somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রিন্দুর চিঠি

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিন্দুর চিঠি

"সেবার যখন এলে,
ভেবেছিনু আমার জন্যই বুঝি।
কতকাল পরে তোমায় দেখা হলো!
মনেপড়ে তোমার?
যখন শহরে কলেজ পড়তে,
বাড়ি ফেরার পথে মায়ের কাছে এসে বলতে,
চাচি একটু মিঠাই দাও,
অনেক পথ হেঁটে এসেছি।
আমি ভাবতাম ওসব তোমার বাহানা।
তখনকি আর আমি মিঠাই বানাতে পারতাম?
তবে সেবার বানিয়ে রেখেছিলাম
কতো রঙের মিঠাই,
তুমি আসবে শুনে।
তুমি যাবার খুবতো বেশিদিন পরে না,
ইউরোপ থেকে বেড়াতে এলে।
ঐ একবারই বুঝি এসেছিলে,
একেবারে সাদা মেমকে বউ করে।
খোলা ভ্যানের মাঝে বসিয়ে
গ্রামের রাস্তায় হৈ-হৈ করতে করতে।
পাশের বাড়ির ডেমুর মুখে শুনলাম
উনি নাকি ভ্যানে পা ঝুলিয়ে বসতে পারেন না।
বুঝলেতো? ওসব ঢং!
ঐ করেই তোমার মাথায় চড়েছে।
তোমাদের ভ্যান যখন
আমাদের ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল,
এববার জানালা দিয়ে তাকিয়েছিলাম।
তারপরেই নিজের চোখ দুটিকে উপড়ে ফেলতে ইচেছ করলো।

গ্রামের সবাই বলে
আমার নাকি রঙ পাকা,
আশে-পাশে আমার রঙের তৃতীয়টা নাই।
শুধু পেচির দাদি আছে নাকি দুই রঙে।
আসলে আমিতো ডোবার পানি খাই,
আর তোমার উনিতো চেরি, বেরি, স্টোবেরির জুস।
কিছুদিন পর দেখো,
গাজিপুরে ওরকম সাদা মানুষ পাওয়া যাবে।
শুনেছি ওখানে নাকি চেরি, বেরি স্টোবেরির আবাদ হচ্ছে।
চপল কাকুর টিভিতে সোদিন দেখলাম,
মোটা কাঁচা-পাকা রঙের লোকটা সেটাই বলছিলো।

তোমার জন্য বানানো মিঠাইগুলো,
আমি কাউকে খেতে দেইনি, হাড়িতে পঁচেছে।
এখনো প্রায়ই মিঠাই করে রেখে দেই,
তুমি আসবে ভেবে।
দশ ক্লাসে বাবা মারা যাবার পর
স্কুলের ইতি টেনেছিলাম।
তোমার জন্য অনেক মায়া হতো।
পরীক্ষায় কম নাম্বার পেয়ে,
তোমার যখন মন খারাপ হতো।
কী করবো বলো?
বাবাকেতো খুশি করতে হতো।
মাও এখন আমায় ছেড়ে চলে গেছে,
একা থাকি, তোমায় আজকাল
অনেক বেশি মনে পড়ে।
মা চেষ্টা করেছিলেন
যেন সংসার করি।
কিন্তু যে সংসারে তুমি থাকবেনা,
সেটা কী করে আমার জন্য সংসার হবে বল?
হার্টের ডাক্তার বলেছেন, বড় ব্যারাম বাঁধিয়ে ফেলেছি,
সবকিছুতে অনিয়ম করে।
তুমি ছাড়া পৃতিবীতে নিয়মের শরবত আর গিলতে ইচ্ছে করে না।
ডেমুর কাছে চিঠিটা দিয়ে রাখলাম।
যদি কখনো বেড়াতে আসো,
একটু না হয় জানলে কতটা ভালোবাসতাম।"
এটা রিন্দুর লেখা শেষ চিঠি।

আর তার পরের গল্প, নাজিমের লেখা।
ডেমুর কল্যাণে একুশ বছর পরে ফিরে এলাম রিন্দুর কাছে।
চেরি, বেরি, স্টোবেরি খাওয়া সাদা মেম
ছয় বাচ্চা আমার কাঁধে রেখে চম্পট দিয়েছেন।
রিন্দু আর আমি ভালোই আছি রিন্দুর সংসারে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০২০ সকাল ৮:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×