somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফালতু কথা ৮

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সার্টিিফিকেট নয় শিক্ষিত মানুষ চাই
.........................
প্রতি বছর লক্ষ-লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে, পাশ করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে হুমড়ী খেয়ে পড়ছে চাকরীর বাজারে। কিন্তু একবারও কি
ভেবে দেখেছেন এই লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেটধারীর মধ্যে আমরা শিক্ষিত মানুষ কয়জন
পেয়েছি? যদি বলেন সকলেই শিক্ষিত, শিক্ষিত হওয়ার প্রমানসরূপ এই
সার্টিফিকেট। তাহলে ২য় আরো একটি প্রশ্ন, শিক্ষিত বলতে আপনি কি বোঝেন? ছোট
বেলায় দেখতাম বই এর মলাটে একটা মোমবাতি আঁকা। সেখানে লেখা থাকতো "শিক্ষাই
আলো"। যদি তাই হয়, তাহলে এই সার্টিফিকেটধারীর প্রত্যেকের হাতে রয়েছে একটা
করে আলোর মশাল। যেখানে আলো থাকবে সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না। অালো
প্রজ্জলিত হলেই অন্ধকার দৌড়ে পালায়। আলো হাতে যাত্রী সব সময়ই অগ্রপথিক।
অন্ধকারের যাত্রীদের পথ দেখানোই অগ্রপথিকের দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত
সমাজ কি কোন ভাবে সে দায়িত্ব পালন করছে? সমাজের হাজারো অন্ধকার, কুসঙ্কার,
দূর্নীতি, হত্যা, ধর্ষন,লুট-পাট কোন কিছুইকি তারা বন্ধ করতে পেরেছে? না কি
তারাই প্রবলবেগে গোটা সমাজকে আরো গহীন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যা্চেছে।
বাংলাদেশ সারা বিশ্বের পর-পর পাচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে, এখোনো
সর্বাধিক দুর্নিতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্যতম। আমার প্রশ্ন এ দূনীৃতি আসলে কারা
করছে? সেগুলো কি আমারেদ দেশের কৃষক, শ্রমিক সমাজের খেটে খাওযা নিচু
শ্রেনীর মানুষেরা ? নাকি শিক্ষিত সার্টিফিকেটধারী সুট,টাই,পরা সমাজের উচু
শ্রেনীর মানুষেরা?সোনালী ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা,বেসিক ব্যাংকের
টাকা, ডেসটিনির টাকা, শেযার মার্কেটের টাকা, সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের
টাকা কারা নিয়েছে? সারাদেশে টেন্ডারবাজী, চাদাবাজী, জালিয়াতি, চাকরী
পাইযেদেওয়ার নেওয়ার নামে হাজার হাজর কোটি টাকা কারা আত্বসাত করছে? শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বানিজ্য, হল দখলের নামে রামদা, বল্লম নিয়ে খুনো খুনিতে
কারা মেতে উঠছে?কাদের কর্ম প্রকৃয়ার ফল দেশ আজকে দূর্নীতি গ্রস্থ দেশ
হিসাবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত হচ্ছে? নিশ্বয়ই ঐ তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেনীর।
তাহলে কি বলতে পারেন এই সার্টিফিকেটধারীরা আসলে শিক্ষিত কি না? আমরা বছর
শেষে হয়তো লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেট পাচ্ছি কিন্তু শিক্ষিত মানুষ আদৌ পাচ্ছি
কি না।

ধরুন কোন এক মাজারে হাজারো মোমবাতি জ্বলছে। কিন্তু দুরেই এক দল
লোক অন্ধকার পথে যাত্রা শুরু করেছে। তাদের নিকট কোন আলো নেই। অন্ধকারে
যাত্রা করার কারনে তারা ভুল করে কোন দস্যুর আস্তানায় গিয়ে পড়লো, এবং দস্যু
হাতে তাদের সর্বস্ব হারাতে হলো। তাহলে ঐ মাজারের প্রজ্বলিত বাতি গুলো
সম্পর্কে আপনি কি মূল্যায়ন করবেন? যে আলো থাকার প্রয়োজন ছিলো যাত্রীদের
হাতে, যে আলো তাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারতো।
সে আলো সেখানে না থেকে মাজারকে আলোকিত করছে, যেখানে আসলে আলো থাকার কোন
প্রযোজনই পড়ে না। তাহলে কি আপনি বলবেন না যে মাজারে প্রজ্জলিত ঐ মোমবাতির
কোন স্বার্থকতা নেই। যে উদ্দেশ্যে মোমবাতিগুলো তৈরী করা হয়েছিলো এ মোমবাতি
গুলো সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্পূর্ন ব্যার্থ। ঠিক তেমনি শিক্ষার যে মূল উদ্দেশ্য শিক্ষিত মানুষ গড়ার মাধ্যমে সকল অন্যায়, কুসঙ্কারের আধার দুর করে আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, তা সম্পূর্নরূপে ব্যার্থ হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিবছর আমরা লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেটই পাচ্ছি ঠিকই কিন্তু এই সার্টিফিকেটধারীরা সমাজকে আলোকিত করার পরিবর্তে করছে অন্ধকার আচ্ছন্ন। এমনকি বেশিরবাগ ক্ষেত্রে একজন অশিক্ষিত মানুষের চেয়েও বেশি দূর্নীতি পরায়ন। কিন্তু এমন কি হাবার কথা ছিলো? এ জন্য কি সরকার প্রতিবছর শিক্ষা ক্ষাতে কোটি কোটি টাকা বাজেট বরাদ্ধ করছে? সমস্যাটা আসলে কোথায় সেটা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১২:১৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×