আগষ্ট 1994, ঢাকা।
লাইসেন্স বিহীন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলছে 'সময়' নামক এক পাগলা ঘোড়া। জন্ম থেকে এযাবৎ সেই পাগলা ঘোড়ার পেছনেই ছুটে চলেছি অসীম সীমান্তে; ওপারে পেঁৗছলেই জানতে পারবো চির শান্তি কিংবা অনন্ত বেদনার ইতিহাস! তবে সময় নামক পাগলা ঘোড়ার লাগাম ধরতে, মানে খানিক থামানোর ব্যর্থ প্রয়াসে কেউ কোনদিন সফল হয়নি; আর হওয়ার ইচ্ছা পোষণও বিরাট নিবর্ুদ্ধিতা।
জীবনের এই দুর্গম সীমান্ত পথে দেখা হয় গুরুজন, বন্ধু, শত্রুকত, কখনো বা প্রেম। খুঁজে পাই আপন গুহায়, দুর্গম পাহাড়ী ঝর্ণাবহ নদীর কিনারে, পাহাড়ী ঢালু ঘেসো পথে, আধুনিক কোলাহলে, কলেজ ক্যাম্পাসে, একাডেমীর সঙ্গীতানুষ্ঠানে, পার্কের সি্নগ্ধ ছায়ায় কিংবা গতিশীল রেলের সম্মুখের সীটে।
প্রিয়,
মানজুর, সেই রাত বারোটা একত্রিশ মিনিটে আপনাকে বিদায় করে বলা কথাটাকেই মেনে নিতে হলো; মানে- 'বাকী পথটা আমাকে বড় নিঃসঙ্গতায় কাটাতে হবে', তা-ই মেনে নিলাম। ওহ্, শুভেচ্ছা কিন্তু এখনো জানানো হয়নি। শুভেচ্ছা রইল। জানিনা আমার এ অনেকটা উঁচু মানের নয়, এলোমেলো চিঠি আপনার সুচতুর চোখ কোন দৃষ্টিতে দেখবে, হৃদয় কিভাবে মেনে নেবে। তবে এটুকু জানি- উৎসুক মত পরবর্তী জানার ব্যাকুলতায় ইতি টানতে কৃপণতা করবে না। সেদিনকার সেই উক্তি মতই আমি যথাসময়ে ঢাকায় এসে পেঁৗছেছি। মন চাইলে থাকতে, কিন্তু দিল না; কে জানেন? সে এক পাষণ্ড- সময়! বড় নিষ্ঠুর এ সময়। প্রিয়জনদের খানিক আদর করতে কিংবা পেতে চাইলে সে শুধুই ব্যস্ততার কলিংবেল টেপে। ছুটে আসতে হয় রণক্ষেত্রে, জীবনযুদ্ধে। তাইতো সেদিন আপনাকে আর কিছুক্ষণ অপেক্ষমান রাখতে পারিনি; মন চাইলেও। কথা দিয়েও চিঠিখানা সঠিক সময়ে পেঁৗছাতে পারিনি।
যাক, আর বিরক্ত করতে ইচ্ছুক নই। আপনার সহস্তে লিখিত চিঠি পেলে বুঝতে পারবো আমার এ গদ্য লেখার মূল্যায়ন এবং ক্ষনিক দেখায় ও বন্ধুত্বে আমার প্রতি আপনার আকর্ষণতার গভীরতা। তবে যাই হোক, সে যাবৎ আপনার চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত অটল দাঁড়কাক হয়েই থাকবো; শরীরগত নয় মনোগত দিক থেকে।
আপনার গুরুজনদিগের প্রতি আমার সবিনয়-সশ্রদ্ধ সালাম করবেন এবং ছোটদের অফুরন্ত স্নেহ-ভালবাসার অদৃশ্য মাল্য তুলে দেবেন। আজ তাহলে এখানেই থামলাম; সময়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারছি না।
ইতি-
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



