somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ফারিহা হোসেন প্রভা
আসসালামলাইকুম। আমি ফারিহা হোসেন প্রভা,ঢাকা সবুজবাগ থেকে। ছোট বেলা থেকেই আমার ইচ্ছে ছিলো আমাদের দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার। দেশের নারীদের নিয়ে অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে আমার এবং আমার স্বপ্ন দেশের একজন স্বশিক্ষিত নেত্রী হওয়া।

শেষ ইচ্ছা : ১ম পর্ব

২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গার্লস স্কুলের পাশের টং দোকানগুলোতে বসে প্রায় দিনই চা-সিগারেট খায় সাইফ। একদিন,
-“এ মামা দু’টা বেনসন সিগারেট আর কড়া কইরা একটা চা দাওতো।”
বাড়টা বাজলো, ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো! মেয়েরা বের হচ্ছে স্কুল থেকে। পূরভীও বের হলো তার বান্ধবীর সঙ্গে। হঠাত সাইফের চোখ পরলো পূরভীর দিকে। বড় চুলের সেই লম্বা দুইটা ঝুঁটি। গাঢ় সবুজ রঙের স্কুল ড্রেসে সাদা রঙের একটি ওড়না গায়ে দেওয়া। সাইফের হাতে সিগারেট, পূরভীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সিগারেটের আগুনের তাপটি তার হাতে গিয়ে লাগলো টেরই পেলো না।
-আহ! ধেৎ!
-ও মামা এমনি যদি আপনি প্রতিদিন মাইয়াগোর দিকে চাইয়া থাকেন তাইলে এমনি কইরা প্রতিদিনই তো আপনার হাত পুড়বো আগুনের তাপে।
সাইফ সিগারেট ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো, দেখবে মেয়েটি কোথায় যায়। বাসায়ইতো যাবে, বাসাটা চিনে আসা যাক।
পূরভী একে একে তার বান্ধবীদের বিদায় দিয়ে তার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। পূরভীর পিছে সাইফ।
-ওমা! এতো দেখি আমগো এলাকার মেয়ে।
সাইফ দেখলো, সাইফদের বাসার পাশের গলিতেই মেয়েটির বাসা। সাইফতো বড্ড খুশি।
এভাবেই দিনের পর দিন পার হয় আর সাইফ প্রতিদিনই পূরভীকে ফলো করে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, পূরভী তা জানেই না। একদিন এলাকায় আড্ডারত অবস্থায় সাইফ তার বন্ধুদের মেয়েটির ব্যাপারে সব খুলে বলল,
-দোস্ত মেয়েটা আমাদের এলাকায়ই থাকে কিন্তু কিসে পড়ে বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি নাই কিছুই জানি না।
-আরে হোপ! এডি কি কস মামা? মাইয়া তোগো পাশের এলাকায় থাকে আর তুই এটাই জানোস না মাইয়া কিসে পড়ে! খবর লাগা মামা খবর লাগা।
সাইফ খবর লাগালো, হ্যা ঠিক তেমনিভাবে যেমনি করে সব ছেলেরাই খবর লাগায়। মেয়েটির নাম পূরভী। নাইনে পড়ে। কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই। এক বিকেলে সাইফ ও তার বন্ধুরা এক পার্কের সামনে বসে ছিলো। তখন হঠাত করেই সাইফ দেখলো পূরভীকে।
-দোস্ত ও দোস্ত, যা আজকে যা। একটু কথা বইলা আয়।
-না না না! আমার ভয় করে। যাইতে পারুম না। তোরা গিয়ে ক না একটু আমার কথা।
-শালা বিয়ের দিনও কি আমরা যাইয়া কবুল কইয়া আসুম তোর পক্ষ থেইক্কা? হুম?
-আরে যাইতাসি যাইতাসি। তোরা ধাক্কা দিস না।
সাইফ পূরভীর সামনে গিয়ে ডাক দিলো তাকে,
-এক্সকিউইজ মি!
-জি?
-আপনার নাম টা জানতে পারি?
পূরভী কিছু না বলে চুপ করে একটা হাসি দিয়ে চলে গেলো। আর সাইফ ওখানেই ফিদা!
কয়দিন পর পূরভীর স্কুলের সামনে,
-এই পিচ্ছি দাঁড়াও, তোমাকে না সেদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তোমার নাম কি। বললে না কেন?
পূরভী চুপ।
-কথা বলো না কেন? তুমি কি মনে করেছো তুমি তোমার নাম না বললে কি আমি জানতে পারবো না? তোমার নাম পূরভী, তুমি ক্লাস নাইনে পড়।
-জি আমাকে আর ডিস্টার্ব করবেন না।
সাইফ অনেক কষ্টে পূরভীর ফেসবুক আইডি খুজে বের করলো সেখানে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পূরভীকে ম্যাসেজ দিলো এবং শুধু তাই নয়, পূরভীর সঙ্গে বন্ধুত্বও করে ফেলেছে ধীরে ধীরে। বিকেল বেলা, বাহিরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। সাইফ পূরভীকে কল দিলো ম্যাসেঞ্জারে,
-বাহিরে তো অনেক বৃষ্টি, তুমি বের হবা না?
-আমি? এই বৃষ্টির মধ্যে আমি বের হয়ে কি করবো?
-কেন ভিজবে বৃষ্টিতে।
-না, আমার মা বের হতে দিবে না আমাকে।
-আচ্ছা বের না হও তবে তোমার বাসার বারান্দায়তো আসতে পারবা তাই না?
-বারান্দায় গেলে কি হবে?
-তোমায় দেখবো।
-আমায় দেখবা মানে?
-না মানে আমি বারান্দায় আসবো, তুমিও যদি আসো তাহলে মনে করবো আমরা একসঙ্গে আছি। আসবা প্লিজ?
পূরভী কিছুক্ষণ চিন্তা করলো, দেখছে ছেলেটির হাবভাব বেশি ভালো না। দু’দিন হলো পরিচয় ফেসবুকে আর তাতেই ফোণ দিয়ে এসব কথা!
পূরভী তাকে ম্যাসেজ দিয়ে বলল,
-আপনি আর কখনও আমাকে ম্যাসেজ বা কল করবেন না।
সাইফ বুঝলো এভাবে কাজ হবে না। তাকে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। সাইফ পূরভীর ফোণ নম্বর যোগার করে পূরভীকে কল করে সব বলল। তার ভালোবাসার কথা এবং তার দুষ্ট মিষ্টি ফেইক আইডি দিয়ে পূরভীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কথা। পূরভী দ্বিতীয় বারের মত এবারও না করে দিলো তাকে। তবু সাইফ পিছু হটেনি। পূরভীকে আপন করেই ছাড়বে। এভাবে দিনের পর দিন পার হতে লাগলো। পূরভী ক্লাস টেনে এখন।
-দেখো পূরভী, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি কেন তা বুঝনা? আমাকে কেন বুঝনা? তুমি খালি কি চোখে তোমার লাইফটাই দেখো? আমার কি কোনো লাইফ নাই? এভাবে দিনের পর দিন আমাকে নিস্তেজ করে দিচ্ছো তুমি, তা কি চোখে দেখো না? দেড় বছর আগে আমার এক্স গার্ল ফ্রেন্ড মারা গিয়েছিলো একটা কার এক্সিডেন্টে। এরপর চিন্তা করেছিলাম আর কখনো রিলেশন করবো না কিন্তু তোমায় দেখার পর বুঝলাম, না ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে। আল্লাহ্‌ আমাকে দ্বিতীয়বারের মত সুযোগ দিয়েছেন। প্লিজ পূরভী আমাকে বুঝ একটু।
-ছিঃ! গার্ল ফ্রেন্ড মরেছে মাত্র দেড় বছর তাতেই নতুন গার্ল ফ্রেন্ড বানাবার জন্যে উঠে পরে লেগেছে। তুমি কি হ্যা? আমার কিছু হয়ে গেলে তো তুমি আমার মৃত্যুর কয়দিন পরেই আবার ছুটবা নতুন গার্ল ফ্রেন্ডের সন্ধানে।
সাইফ অনেক বুঝাবার চেষ্টা করলো কিন্তু পূরভী কিছু তেই বুঝতে রাজি না। অবশ্য পূরভীও তার জায়গায় সঠিক।
কয়দিন পর সাইফ জানতে পারলো পূরভী রিলেশন করেছে। সাইফ জীবনে এত কষ্ট মনে হয় আর কখনোই পায়নি। এবার তো সাইফের রাগ চরম পর্যায়ে উঠেছে। রাগের মাথায় পূরভীকে ফোণ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি। পূরভীও ভীষণ রেগে গিয়ে সাইফের নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে দিয়ে দিলো।
সাইফ এখন কি করবে? সাইফ একটু পাগল টাইপের ছেলে ছিলো। পূরভীকে না পাওয়ার শোকে সে নিজের হাত কাটতে শুরু করলো, নিজের হাত কেটে পূরভীর নাম লিখে, ঘুমের ঔশুধ খেয়ে দিনের পর দিন পরে থাকে বিছানায়। সারাদিন মদ, গাঁজা, নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা শুরু করে দেয়। সারাদিন রাত সাইফের জীবন ধংস করার পথে সিগারেট এখন। সাইফের মা মারা যান সাইফ ছোট থাকতেই। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সৎ মা তেমন খোজ খবর নেয়না। তার আপন শুধু এখন তার বড় ভাই ও ভাবি। মনে হচ্ছে একটা সাধারণ গল্প তাইনা? হ্যা তবে কিছু গল্প থাকে না সাধারণের মাঝেও অসাধারণ? সেই গল্প এটি।
-বিগত তিনটি বছর ধরে পূরভীকে ভালোবেসে আসছি। কি পেলাম? অবহেলা অপমান ছাড়া আর কি? দোস্ত ও দোস্ত আমি পূরভীকে ভুলতে চাই। আমাকে হেল্প কর যেমনি পারোস।
-হো দোস্ত আমরা তো এডাই কইতাসি। পূরভীর মত মেয়ে তোর যোগ্য নারে। তোর জন্য বেস্ট কাওকে খুজে দিবো তোরে।
একের পর এক কয়েকটি মেয়ে আসলো, গেলো। কিন্তু সাইফ? না মন তো তার আঁটকে আছে পূরভীর দিকেই। বাঁচতে পারবেনা তাকে ছাড়া। সাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড পূরভীকে বুঝালো,
-দেখো ভাইয়া আমার দ্বারা সম্ভব না এই মদখোর গাঁজাখোরের সাথে সম্পর্ক করা।
-তুমি সম্পর্ক কেন করবা? সাইফের গ্রেজুয়েশন কমপ্লেট প্রায়। তোমরা বিয়ে করবা। সাইফ তোমাকে কি প্রেমের জন্য ভালোবাসে? নাকি সারাজীবনের জন্য?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:৫৭
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×