somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১০)

০৩ রা মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । মানবতাবাদ; যার সবটুকুই ধারন করে করতে পেরেছে ইসলাম। শুধু ধারনই নয়, পূর্বাপর, আদি-অন্ত নিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ মিলিয়েই মানবতাবোধের বিশ্লেষণ করেছে ইসলাম; শুধুমাত্র দুনিয়াকেন্দ্রিক নয়। সাম্যবাদ চেয়েছিল ধনী-গরীবের ব্যবধান মিটিয়ে জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে, কিন্তু তার জন্য তারা বেছে নিয়েছে বন্দুকের নল। প্রতিটি বুকে কয়েক পৃথিবীর সমান আবেগ সৃষ্টির মাধ্যমে ভালবাসার যে ইমারত নির্মাণ করেছিল তার কর্মীবাহিনী, দূর্ভাগ্যজনকভাবে সেই ইমারতের ইটের নীচেই চাপা পড়ে নিঃশেষ হয়ে যেতে লাগল সর্বসাধারণের সাথে সাথে তারা নিজেরাও। আদর্শের প্রতি ভালবাসা তখন তাদের মধ্য থেকে পালিয়ে বাঁচলো। শ্রম-সাধনা যত উন্নতই হোক না কেন, তার ভিত্তি ভালবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত না থাকলে কোনদিনই তা চিরস্থায়ী তো নয়ই; দীর্ঘস্থায়ী হবারও যোগ্যতা রাখে না।

ইসলাম এখানে এসেই পরিপূর্ণ সফল, ইতিহাসে ফিরে গিয়ে একবার চিন্তা করে দেখুন, কি পরিমাণ ভালবাসা পোষণ করলে ইসলামের জন্য তার অনুসারীরা আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে, বাবার বিরুদ্ধে, চাচা-মামার বিরুদ্ধে, এমনকি আপন কলিজার টুকরা সন্তানের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ধারন করতে পারে? যার উদাহরণ পৃথিবীবাসী দেখেছে বদরের প্রান্তরে। ইসলামের জন্য লড়াইয়ের ময়দানের আহত মুজাহিদ মৃত্যুদূতের অপেক্ষায় চরম তৃষ্ণার্ত কণ্ঠেও মুখের কাছে পানি পেয়ে অপর আহত মুজাহিদের প্রতি তা বাড়িয়ে দিলেন, যাকে দিলেন তিনিও তদ্রূপ দেখে তৃতীয় জনকে পানের সুযোগ করে দিলেন; এভাবে ইসলামের অনুসারীগণ দুনিয়ার বুকে ভালবাসার এমনি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যে, অবশেষে তাদের কেউই পানির তৃষ্ণা নিবারণ করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারেননি বটে, কিন্তু ভালবাসার তৃষ্ণা নিবারণে তারা দুনিয়াতেই সফল হয়েছিলেন। মক্কা থেকে আগত মুহাজিরগণের প্রতি ভালবাসায় মদীনার আনসারগণের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। অন্য সকল দিককে পাশে রেখে শুধুমাত্র এই একটি দিক নিয়ে তুলনা করলেও সাম্যবাদের বিপরীতে ইসলাম চির অম্লান, সর্বযুগেই মানুষের অন্তরের ভালবাসার ভিত্তিতে সুপ্রতিষ্ঠিত। অত্যাচারী-যালেমেদের যে কোন ভয়ংকর নির্যাতন কখনোই মুমিন মনের এই ভালবাসার ভিত্তিকে স্পর্শ করতে পারেনি।

অপরদিকে ধনতন্ত্রের একচোখা দৈত্যনীতির বিপরীতে সম্পদের সুষ্ঠু বন্টনের মাধ্যমে উৎপাদন, কেনাবেচা ও সকল মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা দানে ভারসাম্যমূলক বিধান একমাত্র ইসলামী অর্থনীতিতেই বিদ্যমান রয়েছে। তাইতো ইসলাম জগদ্বাসীকে উপহার দিতে পেরেছিল ভিক্ষুকমুক্ত একটি সমাজ, সকল প্রয়োজন পূরণকৃত একটি সমাজ। কেননা, পূর্বেই বলেছি যে, একটা সময় ছিল যখন কেউ যাকাত আদায়ের জন্য দিনের পর দিন পথে অপেক্ষায় কাটাতে হত গ্রহীতার খোঁজে। আর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের, যা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যাবতীয় প্রয়োজন পূর্তির পরও এক বছর পর্যন্ত অপ্রয়োজনে জমা পড়ে থাকে। তার মানে হলো, যেহেতু যাকাত গ্রহণ করার মত কেউ ছিল না সে সমাজে, সেহেতু স্বাভাবিক জীবন ধারনের জন্য সকল প্রয়োজন পূর্ণ করতে সক্ষম ছিল সেই সমাজ ব্যবস্থাটি; যা ছিল একমাত্র ইসলামের অবদান। কারো নিকট অপ্রয়োজনে সম্পদের পর্বত একটার পর একটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে থাকবে আর জগতশ্রেষ্ঠ হয়েও কেউ অন্নের অভাবে সেসবেরই পাশ্বর্ের ডাস্টবিন খুঁজে বেড়াবে কুকুর-বিড়ালের সাথে; যা ধনতন্ত্রের অবদান। মানবতার জন্য এমনতর জঘন্য পর্যায়ের উত্তরণে সর্বযুগে একমাত্র ইসলামই পারে মানবজাতিকে সঠিক ও যুগোপযোগী দিকনির্দেশনা দান করতে।

অতএব, একথা সকলের মনে রাখা উচিত যে, সাম্যবাদ, ধনতন্ত্রের সাথে সাথে আরো যেসব বাচ্চা মতবাদ রয়েছে এবং এসবের মত করে ভবিষ্যত পৃথিবীতে যদি আরো কোন মতবাদের জন্ম হয়, তবুও তাদের সবার সাথে মোকাবেলা করে একমাত্র ইসলামই টিকে থাকার যোগ্যতা রাখে এবং টিকে থাকবেও ইনশাআল্লাহ্। কেননা, ন্যায় ও যোগ্যতর পন্থায় বিতরণ ও ব্যবহারেই উন্নতি, অঢেল উৎপাদনে নয়। ইসলামই সেই ন্যায়, সাম্য, সৌহার্দ, যোগ্যতা বিবেচনায় সঠিক ব্যবহারিক বিধান দাতা, যা কখনো পুরোনো হয় না; বরং যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন প্রায়োগিক বিধানের সমাবেশ ঘটায়। সুতরাং, নিঃসন্দেহ যে, সকল যুগের জন্য সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতির নাম- 'ইসলাম'।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা দিবসে, বাবা কে

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

বাবা,

আমি যখন তোমাকে এই চিঠিটা লিখছি,তখন থেকে ঠিক ছয় হাজার ছয়’শ বাইশ দিন আগে তুমি আমাকে একা করে চলে গেছো। সংখ্যাগুলি লিখতে যত সহজ, তার ভেতরে জমে থাকা শূন্যতাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি কিশোরীর অসমাপ্ত গল্প, নাকি আমাদের সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮

দৃশ্যটা যেন কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান ক্রাইম থ্রিলারের শুরু। চারদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। নির্জন জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলছে এক কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ। কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন নিচের অংশ মাটিতে পড়ে আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×