যাদেরকে অতি সুখে ভূতে কিলায় তাদের জীবনটা বড়ই মধুমাখা। ভূত ওদের জন্যে সুখ বার্তা বহনের মহান দায়িত্ব পালন করে। ওরা শান্তিতে ঘুমায় আর সারা রাত ভূতের কিল খায়। ভূতের কিল খেয়ে সকালে দন্ত প্রদর্শনে ওদের লজ্জা হয় না। সারাদিন পেত্নীর হাত বগলদাবা করে ঘুরে বেড়ায়। রাতে আবার ও নিজেকে ভূতের কাছে সঁপে দেয় আনন্দ চিত্তে।
যাদের কাছে ভূত যায় না ওরা বড়ই দুঃখী। দুঃস্বপ্নের ভয়ে ওঁরা চোখের পাতা এক করতে পারে না। চোখে একটা অভাবী নেশা লেগে থাকে। মাথায় সবসময় চক্রাকারে ঘুরতে থাকে প্রিয়তম স্ত্রীর অপেক্ষারত চোখ,নিষ্পাপ বাচ্চা গুলোর কান্না-হাসি,বৃদ্ধ বাবার ওষুধ কেনার চিন্তা আর নিজের জন্যে একটা নিশ্চিন্ত আশ্রয়। এত চিন্তার মাঝে ভূত আসার সুযোগ নেই। ভূতের আশ্রয় ঐ উচুতলার মানুষ গুলো।
মাঝে মাঝে ভূতের কিল খাওয়ার শখ উদয় হয়। কিন্তু অমানুষে পরিণত হওয়ার ভয়ে সেই শখকে হত্যা করি। বেচে থাকার জন্যে কিলানো ভূতের চেয়ে মানুষ হওয়াটা বেশি দরকারি মনে হয়।
বেশিরভাগ 'মানুষ' আজ মাটিতে বাস করে। তাই 'মানুষ'দের রেখে উচুতলায় উঠতে আর ভূতের কিল খেতে ভাল লাগে না। ভূতের কিলে মরলে মরহুম হওয়া যায় আর মানুষ হয়ে মরলে অমর হওয়া যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



