somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''জীবনে প্রথম কোন বন্ধুকে লেখা চিঠি

০১ লা আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আগষ্ট 1994, ঢাকা।

লাইসেন্স বিহীন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলছে 'সময়' নামক এক পাগলা ঘোড়া। জন্ম থেকে এযাবৎ সেই পাগলা ঘোড়ার পেছনেই ছুটে চলেছি অসীম সীমান্তে; ওপারে পেঁৗছলেই জানতে পারবো চির শান্তি কিংবা অনন্ত বেদনার ইতিহাস! তবে সময় নামক পাগলা ঘোড়ার লাগাম ধরতে, মানে খানিক থামানোর ব্যর্থ প্রয়াসে কেউ কোনদিন সফল হয়নি; আর হওয়ার ইচ্ছা পোষণও বিরাট নিবর্ুদ্ধিতা।

জীবনের এই দুর্গম সীমান্ত পথে দেখা হয় গুরুজন, বন্ধু, শত্রুকত, কখনো বা প্রেম। খুঁজে পাই আপন গুহায়, দুর্গম পাহাড়ী ঝর্ণাবহ নদীর কিনারে, পাহাড়ী ঢালু ঘেসো পথে, আধুনিক কোলাহলে, কলেজ ক্যাম্পাসে, একাডেমীর সঙ্গীতানুষ্ঠানে, পার্কের সি্নগ্ধ ছায়ায় কিংবা গতিশীল রেলের সম্মুখের সীটে।

প্রিয়,
মানজুর, সেই রাত বারোটা একত্রিশ মিনিটে আপনাকে বিদায় করে বলা কথাটাকেই মেনে নিতে হলো; মানে- 'বাকী পথটা আমাকে বড় নিঃসঙ্গতায় কাটাতে হবে', তা-ই মেনে নিলাম। ওহ্, শুভেচ্ছা কিন্তু এখনো জানানো হয়নি। শুভেচ্ছা রইল। জানিনা আমার এ অনেকটা উঁচু মানের নয়, এলোমেলো চিঠি আপনার সুচতুর চোখ কোন দৃষ্টিতে দেখবে, হৃদয় কিভাবে মেনে নেবে। তবে এটুকু জানি- উৎসুক মত পরবর্তী জানার ব্যাকুলতায় ইতি টানতে কৃপণতা করবে না। সেদিনকার সেই উক্তি মতই আমি যথাসময়ে ঢাকায় এসে পেঁৗছেছি। মন চাইলে থাকতে, কিন্তু দিল না; কে জানেন? সে এক পাষণ্ড- সময়! বড় নিষ্ঠুর এ সময়। প্রিয়জনদের খানিক আদর করতে কিংবা পেতে চাইলে সে শুধুই ব্যস্ততার কলিংবেল টেপে। ছুটে আসতে হয় রণক্ষেত্রে, জীবনযুদ্ধে। তাইতো সেদিন আপনাকে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষমান রাখতে পারিনি; মন চাইলেও। কথা দিয়েও চিঠিখানা সঠিক সময়ে পেঁৗছাতে পারিনি।

যাক, আর বিরক্ত করতে ইচ্ছুক নই। আপনার সহস্তে লিখিত চিঠি পেলে বুঝতে পারবো আমার এ গদ্য লেখার মূল্যায়ন এবং ক্ষনিক দেখায় ও বন্ধুত্বে আমার প্রতি আপনার আকর্ষণতার গভীরতা। তবে যাই হোক, সে যাবৎ আপনার চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত অটল দাঁড়কাক হয়েই থাকবো; শরীরগত নয় মনোগত দিক থেকে।

আপনার গুরুজনদিগের প্রতি আমার সবিনয়-সশ্রদ্ধ সালাম করবেন এবং ছোটদের অফুরন্ত স্নেহ-ভালবাসার অদৃশ্য মাল্য তুলে দেবেন। আজ তাহলে এখানেই থামলাম; সময়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারছি না।
ইতি-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×