somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১১)

০৯ ই মে, ২০০৭ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । শ্রেণী বিশেষের বিরোধিতার কারণঃ ইসলামকে সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতি হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ ও তার বিরোধিতায় মুখরই নয়; বরং রীতিমত কোমর বেঁধে লেগে যাওয়া গোষ্ঠী মৌলিকভাবে তিন ভাগে বিভক্ত- কায়েমী স্বার্থবাদী, অপরাধী এবং না জেনে বিরোধিতাকারী। নিজেদের মধ্যে যত বিরোধই থাকুক না কেন, ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে এরা সকলেই এক ও অভিন্ন পর্যায়ে অবস্থান নেয়। এজন্য দেখা যায় যে, কোথাও ইসলামপন্থীদের সাথে এদের কোন একটি গোষ্ঠীর সংঘাত বাঁধলে লড়াকুরা তখন দু'টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে- ইসলামের পক্ষ শক্তি বনাম ইসলাম বিরোধী শক্তি। পাড়াগাঁয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝগড়া-বিবাদ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেখা যাবে এই একই চিত্র। তবে এতে মুমিনদের ভীত-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনই কারণ নেই, কেননা, তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জানাচ্ছেন যে, ((আপনি মনে করেন তারা ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু তাদের মনের মিল নেই; এটা এজন্যে যে, এরা এক নির্বোধ সমপ্রদায়।)) [সূরা আল-হাশরঃ ১৪]

কায়েমী স্বার্থ বলতে বুঝায়- কোন প্রতিষ্ঠিত শক্তি, ক্ষমতা, জাগতিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা অর্থ-সম্পদ ও যাবতীয় ভোগ্য উপায়-উপকরণ অর্জনের জন্য কারো নিয়ন্ত্রণাধীন উৎস ইত্যাদি। আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম প্রচারের গোপন অবস্থায় সর্বপ্রথমই বিরোধিতার স্বীকার হন মক্কার প্রতিষ্ঠিত নেতৃবৃন্দ, ধনাঢ্য ও প্রতাপশালী ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে। তারপর প্রকাশ্য প্রথম দাওয়াতে তার প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারেন তারই আপন চাচা আবু লাহাব; যে তৎকালীন মক্কার প্রথম শ্রেণীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে একজন ছিল। ঠিক একই মূল ধারাকে অক্ষুণ্ন রেখে বিরোধিতা করেছিল ইব্রাহীমের দাওয়াতে নমরূদ, মূসার দাওয়াতে ফির'আওন, ঈসার দাওয়াতে তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত রাজন্যবর্গ (নবীগণের প্রতি সালাম)। এখানেই চিন্তাশীলদের জন্য চিন্তার খোরাক যে, আল্লাহর নবীগণের বিরোধিতায় সর্বযুগেই রাজ্য বা রাষ্ট্রশক্তি কিংবা গোত্রশক্তিধরগণ কেন অগ্রণী ভূমিকা রাখে?

এর কারণ এ ছাড়া অন্য কিছু নয় যে, "আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা'বূদ নেই" -এই ঘোষণা শুনেই তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, তাদের কর্তৃত্ব-নেতৃত্ব খতম হতে চলেছে, তাদের ভ্রান্তি ও ভ্রান্তির প্রসারণ ঘটিয়ে গণমানুষের উপর অত্যাচার-যুলুমের দিন শেষ হয়ে এসেছে, কৃষক-শ্রমিকের ঘর্মাজিত উপার্জন-উৎপাদনে নিজেদের তৈরী স্বৈর-আইনের প্রক্রিয়ায় ফেলে আইনী ডাকাত হয়ে লুণ্ঠনের দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাই ক্ষমতা-সম্পদ-কর্তৃত্ব হারানোর ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে তারা অন্ধের মত বিরোধিতায় তৎপর ছিল সকল যুগেই। এদের কোন দ্বীন-ধর্ম থাকে না; অর্থ-প্রতিপত্তিই এদের মা'বূদ-দ্বীন-ধর্ম। সকল প্রতিষ্ঠিত শক্তির সাথে সাথে অন্যান্য ক্ষুদ্র-মাঝারী স্বার্থপূজারীরাও এতে শামিল রয়েছে, যেমন- অমুসলিম সাধারণের মধ্যে অর্থ-প্রাচুর্য লোভীরা, মুসলিম নামধারী মুনাফিক শ্রেণী ইত্যাদি।

কায়েমী স্বার্থবাদী শক্তি আজ ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকায় নেমেছে। তারা আজ ইসলামী আন্দোলনের নাম দিয়েছে 'সন্ত্রাসবাদ'; অথচ নিজেরাই সন্ত্রাসী তৈরী করে, প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাস করে, বোমা ফাটিয়ে, কখনো বা মুনাফেকদেরকে প্রচুর অর্থ ও ক্ষমতার লোভে ক্রয় করার মাধ্যমে এসব ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে ইসলামের ঘাড়ে। এমনকি পরবর্তীতে যখন তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের মুখোশ উন্মোচিত হয়, তখন মিথ্যা সংবাদ প্রচারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করার মত ক্ষুদ্র মানবিক ভদ্রতাবোধও তারা অনুভব করে না। কেননা, প্রচার মাধ্যমে, তথ্য-প্রযুক্তিতে, শক্তিতে তারা এখন অগ্রগামী; তাদেরকে বাধা দেয়ার মত কোন শক্তি বর্তমান নেই। যদি তেমন কোন শক্তি দুনিয়ার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তবে তা অবশ্যই ইসলামের মধ্য থেকেই দাঁড়াবে; ইসলামে বিশ্বাস না করলেও এই সত্যটিতে তারা পাক্কা ঈমানদার বা দৃঢ় বিশ্বাসী।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা দিবসে, বাবা কে

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

বাবা,

আমি যখন তোমাকে এই চিঠিটা লিখছি,তখন থেকে ঠিক ছয় হাজার ছয়’শ বাইশ দিন আগে তুমি আমাকে একা করে চলে গেছো। সংখ্যাগুলি লিখতে যত সহজ, তার ভেতরে জমে থাকা শূন্যতাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি কিশোরীর অসমাপ্ত গল্প, নাকি আমাদের সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮

দৃশ্যটা যেন কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান ক্রাইম থ্রিলারের শুরু। চারদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। নির্জন জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলছে এক কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ। কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন নিচের অংশ মাটিতে পড়ে আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×