(১)
হোক তা রূপের হোক তা গুনের, যুবক ও যুবতীর ভালোবাসার জন্ম মুগ্ধতা থেকে । আর এ কারনেই প্রেমে পড়ার পর প্রেমিক প্রেমিকার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় তাদের প্রেমের সূচনা পর্বের সেই মুগ্ধতাটিকে অটুট রাখা কিংবা তাকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলা ।
এ উদ্দেশ্যে প্রেমিক প্রেমিকা নিজের যা কিছু সেরা, যা কিছু মনমুগ্ধকর, যা কিছু ব্যতিক্রম, যা কিছু মাধুর্য্যমন্ডিত তার সবটুকুকে অনন্য ভঙ্গিতে উপস্থাপন করে একে অন্যের মুগ্ধতার মাত্রাটিকে প্রবলতর করার অভিপ্রায়ে । পাশাপাশি নিজেদের যা কিছু অসুন্দর, কুৎসিত, অসংগত, অসম্পূর্ণ আর অপ্রিয় তার সবটুকুকে চোখের আড়ালে রাখার জন্য চালায় সযত্ন ও সতর্ক প্রয়াস ।
একে অন্যের চোখে প্রেমিক প্রেমিকা তাই অনন্য, অতুলনীয়, অসাধারন । জীবনের যাবতীয় সুখ, স্বপ্ন, আনন্দ, সৌন্দর্য্য, স্বস্তি ও পরিপূর্ণতার আধার ভাবতে শুরু করে তারা একে অন্যকে ।
কিন্তু মানব স্বভাবতো দোষ গুনের এক সমষ্টির নাম । প্রতিটি মানব প্রকৃতির যেমন রয়েছে আলোকিত দিক, তেমনি রয়েছে তার বিব্রতকর অন্ধকার দিক ।
বিয়ের পর প্রেমিক প্রেমিকা যখন এক ছাদের নীচে এক বিছানায় বসবাস শুরু করে তখনই শুরু হয় সকল বিপত্তি । এতদিনের পরিচিত অনন্য মানুষটির স্বভাবের অদেখা অন্ধকার দিকটি যখন উন্মোচিত হওয়া শুরু করে, তখনই পরস্পরের মুগ্ধতা পর্বের ইতি ঘটে । শুরু হয় মোহমুক্তির তিক্ত এক পর্ব ।
সম্পূর্ন অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার তীব্র ঝাঁকুনিতে তার কম্প্রমাইজের সহজাত মানসিকতাটি তখন ঝনঝন করে ভেঙে যায় । কখনো নিঃশব্দে কখনো সশব্দে বিস্ফোরিত হয় যন্ত্রনাবিদ্ধ এক বিস্ময়—
''ছিঃ, তুমি এমন, জানতাম নাতো !''
এ কারনেই প্রায় ক্ষেত্রে প্রেমের বিয়ে সুখের হয় না ।
(২)
পিতা-মাতার পছন্দ অনুযায়ী সম্পূর্ন অচেনা অজানা একজন মানুষকে জীবন সাথী করার ধারনাটি আধুনিক যুগে প্রায় অচল হতে বসেছে । এ ধরনের সম্ভাবনায় আঁৎকে উঠে আজকের তরুন তরুনীরা ।
তবুও নিজেদের স্বপ্ন, মর্যাদা, সামর্থ্য আর রুচির সংগে সন্তানের ভবিষ্যত সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যান চিন্তার সর্বোচ্চ সমন্বয় ঘটিয়ে পিতা-মাতারা তাদের ‘অবুঝ’ সন্তানদের জন্য জীবন সাথীর ব্যবস্থা করে থাকেন ।
এমনটি ঘটলে লাগামহীন কল্পনায় নিজের ভাবী জীবন সাথীর সম্ভাব্য চারিত্রিক দোষ ও গুন দর্শন তখন সন্তানকে ভীষন উদ্বেল করে তুলে । এক অনিশ্চিত আশা ও আশংকার দোলনায় দুলে যুগপৎ রোমাঞ্চ ও উদ্বেগে অস্থির প্রহর কাটে তার ।
দোষ ও গুনের মিশেল একটি রক্তমাংশের বাস্তব মানুষকে জীবনে পেয়ে কম্প্রমাইজের ভিত্তিতে সুখের এক সংসার গড়ে তোলার জন্য তার সমস্ত সত্ত্বা প্রস্তুত হতে থাকে তখন দৃঢ়ভাবে ।
সংসার শুরুর পর জীবনের নতুন মানুষটির চারিত্রিক গুন ও মাধুর্য্যগুলি প্রাপ্তির আনন্দ ও অহংকার হয়ে অন্তরে শোভা পায়, আর দোষগুলি বঞ্চনার কষ্ট ও দীর্ঘশ্বাস হয়ে একান্ত অবসরে হৃদয়ের চিমনী দিয়ে গোপনে বেরিয়ে যায় ।
কিন্তু সমস্ত দোষ ও গুন স্বীকার করে নিয়ে একে অন্যকে মেনে নেয় স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে । দোষগুলি কষ্ট সরবরাহ করে গেলেও গুনগুলি মুগ্ধতা পর্বের সূচনা করে তাদের মধ্যে । শুরু হয় টক ঝাল মিষ্টির দাম্পত্য জীবন ।
সে জীবনে সুখ দুঃখ হাতে হাত রেখে পাশাপাশি হাঁটতে থাকে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


