somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

= ছোট্ট বেলার কথাঃ এক্কা-দোক্কা আর কানামাছি খেলা

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জন্মের পরপরই শুরু হয় আমাদের খেলাধুলার জীবন। আপন মনে দু'হাত আর দু'টি পা উপরে তুলে চলতে থাকে ছুঁড়োছুঁড়ি খেলা। যতক্ষণ না পেটের দুধটুকু ফুরিয়ে যায়, ততক্ষণ কি মজা করেই না চলতো আঙ্গুল খাওয়ার সাথে সাথে পৃথিবীকে দেখা আর হাতের কাছে পাওয়া জামার রশি ছেঁড়ার প্রয়াস। ক্ষুদা লাগলে কি আর খেলতে ভাল লাগে? জানানোর মত ভাষা যে তখনো রপ্ত হয়নি, কি আর করা, জুড়ে দাও চিৎকার ৎৎৎৎৎৎৎৎৎ।

দিন বদলের পালায় আর পালা বদলের হাওয়ায় হেলতে দুলতে যখন পুতুল খেলার দিন বরাবর এলাম, তখন নানাবাড়ীর চৌচালা কুঁড়ে ঘরের পিছনের ধুঁদুল, সীম আর টমেটোর গাছের ফাঁক ফোঁকরে ঝিঙ্গে ফুলও শোভা পেত। মেঝেখালা বেড়াতে এলেই পড়তো আনন্দের ধুম, মোট মিলিয়ে পিচ্ছিদের আদমশুমারীটা ভরে উঠতো তখন, সব পিচ্ছিরা মিলে মিছেমিছি রান্নাবান্নার কাজে সে কি ব্যস্তসময়। বড় মাকড়সার মত এক ধরনের পোকাকে আমাদের খুব ভাল লাগতো, ওরা চার কি ছয়টি হাতপা দিয়ে ব্যায়াম কিংবা নাচার এক ধরনের স্টাইলে বিরতিহীনভাবে লাফাতে থাকতো; পা কিন্তু মোটেই নড়তো না। আমরা ডাকতাম 'গান গাওয়া পোকা' যদিও কোনরূপ শব্দাবলী বেরুতা না, ওদেরকে অনেক যত্ন করে নিজের বলে পাহারা দিতাম। আর ছিল পান পাতার মত ক্ষুদ্রাকৃতির পাতা, যাকে আমরা বলতাম 'পিঠা গাছ', তা থেকেই আমাদের মেহমানদারী হয়ে যেত মিছেমিছি। বৃষ্টি আর বজ্রের সাথে পুকুরে দাপাদাপিটাও ছিল অদ্ভুত আনন্দের খেলা।

দেখতে দেখতে বেশ বড় হয়ে উঠেছিলাম। আহা, কি যে প্রিয় ছিল তখনকার খেজুরের বিচি দিয়ে দশটা গর্ত করে চালাচালি খেলা (আমরা বলতাম "খাজুরের গুডি খেলা"), এটা চলতো খেজুরের মৌসুমে শুধু। শীতের খেলাধুলার মধ্যে আরো ছিল ডান্ডা-গুলি, কানামাছি, বৌচি'র বৌদের সাথে আমরা 'জামাই'রাও খেলতাম, আরো ছিল কুতকুত, গোল্লাছুট, ফড়িং ধরা আর জোনাকী পোকা ধরে বোতলে ভরে প্রাকৃতিক টর্চ লাইট তৈরী, অবশ্য ঘুমোনোর আগে ডিম লাইট হিসেবেও দারুন কার্যকর ছিল; মন খারাপ হতো দু'একদিন পর তাদের ব্যাটারীর চার্জ চলে গেলে মানে ওরা মরে গেলে। বর্ষাটা ছিল খেলাধুলার জন্য খুবই অপ্রিয় মৌসুম। উঠোন জুড়ে কাদায় কাদায় গাদাগাদি, কিন্তু হলে কি হবে, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতাম তাৎক্ষণিক, পানি জমে উঠা ভিটেগুলোকে বানিয়ে ফেলতাম মাঠ আর হাওয়া থাকে না এমন টাইপ ফুটবল নিয়ে শুরু হতো আমাদের কাদার রাজ্যে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াই। কৌশল থোরাই কেয়ার করি, কে কত জোরে শর্ট-লাথি দিতে পারি বলে, সেটাই ছিল ভাল খেলোয়াড়ের পরিচয়।

এসব কিছুকে পাশ কাটিয়ে আজো মনের কোণে উঁকি দেয় সীমবীচি, চাউল, কুমড়ার দানা, হেলেন সীম (আঞ্চলিকতায় ডাকা, ভাল নাম জানা নেই) আর চাউলের গুঁড়া তৈরীতে অবশিষ্ট কণা চাউল দিয়ে বানানো 'বুদরা' পিঠা। সাথে জমতো ১০০/২০০ খেলা। তাসকে কেন যেন ছোট বেলা থেকেই অপছন্দ করতাম, তাই আজো শেখা হয়ে উঠেনি, আর শিখতেও চাই না। দাবায় ছিলাম এলাকা প্রসিদ্ধ দাবাড়ু। ক্রিকেটের কথা না হয় অন্য কখনোই বলি? সত্যিই ছোট্ট বেলার সেকথা, কখনো কি ভুলতে পারি?
= = = =

ছবির জন্য [link|http://photo.webbangladesh.com/gallery_big.php?image_id=592&k=0&gall_id=53&category_id=1&sub_cat_id=4|K
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ৯:২৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিল কেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২১


ঢাকার রাজপথে আজ এক নতুন কুশীলবের আবির্ভাব ঘটলো। নাম তার ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। এই নামের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্বের কথা দেশের আমজনতা না জানলেও, হঠাৎ এক রাতে তারা ‘অবৈধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যদি কামের কাম না হয়, সংখ্যা দেখলে বিগাড় ওঠে

লিখেছেন অপলক , ২০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২২



বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল বর্তমানে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট। এতেই রুগিরা সেবা পায়না, অপরিচ্ছন্ন, লোকবল নেই, যন্ত্রাংশ নষ্ট, ওষূধ নেই, ১৫০০ শষ্যাবিশিষ্ট করে লাভ কি? সেবা নিশ্চিত হবে না...

এখন ডাক্তাররা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×