নেই বলে এ সকল প্রতিযোগিতায় নাম লিখাতাম। ফুটবল, হাডুডু, গোল্লাসুট,দাড়িয়াবান্দা,ইত্যাদি খেলায়ও আমি অংশ গ্রহন করতাম,তবে সেটা রেফারী অথবা দর্শক হিসাবে। পলানটুক, আর বুদ্ধিমন্তর খেলাই আমি বেশি অংশ নিতাম। রাস্তার পাশের বিভিন্ন খাদ সেচে মাছ ধরতাম আমরা্। এ জন্য খড় দিয়ে কুড়েঘর বানিয়ে রাতে সেখানেই থাকতে হতো। আমাদের সাথে রফিককে প্রায়ই ভুতে ধরতো। এ জন্য আমি ওর থেকে দুরে থাকতাম। এমন কোন রাত ছিলো না যে ওকে ভুতে না ধরতো। একবার কুড়ে ঘরে থাকা অবস্থায় রাতের বেলা একটি শিয়াল এসে ওর গাল চেটে দিয়ে গিয়েছিলো। সেই রাতে ও অনেক ভয় পেয়ে পাগোল হয়ে গিয়েছিলো। তিন চার দিন ওর পাগলামী ছিলো্। মোল্লানী ভিটা, বুড়ির ভিটা, রসুলপুরের বাগের থেকে আম, ডাব, চুরি করতাম আমরা্। মুরগী চুরিতেও অংশ নিতে হয়েছিলো বেশ কয়েকবার। অবশ্য গাছে ওঠা বা মুরগীর খোপে হাত দেয়ার মত কাজ আমাকে করতে হতো না। কেউ এসে পড়ে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব পড়তো আমার উপর। একবার লুৎফার শেখের মুরগী চুরি করে পিকনিক করেছিলাম। পরের দিন সকালে লিটুলের হাতে হলুদের দাগ খাকায় ধরা খেয়ে গিয়েছিলাম। জরিমানা দিয়ে সে যাত্রা রক্ষা হয়েছিলো। অকর্মান্য হওয়া সত্বেও ওরা আমাকে ওদের সাথে রাখতো। একসাথে অামরা যেমন দল বেধে বেড়াতোম তেমনি দলবেধে জঙ্গলের মধ্যে গল্প করতাম আর পায়খানা করতাম। চুরি, চুট্টামী আর দশ্যিপনার কারনে যারা অামাদের ঠেঙাতে আসতো অথবা বাড়িতে নালিশ দিতো তাদের বাগানেই এই কাজ বেশি করতাম।অবশ্য সে সময় গ্রামের কারো বাড়িতেই স্যনেটারী পায়খানা ছিলো না। সবাই জঙ্গলে গিয়ে এ কাজ সারতো। একটা বিষয় মনে পড়লে আজো হাসি পায়। গোলাপীর বাগানের আম চুরি করায় সে বাড়িতে নালিশ করেছিলো। বাড়িতে ভিষন বকুনি খেযে রাতে গিয়ে তার বাড়ির উঠোনে সবাই মিলে পায়খানা করে এসেছিলাম। পরদিন সকালে গোলাপীর সে কি কান্না! গালি-গালাজ, আর বদ্দোয়া যা পেরেছিলো সে সব করেছিলো। যারা এ কাজ করেছে তাদের যেন, কলেরা হয়, ডায়রিয়া হয়, আজ রাতেই যেন মরে ইত্যাদি ইত্যাদি। ডায়রিয়া, কলেরা কিছুই না হলেও ঐ রাতে আমার ভীষন আমাশয় হয়েছিলো। ভয়ে আমার সে কি অবস্থা। পরদিন সকালে ওয়াসিম ডাক্তার আসলেন আমাদের বাড়িতে। তার নিকট বল্রাম গোলাপী আমাকে বদ্দোয়া করেছে। আমি বোধ হয় মরেই যাবো আজকে। ওযাসিম ডাক্তার বললেন গোলাপীর বদ্দোয়ায় নয় বরং খোলা যায়গায় পায়খানা করলে, তার উপর মশা-মাছি পড়ে সেই মশা-মাছি থেকে কলেরা, অামাশয়র মতো রোগ ছড়ায়। পায়খানা থকে এসে সাবান অথবা ছাই দিয়ে হাত ভাল করে পরিস্কার করে নিতে হয়। সেদিন তওবা করেছিলাম জীবনে আর কারো বাড়ী তো দুরের কথা কোন দিন খোলা যায়গায টয়লেট করবো না। যে কথা সেই কাজ। আজ পর্যন্ত এ তওবা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলছি। কিন্তু সেদিন হঠাৎ সেঝ কাকা অসুস্থতার খবরে রাজশাহী যেতে হলো। ঢাকা থেকে ট্রেনে যাবার সময় ট্রেনের মধ্যে কিছু টয়লেট দেখলাম। যেখানে বসলে রিজার্ভ ট্যাঙ্কি না থাকার কারনে সব মল ট্রেন লাইনের উপরেই পড়ে। দেশে যতোগুলো লঞ্চ, ফেরীতে টয়লেট আছে সব গুলোর মল পানিতে গিয়ে পড়ছে। দুষিত হচ্ছে পানি। ছড়া্চেছ রোগ জীবানু। সরকার বই পুস্তক, রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করেছে ঠিকই কিন্তু নিজে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তা না হলে প্লেনের মতো এসকল সেক্টরেও যথোপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন করছেনা কেন?
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×